জবাবদিহিতা, শিল্প পুনরুজ্জীবন, কর্মসংস্থান ও সৃজনশীল অর্থনীতি বাস্তবায়নে ডিজিটাল নজরদারির ওপর জোর

বাজেট বাস্তবায়নে ‘বাজেট ডেলিভারি ড্যাশবোর্ড’সহ পাঁচ প্রস্তাব এনডিএমের

২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে আরও কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও ফলপ্রসূ করতে উন্মুক্ত ডিজিটাল ‘বাজেট ডেলিভারি ড্যাশবোর্ড’ চালুসহ পাঁচটি প্রস্তাব দিয়েছে জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)। সংগঠনটির মতে, বাজেট বাস্তবায়নের অগ্রগতি জনগণের কাছে দৃশ্যমান হলে জবাবদিহিতা ও আস্থাও বাড়বে।

বাজেট বাস্তবায়নে ‘বাজেট ডেলিভারি ড্যাশবোর্ড’সহ পাঁচ প্রস্তাব এনডিএমের
২৬ জুন, ২০২৬ ২১:২৭  

জাতীয় বাজেটকে আরও কার্যকর, জবাবদিহিমূলক এবং ফলপ্রসূ করতে উন্মুক্ত ডিজিটাল ‘বাজেট ডেলিভারি ড্যাশবোর্ড’ চালুসহ পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছে জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)।

২৬ জুন, শুক্রবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে এক আলোচনা সভায় সংগঠনটি এসব সুপারিশ তুলে ধরে।

এনডিএমের পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকারের উচিত এমন একটি ডিজিটাল বাজেট ড্যাশবোর্ড চালু করা, যেখানে সাধারণ মানুষ সহজেই জানতে পারবেন—কত টাকা প্রণোদনা বিতরণ হয়েছে, কতটি শিল্পকারখানা পুনরায় চালু হয়েছে, কত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, কতজন নারী ও তরুণ উদ্যোক্তা ঋণ পেয়েছেন, এডিপির অগ্রগতি কোথায় এবং কোন প্রকল্পে ব্যয় বা সময় বেড়েছে।

সংগঠনটির নির্বাহী সদস্য মো. শাফায়েত হাসান বলেন, জনগণ যে বাজেটের বাস্তবায়ন অগ্রগতি দেখতে পারে, সেটিই প্রকৃত অর্থে জবাবদিহিমূলক বাজেট।

এনডিএমের অন্য চারটি প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে—শিল্প পুনরুজ্জীবন টাস্কফোর্স গঠন, প্রণোদনা প্যাকেজে সুশাসন নিশ্চিত করা, সৃজনশীল অর্থনীতি বাস্তবায়ন ইউনিট গঠন এবং প্রতিটি সরকারি ব্যয়ের সঙ্গে কর্মসংস্থানের হিসাব সংযুক্ত করা।

শাফায়েত হাসান বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক, ব্যবসায়ী সংগঠন ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি সমন্বিত টাস্কফোর্স গঠন করা যেতে পারে, যা সম্ভাবনাময় কিন্তু বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরুজ্জীবনে কাজ করবে।

সভায় বক্তারা প্রণোদনা তহবিল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, সরকারি সহায়তা যেন রাজনৈতিক প্রভাব বা অপব্যবহারের শিকার না হয়, সে জন্য স্বাধীন মূল্যায়ন ও কার্যকর তদারকি প্রয়োজন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন বক্তা বলেন, বাজেটের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে বাস্তবায়নের ওপর। বরাদ্দ বা ঘোষণা নয়—সুশাসন, উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবন, দক্ষতা ও জবাবদিহিতাই দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভিত্তি তৈরি করে।

সভায় উপস্থিত বিভিন্ন আলোচক প্রস্তাবিত বাজেটকে সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক উল্লেখ করলেও বাস্তবায়নে কার্যকর সমন্বয়, নৈতিকতা এবং সুশাসনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

//ডিবিটেক/আরবি/এমআই//