বিটিআরসিতে শেষ মুহূর্তে পদোন্নতি, বাদ পড়ল ১১তম ও ১০ম গ্রেড

বিটিআরসিতে শেষ মুহূর্তে পদোন্নতি, বাদ পড়ল ১১তম ও ১০ম গ্রেড
১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৪০  
১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:১৬  

শেষ সময়ে পদোন্নতির দেখা পেলেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কমিশনের সর্বশেষ ৩০৪তম কমিশন বৈঠকেঅনুমোদনের পর ১০ ফেব্রুয়ারি পদোন্নতির চিঠি দেয়া হয়। তিনটি পৃথক চিঠিতে কমিশনের বিভিন্ন পদে ২৫ জন এবং ১০ম ও তদনিম্ন গ্রেডে ১১ জন কর্মচারিকে পদোন্নতি দেয়া হয়। তবে এই তালিকায় ১১তম থেকে ১০ম গ্রেডে এবং ১০ম থেকে ৯ম গ্রেডে কোনো পদোন্নতি হয়নি। এই দুইটি গ্রেডকে বঞ্চিত করে কার্যত পদোন্নতি দেয়া হয়েছে ৯ম থেকে ষষ্ঠ গ্রেডে।  

প্রাপ্ত উপাত্ত ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ, গত ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত কমিশন বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দশম ও তার নিচের পদে পদোন্নতির জন্য অফিস আদেশে যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন- অর্থ ও রাজস্ব বিভাগের হিসাব রক্ষক থেকে ব্যক্তিগত সহকারী পদে বেগম তাসলিমা আক্তার; পাম্প ও লিফট অপারেটর থেকে অফিস সহকাররি পদে মোঃ সোহেল রানা, রেকর্ড  কিপার পদে মোঃ আফজাল হোসেন; অফিস ও প্রশাসনিক সহকারি পদে মোঃ ওবাইদুর রহমান, মোঃ হাসিবুল হাসান; অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে শেখ ইকবাল বাহার, অনিমেষ চক্রবর্তী, পলাশ চন্দ্র রায়, শোভন মুখার্জী; ডেসপাস রাইডা পদে মোঃ আক্কাছ আলী ও মোঃ সোহান সরদার। 

সূত্রমতে, পদোন্নতির সুপারিশের অনুমোদন প্রাপ্ত ৯ম ও তদুর্ধ্ব গ্রেডের মধ্যে শুন্যপদের বিপরীতে সহকারি পরিচালক, উপ-পরিচালক এবং পরিচালকের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১১১ জনের মধ্যে গত ৩ জানুয়ারি ১০৪ জনকে যোগ্য হিসেবে তালিকাভূক্ত করা হয়এরপর ৫টি শুন্য পদে পদোন্নতিযোগ্য বিবেচনায় নেয়া হয় ১৭ জন কর্মকর্তাকে। এদের মধ্যে ১২জন কারিগরি ক্যাটাগরির।

জানাগেছে, পদোন্নতিযোগ্য এই কর্মকর্তাদের গত ৩ ফেব্রুয়ারি উপ-পরিচালকদের পদোন্নতির জন্য একটি বৈঠক হয়। পদোন্নতি কমিটির সদস্য সচিব, কমিশনার ও ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ আবু বকর সিদ্দিকের নেতৃত্বে কমিশনের মহাপরিচালক মেহেদী উল-সহিদ, অর্থবিভাগের যুগ্ম সচিব বেগম নূর জাহান খানম, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের যুগ্ম সচিব যুগ্ম সচিব মোঃ সফিউল আলম এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব এম রায়হান আক্তারের অংশগ্রহণে সেই বৈঠকে যে সকল কর্মকর্তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অডিট আপত্তি আছে তাদের পদোন্নতি দেয়া যৌক্তিক নয় বলে মত দেয়া হয়। একইসঙ্গে অডিট নিষ্পত্তিকৃত কর্মকর্তাদের পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করা হবে কি না সে বিষয়ে মতপার্থক্য থাকায় ৫টি শুন্য পদের বিপরীতে জ্যেষ্ঠতার তালিকার প্রথম ৫জনকেই বিচেনায় নেয়ার সুপারিশ করা হয়। এদের মধ্যে অধ্যয়ন ছুটিতে থাকা উপ-পরিচালক জিয়ান শাহ কবিরকে পদোন্নতির সুপারিশ করা হয়। আর লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগের উপ-পরিচালক সাবিনা ইসলাম, প্রশাসন বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ দেলোয়ার হোসোন, সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিস বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ রাইসুল ইসলাম ও ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের উপ-পরিচালক ড. শামসুজ্জোহাকে পদোন্নতির জন্য অডিট নিষ্পত্তি সাপেক্ষে বিবেচনা করা যেতে পারে বলে মত দেয়া হয়।  

