স্পেসএক্সের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী রকেট ‘স্টারশিপ ভি৩’ উৎক্ষেপিত
মহাকাশ গবেষণায় নতুন ইতিহাস তৈরি করে নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং শক্তিশালী রকেট ‘স্টারশিপ ভি৩’ (ভার্সন ৩)-এর সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে মার্কিন প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা চাঁদে নভোচারী পাঠানোর জন্য এই পুনর্ব্যবহারযোগ্য মেগা রকেটের নতুন সংস্করণের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে।
টেক্সাসের বোকা চিকা উপকূলে অবস্থিত স্পেসএক্সের ‘স্টারবেস’ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে স্থানীয় সময় শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে রকেটটি প্রথম ফ্লাইটের উদ্দেশ্যে আকাশে ওড়ে। কারিগরি ত্রুটির কারণে আগের দিনের একটি প্রচেষ্টা স্থগিত হওয়ার পর এই সফল উৎক্ষেপণ করা হলো।
ভি৩ সংস্করণে কী কী পরিবর্তন?
১২৪ মিটার (৪০৭ ফুট) উচ্চতার এই নতুন মডেলটি স্পেসএক্সের আগের স্টারশিপ রকেটগুলোর চেয়েও লম্বা এবং এর ইঞ্জিনের ধাক্কা দেওয়ার ক্ষমতা অনেক বেশি। স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের স্বপ্নের এই প্রজেক্টের ১২তম পরীক্ষামূলক ফ্লাইট ছিল এটি। তবে নতুন জেনারেশনের এই ‘ভি৩’ সংস্করণের জন্য এটিই ছিল প্রথম মহাকাশ যাত্রা।
ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দিক থেকে এই সংস্করণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর ডিরেকশন কন্ট্রোল করার জন্য আগের চেয়ে বড় ও শক্তিশালী গ্রিড ফিন ব্যবহার করা হয়েছে। রকেটের মূল ৩৩টি ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহের জন্য যুক্ত করা হয়েছে স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটের সমান বিশাল এক ফুয়েল পাইপলাইন। এছাড়া রকেটটিতে আরও বেশি ক্যামেরা, শক্তিশালী নেভিগেশন কম্পিউটার এবং ভবিষ্যতে চাঁদে নোঙর করার জন্য বিশেষ ডকিং কোন যুক্ত করা হয়েছে।
কোনো রকেট উদ্ধার করা হয়নি
স্টারশিপ মূলত এমনভাবে তৈরি যেন এর বুস্টার এবং ক্রাফট—দুই অংশই ল্যান্ডিংয়ের পর আবার ব্যবহার করা যায়। তবে নতুন ডিজাইনের এই প্রথম ‘শেডাউন’ বা পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে কোনো অংশই ল্যান্ডিং প্যাডে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা ছিল না।
উৎক্ষেপণের প্রায় ৭ মিনিট পর রকেটের প্রথম স্তর বা ‘সুপার হেভি বুস্টার’ মেক্সিকো উপসাগরে আছড়ে পড়ে। অন্যদিকে, মূল মহাকাশযানটি পৃথিবীর কক্ষপথ ঘুরে প্রায় এক ঘণ্টার যাত্রা শেষে ভারত মহাসাগরে সফলভাবে অবতরণ করে।এবারের ফ্লাইটে রকেটটি ২০টি কৃত্রিম উপগ্রহের ডামি (সিমুলেটর) মহাকাশে সফলভাবে অবমুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
নাসার চন্দ্রাভিযান ও স্পেসএক্সের আইপিও
নাসার বহুল প্রতীক্ষিত ‘আর্টেমিস’ মিশনের জন্য স্পেসএক্সের এই রকেটের সফলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চাঁদের মাটিতে নভোচারী নামাতে নাসার এই স্টারশিপের ওপরই ভরসা করছে। একই সাথে এই সফল উৎক্ষেপণ বাণিজ্যিক মহাকাশ খাতের বাজারকেও নাড়া দিয়েছে। মাত্র দুদিন আগেই ইলন মাস্ক স্পেসএক্সকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে শেয়ার বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের কাছে এই সফল ফ্লাইটটি ছিল সবচেয়ে বড় ইতিবাচক সংকেত।
মহাকাশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভারত মহাসাগরে মহাকাশযানটির সফল অবতরণ প্রমাণ করে যে রকেটের থার্মাল প্রোটেকশন সিস্টেম বা তাপ নিরোধক ঢাল আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে। আগামী দিনে মানুষকে মঙ্গলে নিয়ে যাওয়ার যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ইলন মাস্ক করছেন, স্টারশিপ ভি৩-এর এই সফল উড্ডয়ন সেই স্বপ্নকে আরও একধাপ এগিয়ে দিল।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র : অনলাইন



