সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিএসসিএল-এর আয়-ব্যয় এবং অপারেটরদের বকেয়া রাজস্বের তথ্য প্রকাশ

৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ এর মুনাফা ১৬৪ কোটি টাকা, মোবাইল অপারেটরদের কাছে বকেয়া ১৩,৩৪৪ কোটি

বিগত ৫টি অর্থবছরে ‘বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১’ এর বাণিজ্যিক ব্যবহার থেকে ১৬৩.৯৭ কোটি টাকা নিট মুনাফা হয়েছে। বিপরীতে দেশের চারটি মোবাইল অপারেটরের কাছে সরকারের বকেয়া রাজস্বের পরিমাণ ১৩,৩৪৪ কোটি টাকা।

৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ এর মুনাফা ১৬৪ কোটি টাকা, মোবাইল অপারেটরদের কাছে বকেয়া ১৩,৩৪৪ কোটি
২৪ জুন, ২০২৬ ২৩:৩৮  

দেশের প্রথম উপগ্রহ ‘বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১’ এর বাণিজ্যিক ব্যবহারের মাধ্যমে গত ৫টি অর্থবছরে সর্বমোট ৭৬৪.১০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় এবং ১৬৩.৯৭ কোটি টাকা নিট মুনাফা হয়েছে।

২৪ জুন, বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ)-এর লিখিত প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানানো হয়।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৮৪.২৫ কোটি, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৮৫.২৯ কোটি, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২৯.৬৪ কোটি এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩৮.৩৬ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জিত হয়। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে সম্পত্তি হস্তান্তর ও অবচয়মূল্য হিসাবভুক্ত করার কারণে কাগজে-কলমে ৭৩.৫৭ কোটি টাকা নিট লোকসান হয়েছিল। ‘বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-২’ উৎক্ষেপণ প্রকল্প প্রসঙ্গে জানানো হয়, এটি মূলত একটি ‘আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট’ হিসেবে কাজ করবে এবং বর্তমানে এর অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা যাচাইয়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) চলমান রয়েছে।

​এদিকে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমানের অন্য এক প্রশ্নের জবাবে জানানো হয়, দেশের চারটি মোবাইলফোন অপারেটরের কাছে সরকারের মোট বকেয়া রাজস্বের পরিমাণ ১৩ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা। লাইসেন্স ফি, রেভিনিউ শেয়ারিং, স্পেকট্রাম ফি এবং অডিট আপত্তির কারণে এই বকেয়া জমেছে। বকেয়ার তালিকায় সবচেয়ে শীর্ষে রয়েছে গ্রামীণফোন, যাদের কাছে পাওনা ৬ হাজার ১০২ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বকেয়া রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটকের কাছে ৫ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা। এছাড়া রবি আজিয়াটার কাছে ৬১৫ কোটি এবং বাংলালিংকের কাছে ৪৭৩ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। এসব বকেয়া রাজস্বের বড় একটি অংশ নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকায় আদায় প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ডাক, টেলিযোগাযোগ, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জর্জিয়া এবং তথ্য মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন চীন  সফরে থাকায় উত্তরগুলো পঠিত হিসেবে গণ্য হয়ে বাজেট আলোচনায় অংশ নেন সংসদ সদস্যরা। ২৪ জুন জাতীয় সংসদে বৈঠকে লিখিত উত্তরদানের জন্য প্রশ্ন উত্তর বইয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রশ্নটি মূলত ১৪ জুন তারিখের জন্য নির্ধারিত ছিল। 
​//ডিবিটেক/এমএআর/আইএইচ//