দেশসেরা ঢাবি,গাকৃবি ও বুয়েট
যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিশ্বের উচ্চশিক্ষা বিশ্লেষণকারী র্যাঙ্কিং প্রতিষ্ঠান কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডস (কিউএস) প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি সাবজেক্ট র্যাঙ্কিং ২০২৬’ প্রকাশিত হয়েছে। র্যাংকিংয়ে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) দেশের মধ্যে এবং ৫০০-৬০০ ব্যান্ডে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে। বুয়েট, জাস্ট, রুয়েট, নর্থ সাউথ ও ড্যাফোডিল যৌথভাবে ৬০১-৮০০ ব্যান্ডে রয়েছে। প্রকৌশল ও প্রযুক্তি (Engineering & Technology) বিষয়ভিত্তিক ক্যাটাগরিতে বুয়েট বিশ্বব্যাপী ২৮২তম স্থান অর্জন করেছে, যা দেশের মধ্যে অন্যতম শীর্ষ অবস্থান। আর কুয়েট, চুয়েট, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, এআইইউবি রয়েছে ৮০১-১০০০ ব্যান্ডে। একইভাবে ১০০১-১২৫০ ব্যান্ডে রয়েছে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)। অবশ্য কৃষি ও লাইফ সায়েন্সে দেশের শীর্ষস্থান ধরে রেখে তৃতীয় বছরের মতো অবস্থানে অক্ষুণ্ণ রেখেছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
কিউএস তাদের ওয়েবসাইটে ২৫ মার্চ, বুধবার এ তথ্য প্রকাশ করেছে। র্যাঙ্কিংয়ে আলাদা দুটি ক্যাটাগরি করা হয়েছে। প্রথমত-প্রধান বিষয় (broad subject), যেখানে পাঁচটি ক্যাটাগরি রয়েছে। দ্বিতীয়ত-নির্দিষ্ট বিষয় (narrow subject), যেখানে ৫৫টি ক্যাটাগরি রয়েছে। ব্রড সাবজেক্টে ৫টির মধ্যে তিনটিতে স্থান হয়েছে বাংলাদেশের ৩টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের।
এরমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একাধিক; মোট ৩টি ক্যাটাগরিতে এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় একটি করে ক্যাটাগরিতে তালিকায় স্থান পেয়েছে। ফলে ব্রড সাবজেক্ট এরিয়ায় দেশসেরা বিশ্ববিদ্যালয় ঢাবি। এবারেরর র্যাঙ্কিংয়ে ৫৫টি নির্দিষ্ট বিষয় রয়েছে। এরমধ্যেও এগিয়ে রয়েছে ঢাবি। মোট ১০টি নির্দিষ্ট বিষয় ক্যাটাগরিতে এবারের র্যাঙ্কিংয়ে স্থান হয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়টির।
এছাড়া আরও ৭টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান হয়েছে নির্দিষ্ট বিষয় ক্যাটাগরিতে। ঢাবির পর স্থান হয়েছে-বুয়েটের ৭টি, নর্থ সাউথের ৫টি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ৪টি। এছাড়া ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় একটি করে বিষয় নিয়ে নির্দিষ্ট বিষয় ক্যাটাগরি র্যাঙ্কিংয়ে স্থান হয়েছে।
র্যাংকিং অনুযায়ী, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং টেকনোলজির ব্রড সাবজেক্টের অধীনে নির্দিষ্ট বিষয় Computer Science and Information Systems-এ বুয়েট ৪৫১-৫০০, ড্যাফোডিল ৫০১-৫৫০, নর্থ সাউথ ও ঢাবি ৫৫১-৬০০ ও এআইইউবি ৬৫১-৭০০তম এরমধ্যে রয়েছে। আর Electrical and Electronic Engineering-এ বুয়েট ৩০১-৩৫০, নর্থ সাউথ ৪০১-৪৫০, ঢাবি ৫০১-৫৫০; Engineering-Petroleum-এ বুয়েট ১০১-১৫০ ও চুয়েট ১৫১-১৭৫তম এরমধ্যে রয়েছে। তাছাড়া Mechanical, Aeronautical & Manufacturing Engineering-এ বুয়েট ৩৫১-৪০০তম এরমধ্যে ও ঢাবি ৫০১-৫৭৫তম এরমধ্যে রয়েছে।
কিউএস বলছে, এ বছরের র্যাঙ্কিংটি এখন পর্যন্ত তাদের সবচেয়ে বড় আয়োজন, যেখানে বিশ্বের নানা দেশের ১ হাজার ৯০০-এরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩০০-এরও বেশি প্রতিষ্ঠান প্রথমবারের মতো স্থান পেয়েছে। গত বছরের তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ায় উন্নতি করা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাংশ সর্বোচ্চ, অন্যদিকে পূর্ব এশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি নতুন প্রতিষ্ঠান যুক্ত হয়েছে।
র্যাংকিংয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ১০টি বিভাগ স্থান পেয়েছে। এটি বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ অর্জন।গতবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি বিভাগ র্যাঙ্কিংয়ে স্থান পেয়েছিল।
