অতীত যেন ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে বিঘ্ন সৃষ্টির কারণ না হয়ঃ প্রধানমন্ত্রী

অতীত  যেন ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে বিঘ্ন সৃষ্টির কারণ না হয়ঃ প্রধানমন্ত্রী
২৭ মার্চ, ২০২৬ ১৮:৩০  

আলোচনা-সমালোচনা ও গবেষণার নামে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবকে খাটো না করার পাশাপাশি অতীত  যেন ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে বিঘ্ন সৃষ্টির কারণ না হয় সে বিষয়ে সাজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, 

আমি সাধারণত কোনো ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ আলোচনা করতে গেলে আমার একটি প্রবাদ বাক্যের কথা মনে পড়ে এবং প্রায়শঃই সেটি আমি আমার বক্তব্যে উল্লেখও করে থাকি। সেটি হলো, 'অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ"...আর “অতীতকে ভুলে গেলে দুই চোখই অন্ধ”। গত ১৭ বছরে অতীত নিয়ে এত নড়াচড়া হয়েছে যে এতে দেশের মূল ইতিহাস ঢাকা পড়ে গেছে। সুতরাং অতীতকে একদমই ভুলে থাকলে যেমন চলবেনা, আবার অতীত নিয়ে পড়ে থাকতে গিয়ে সেটি যেন আমাদের ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে বিঘ্ন সৃষ্টির কারণ না হয়ে দাঁড়ায়।

২৭ মার্চ, শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অনিবার্য চরিত্র জিয়াউর রহমান। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম স্বাধীনতার গৌরবগাঁথা নিয়ে আলোচনা হবে, গবেষণা হবে। কিন্তু আলোচনা বা গবেষণার নামে এমন কিছু বলা ঠিক হবে না যেটা আমাদের স্বাধীনতার মূল ইতিহাসকে খাটো করতে পারে। 

তিনি বলেন, আমাদের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধ কোনো দলের ছিলোনা। এটি ছিল 'জনযুদ্ধ' ।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা এবং এর প্রেক্ষাপট বিষয়ে তরুণ প্রজন্মের দৃষ্টি আকর্ষণ করে  তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অনিবার্য চরিত্র।  তিনি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে হয়তো বেড়ে উঠেননি, তিনি একজন সামসৈনিক ছিলেন এবং তিনি একটি স্বাধীন দেশের স্বপ্ন লালন করতেন। সচেতনভাবেই তিনি স্বাধীনতার চিন্তা চেতনা ধারণ করতেন। তিনি কিন্তু হঠাৎ করেই স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি। এর জন্য তার দীর্ঘ মানসিক প্রস্তুতি ছিল, তিনি ছিলেন শুধুমাত্র অপেক্ষায়। শহীদ জিয়া সম্পর্কে আমি যে কথাগুলো বললাম এগুলো আমার নিজের কথা নয় কিংবা নিজের মনগড়া বিশ্লেষণ নয়। স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার নিজের লেখা 'একটি জাতির জন্ম' শীর্ষক নিবন্ধটি এর বড় প্রমান।

তিনি আরও বলেন, আমাদের আকাঙ্খা সীমাহীন হলেও সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমাদের 'সাধ এবং সাধ্যে'র মধ্যে ফারাক থাকলেও আমি বিশ্বাস করি,  আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাই তাহলে স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা অসম্ভব নয়। সেই লক্ষ্য পূরণের জন্যই  বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষকে টার্গেট করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খালখনন সহ বিভিন্নরকম কর্মসূচী বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। জনগণের জীবন মানোন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

আমাদের এবারের স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার হোক, 'সমাজের একটি অংশ নয় আমরা সবাই মিলে ভালো থাকবো' আমরা সবাই মিলে ভালো থাকার চেষ্টা করবো এবং ভালো থাকবো ইনশাআল্লাহ।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই দলীয় প্রথম জনসমাবেশে বক্তব্য দিলেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিকেল তিনটের পর এই আলোচনা সভা শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সভাপতির বক্তব্যে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার বক্তব্যে বলেন, ‘দীর্ঘ ১৮ বছর অনেক লড়াই সংগ্রাম হয়েছে, বিএনপি লড়াই চালিয়ে গেছে, মাথানত করে নাই। নতুন করে এক বাংলাদেশ নির্মাণের স্বপ্ন দেখছে প্রধানমন্ত্রী। তার নেতৃত্বেই বিনির্মিত হবে নতুন বাংলাদেশ।’ 

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরে আবারও স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যারা পাকিস্তানী হানাদারদের সহযোগিতা করেছে, যারা দেশের মা বোনদের সম্ভ্রম হানিতে সহযোগীতা করেছে— সেই অপশক্তি আবার নানা ষড়যন্ত্র করছে।’ এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে বলেও জানান তিনি।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

সভায় বিএনপি ও এর অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 

ডিবিটেক/ডিএইচই/এমইউএম