ফলোআপঃ
ডব্লিউটিও সম্মেলনে ই-কমার্স ইস্যুতে ভারত-মার্কিন দ্বন্দ্বে অচলাবস্থা
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন ক্যামেরুনের ইয়াউন্দেতে শেষ দিনেও অচলাবস্থায় পড়ে আছে। তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলন শেষ হলো ২৯ মার্চ, রবিবার। শনিবার এই আলোচনায় ৬৬টি দেশ একমত হলেও হলেও ই-কমার্স শুল্ক স্থগিত রাখা ও সংস্থার সংস্কার নিয়ে মতবিরোধ থাকায় এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি বলে খবর দিয়েছে রয়টার্স।
খবরে বলা হয়, ১৯৯৮ সাল থেকে প্রতি দুই বছর অন্তর বাড়ানো ই-কমার্স শুল্ক স্থগিত রাখার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি কেন্দ্রীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারত দুই বছর মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে জানিয়েছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুধু স্থায়ী সমাধান চায়। ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, অস্থায়ী মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে ওয়াশিংটন আগ্রহী নয়।
পশ্চিমা এক কূটনীতিক জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ‘স্থায়িত্বের পথ’ হিসেবে ১০ বছর মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হতে পারে। আরেকজন জানান, পাঁচ থেকে ১০ বছরের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। তবে বেশিরভাগ সদস্য দেশ দুই বছরের বেশি মেয়াদে সম্মত হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আমেরিকার ডব্লিউটিও দূত জোসেফ বারলুন বলেছেন, স্থায়ীভাবে এই স্থগিতাদেশ বাড়ালে ডব্লিউটিওতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণভাবে যুক্ত থাকতে’ আগ্রহী হবে। এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক জানিয়েছেন, মেয়াদ না বাড়লে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তা ডব্লিউটিওর ওপর চাপ প্রয়োগের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
সম্মেলনে সংস্কার ইস্যুতেও বিভক্তি দেখা দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিযোগ, চীন বর্তমান নিয়মের সুযোগ নিয়ে তাদের ক্ষতি করছে। সংস্কারের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা বিরোধিতার মুখে পড়েছে। এছাড়া উন্নয়নশীল দেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর একটি চুক্তি ডব্লিউটিওর নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করতে ভারত বাধা দিচ্ছে। তাদের যুক্তি, বহুপাক্ষিক চুক্তি সংস্থার ভিত্তি নীতি ক্ষুণ্ন করে।
ডিবিটেক/বিএমটি/ইকে



