টেলিকম নেটওয়ার্ক নীতিমালার কয়েকটি ধারার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রুল
‘টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক অ্যান্ড লাইসেন্সিং পলিসি, ২০২৫’-এর ৯ ধারার বৈধতা প্রশ্নে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রুলে চার সপ্তাহের মধ্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য যোগাযোগ সচিব, আইন মন্ত্রণালয় সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান ও ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের উপ সচিবকে (কোম্পানি-১) এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
১৭ মে, রবিবার জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন –এর একটি বেঞ্চ।
জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের শুনানি করে রোববার বিচারপতি হাবিবুল গণি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সানা উল্লাহ নুর।
রুলে ২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর গেজেট করা ‘টেলিকমউনিকেশন নেটওয়ার্ক অ্যান্ড লাইসেন্সিং পলিসি,২০২৫’ সালের ৭.২.৬,৭.২.১১.১, ৭.২.১১.২, ৭.৭.১.২, ৭.৭.১১, ৭.৭.১২.১, ৭.৭.১২.২ এবং ১১.১ ধারা কেন সংবিধান বিরোধী হবে না- তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।
রিট আবেদনে বলা হয়, দেশের বর্তমান বহু-স্তরীয় লাইসেন্সিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশে ইন্টারনেট খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং ডিজিটাল সেবার বিস্তার ঘটেছে। তবে নতুন ‘টেলিকমিউনিকেশনস নেটওয়ার্ক অ্যান্ড লাইসেন্সিং পলিসি, ২০২৫’ সেই বিদ্যমান কাঠামোকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, নতুন নীতিমালায় বিদেশি কোম্পানি ও মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা দেশীয় অবকাঠামোভিত্তিক কোম্পানিগুলোর জন্য বৈষম্যমূলক। এর ফলে স্থানীয় উদ্যোক্তারা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন এবং কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রিটকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার সানা উল্লাহ নুর গণমাধ্যমে বলেছেন, ‘বর্তমানে সাশ্রয়ী মূল্যে ডিজিটাল সেবা পাওয়া মানুষের জীবন ও জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে বাজারে প্রতিযোগিতা কমে যেতে পারে এবং ইন্টারনেট সেবার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান ও অর্থনৈতিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টেলিযোগাযোগ খাতের লাইসেন্সিং কাঠামো ও নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনায় এই নীতিমালা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। ফলে এর বিভিন্ন ধারার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ খাতসংশ্লিষ্টদের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ডিবিটেক/এসআই/এনই