কিউএস বিষয়ভিত্তিক র্যাঙ্কিং প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের ব্রড সাবজেক্ট র্যাঙ্কিংয়ের মধ্যে সোশ্যাল সাইন্স ও ম্যানেজমেন্ট ক্যাটাগরিতে বৈশ্বিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ৩৭১তম। যা বাংলাদেশে প্রথম। এ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত একাউন্টিং অ্যান্ড ফিন্যান্স বিভাগ বৈশ্বিকভাবে ৩০১ থেকে ৩৭৫তমর মধ্যে; ইকোনমিক অ্যান্ড ইকোনমেট্রিকস বিভাগ ৩০১ থেকে ৩৫০তমর মধ্যে এবং বিজনেস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ ৪০১ থেকে ৪৫০-এর মধ্যে অবস্থান করছে।
ন্যাচারাল সাইন্স ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ থেকে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান হয়েছে। র্যাঙ্কিংয়ে বৈশ্বিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ৫০১ থেকে ৫৫০-এর মধ্যে। এই ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত রসায়ন বিভাগ ৫৫১ থেকে ৬০০-এর মধ্যে; পরিবেশ বিজ্ঞান ৪০১ থেকে ৪৫০-এর মধ্যে; পদার্থবিদ্যা ও জ্যোতির্বিদ্যায় ৫০১ থেকে ৫৫০-এর মধ্যে অবস্থান করছে।
লাইফ সাইন্স ও মেডিসিনের ব্রড সাবজেক্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান হয়নি। তবে এ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত জীববিজ্ঞান বিভাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ৬৫১ থেকে ৭০০-এর মধ্যে অবস্থান করছে।
ইঞ্জিনিয়ারিং এবং টেকনোলজি ক্যাটাগরিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ৩৬৪তম। এ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ ৫৫১ থেকে ৬০০-এর মধ্যে; ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ৫০১ থেকে ৫৫০-এর মধ্যে; মেকানিক্যাল, অ্যারোনেটিক্যাল এবং ম্যানুফ্যাকচারিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ৫০১ থেকে ৫৭৫-এর মধ্যে অবস্থান করছে।
এদিকে ‘কৃষি ও বনায়ন’ (এগ্রিকালচার অ্যান্ড ফরেস্ট্রি) ক্যাটাগরিতে বিশ্বের শীর্ষ প্রভাবশালী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে প্রথমবারের মতো ৪০১-৪৭৫তম স্থান অর্জন করেছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি)। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। এর আগে কিউএস সাসটেইনেবিলিটি র্যাঙ্কিংয়ে গাকৃবির অবস্থান ছিল বিশ্বের ১০৭১-১০৮০-এর মধ্যে। এই র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের ১০০টি উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার অধীনে ১ হাজার ৯০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানের ২১ হাজারেরও বেশি একাডেমিক প্রোগ্রামকে ৫৫টি বিষয় ও পাঁচটি অনুষদের (ফ্যাকাল্টি) ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
পূর্বে প্রকাশিত কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি সাসটেইনেবিলিটি র্যাঙ্কিংয়েও গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সকল কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছিল। একই সঙ্গে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে তৃতীয় এবং সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে পঞ্চম স্থান অধিকার করে প্রতিষ্ঠানটি অনন্য গৌরবের স্বাক্ষর রেখেছিল।
গাকৃবির ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অংশ হিসেবে টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই) ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং ২০২৬-এ দেশের সকল পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি প্রথম স্থান অর্জন করেছে। একই সঙ্গে টিএইচই-এর সাবজেক্ট র্যাঙ্কিং ২০২৬-এ 'লাইফ সায়েন্স' ক্যাটাগরিতেও দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে গাকৃবি শীর্ষস্থান দখল করে।
এছাড়া টিএইচই ইমপ্যাক্ট র্যাঙ্কিং ২০২৫-এ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে গাকৃবি শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। অন্যদিকে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংস ফর ইনোভেশন (উরি)-এর ২০২৫ সালের র্যাঙ্কিংয়ে ‘গ্লোবাল টপ ইনোভেটিভ ইউনিভার্সিটিজ’ ক্যাটাগরিতে গাকৃবি দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করে। র্যাঙ্কিংয়ের একই তালিকায় প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে বিশ্বের শীর্ষ ১০০ প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গাকৃবির অবস্থান ৭৭তম এবং বৈশ্বিক শীর্ষ ৪০০ ইনোভেটিভ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় অবস্থান ৩৩১তম, যা জাতীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ সাফল্য।
ডিবিটেক/এমএআর/ইকে



