ডব্লিউটিওতে প্রথম বৈশ্বিক ডিজিটাল বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর
বিরোধিতা পাশ কাটিয়ে বিশ্বের প্রথম ডিজিটাল বাণিজ্য নিয়ম চালু করতে ডব্লিউটিও সদস্যরা। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল বাণিজ্য নিয়মকানুন চালু করার পথে বড় অগ্রগতি অর্জিত হলো ক্যামেরুনে অনুষ্ঠিত ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে। বৈঠকে নিজেদের মধ্যে ডিজিটাল বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর করতে সম্মত হয়েছে ৬৬টি সদস্য দেশ। অবশ্য ডব্লিউটিওর পূর্ণাঙ্গ নিয়মটি পুস্তকে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি এখনও আটকে আছে।
ডব্লিউটিও’র বরাত দিয়ে ২৮ মার্চ, শনিবার এই তথ্য দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
মূলত ভারতের আপত্তির কারণে গত কয়েক বছরে ই-কমার্স চুক্তিকে ডব্লিউটিওর নিয়মে যুক্ত করার চেষ্টা দু’বার ব্যর্থ হয়। ভারত বলছে, এ ধরনের চুক্তি কেবল সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হলে বৈধ হবে। তবে এবার অংশগ্রহণকারী দেশগুলো, যারা বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ৭০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে, সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা বাধা এড়িয়ে নিজেদের মধ্যে চুক্তি চালু করবে।
জাপানের অর্থনীতি ও শিল্প বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়ামাদা কেনজি একে “ঐতিহাসিক পদক্ষেপ” বলে আখ্যায়িত করেছেন। যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও বাণিজ্য সচিব পিটার কাইলও বলেছেন, এটি বিশ্বজুড়ে ব্যবসার জন্য বাণিজ্যকে আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো এই চুক্তিতে যোগ দেয়নি, বিষয়টি তাদের প্রশাসনে পর্যালোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে ভারত শুধু ডিজিটাল বাণিজ্য নয়, উন্নয়নশীল দেশগুলোর বিনিয়োগ বাড়াতে প্রস্তাবিত আরেকটি বহুপাক্ষিক চুক্তিও আটকে রেখেছে।
এক ইউরোপীয় কূটনীতিকের ভাষায়, এই চুক্তি ভারতের প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা যে, যদি কোনো দেশ সংস্কার বা অগ্রগতিকে আটকে রাখতে সম্মতির নিয়ম ব্যবহার করে, তাহলে অন্যরা নিজেদের মতো এগিয়ে যাবে।
ক্যামেরুনে চলমান বৈঠকে ভারত আরও একটি বহুপাক্ষিক চুক্তি আটকে রেখেছে। চুক্তিটি উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে প্রস্তাবিত। আন্তর্জাতিক ফ্যাসিলিটেশন ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট নামের ওই উদ্যোগে ভারত আশঙ্কা করছে, এতে তাদের দরকষাকষির ক্ষমতা কমে যেতে পারে। ফলে ডিজিটাল বাণিজ্য ও বিনিয়োগ—দুই ক্ষেত্রেই ভারতের অবস্থান বর্তমানে বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
কার্যত এই চুক্তিটি এসেছে আলাদা একটি ই-কমার্স মোরাটোরিয়াম থেকে। এই চুক্তিতে ডিজিটাল ডাউনলোড ও স্ট্রিমিংয়ে শুল্ক আরোপ নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। সেটি নিয়েও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে অচলাবস্থা চলছে।
বাংলাদেশি প্রযুক্তি ও ব্যবসা মহলের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বৈশ্বিক ডিজিটাল বাণিজ্যের নিয়মকানুন কার্যকর হলে অনলাইন লেনদেন আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ ও প্রতিযোগিতামূলক হবে।
সেই লক্ষ্যেই বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে একটি দল ক্যামেরুনে অনুষ্ঠিত ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে (এমসি-১৪) বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে। সেখানে উন্নত দেশগুলোর মূলনীতি অক্ষুণ্ন রেখে সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
ডিবিটেক/এসএমইএইচ/এমইউএম



