প্রযুক্তিনির্ভর সেবা ও ডিজিটাল শাসনে নতুন উদ্যোগ

বর্জ্য থেকে ৪২.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ, উৎপাদন শুরু ২০২৮ সালে, আসছে অ্যাপ ‘ক্লিন কেয়ার’

সরকার প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণে একাধিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, ডিজিটাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে ডিজিটাল পরিবেশ এবং সাংবিধানিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় আধুনিক ব্যবস্থার ব্যবহার—এসব উদ্যোগ সরকারের প্রযুক্তিনির্ভর সেবা উন্নয়নের অংশ।

বর্জ্য থেকে ৪২.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ, উৎপাদন শুরু ২০২৮ সালে, আসছে অ্যাপ ‘ক্লিন কেয়ার’
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:৪৮  

প্রযুক্তিনির্ভর জনসেবা, নগর ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও আধুনিক করার লক্ষ্যে সরকার একাধিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, ডিজিটাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে ডিজিটাল পরিবেশ এবং সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর প্রক্রিয়ার বিষয়গুলো সরকারের চলমান কর্মপরিকল্পনার অংশ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

১৪ জুলাই, মঙ্গলবার তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ঢাকা শহরের প্রতিদিনের প্রায় তিন হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প ২০২৮ সালের আগস্টের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পটি আগামী ২৫ বছর বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে। এ লক্ষ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আমিনবাজার ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাতুয়াইল এলাকায় বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আমিনবাজার প্রকল্পে বিনিয়োগ করবে চীনের সিএমইসি গ্রুপ।

তিনি জানান, নগর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে প্রযুক্তিনির্ভর করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ক্লিন কেয়ার নামে একটি ডিজিটাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা চালু করেছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে নগরবাসী পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত অভিযোগ সরাসরি জানাতে পারবেন এবং সেবার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাবেন।

ব্রিফিংয়ে তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তৃত ব্যবহারের বর্তমান বাস্তবতায় আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করা সবার দায়িত্ব। শেখ হাসিনার বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং আদালতের আদেশ। এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে কেউ দ্বিমত পোষণ করলে আদালতে আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকার বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি দেশে ফিরে এলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া চলবে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দেশি-বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের সুযোগও থাকবে।

সংবিধান সংশোধন নিয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক পরিবর্তন আনা সম্ভব। গণভোট, উচ্চকক্ষ গঠন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতামত—এসব বিষয় সংসদীয় আলোচনার মাধ্যমেই চূড়ান্ত হবে। বিরোধী দলকে সংসদীয় কমিটিতে অংশ নিয়ে তাদের প্রস্তাব উপস্থাপনের আহ্বানও জানান তিনি।

ব্রিফিংয়ে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
//ডিবিটেক/এমআই/এসএমই//