 অপরদিকে ৫ উপপরিচালক পদে পদোন্নতিযোগ্য ছিলে- সাধারণ ক্যাটাগরিতে ১০ জন। কারিগরিতে ১৪ জন এবং আইন ক্যাটাগরিতে ৪ জন। পদোন্নতির সভায় সুপারিশপ্রাপ্ত এই ২৮জন কর্মকর্তার মধ্যে ছিলেন-ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ফিরুজ মিয়া; অর্থ, হিসাব ও রাজস্বের মোঃ আব্দুস শাহীদ চৌধুরী, প্রশাসনের সেলিনা পরভীন এবং লিগ্যাল এর মোঃ আমান উল্লাহ ও মোঃ মাহবুবুর রহমান। 

এছাড়াও গত ৫ ফেব্রুয়ারি সিনিয়র সহকারী পরিচালক এবং সহকারী পরিচালক পদে পদোন্নতি নিয়ে আরেকটি বৈঠক হয়। বৈঠকে ৫ বছরের চাকরী মেয়াদ পূর্ণ করে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মোট ২১ জন কর্মকর্তাকে সিনিয়র সহকারি পরিচালক ও উপ-সহকারি পরিচালক পদে ১৭ জন উত্তীর্ণের পদোন্নতির বিষয়ে আলোচনা হয়। ওই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে প্রশাসন শাখার মোঃ শামছুল আলম ও মোঃ কাউছার আহমদ বাদে ১৯ জনকে পদোন্নতির সুপারিশ করা হয়। পরে এই ১৯ জনসহ বিভিন্ন পদে মোট২৫ জনের পদোন্নতি অনুমোদন দেয় কমিশন

বিটিআরসি মহাপরিচালক মোঃ মেহেদী উল-সহিদ স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ অনুযায়ী, সিনিয়র সহকারি পরিচালক থেকে ইঅ্যান্ডআই বিভাগের মোহাম্মদ ফিরুজ মিয়া; অর্থ-হিসাব ও রাজস্ব শাখার মোঃ আব্দুস সাহিদ চৌধুরী; প্রশাসন শাখার সেলিনা পারভীন; লিগ্যাল শাখার মোঃ আমান উল্লাহ এবং মোঃ মাহবুবুর রহমান উপ-পরিচালক পদে উন্নীত হয়েছেন

তবে এদের মধ্যে ফিরুজ মিয়াকে বাদ দিয়ে বাকিদের বিষয়ে গত ১০ ফেব্রুয়ারি পদোন্নতির অফিস আদেশ দেয়া হলেও পদোন্নতির অনুমোদন প্রাপ্তদের মধ্যে অধ্যয়নের ছুটিতে থাকা জিয়ান শাহ কবির কাজে যোগ দেয়ার সময়েই উপ-পরিচালক থেকে পরিচালক হবেন বলে কমিশন বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে

এছাড়াও একই দিনে জারি হওয়া অপর একটি অফিস আদেশে সহকারি থেকে সিনিয়র সহকারি পরিচালক হতে সবুজ সঙ্কেত পেয়েছেন এসএম শাখার শান্ত কুমার দাশ, ইএন্ডও শাখার মোঃ কামরুল হাসান হিরু, নেছার আহমেদ, মোঃ আকরামুল হক; এসএম শাখার নাজনীন সুলতানা; ইঅ্যান্ডও শাখার মোঃ দিদারুল ইসলাম, এলএল শাখার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম; আইন শাখার মাহমুদা নাসরিন ও রাকিবুল ইসলাম; এসএম শাখার ইয়াসমিন সুলতানা; এসএস শাখার তৌফিুকুল ইসলাম; আইন শাখার নাদিয়া ইসলামঅর্থ-হিসাব ও রাজস্ব শাখার মোঃ মোশায়েল উল ইসলাম; আইন শাখার মোঃ আশরাফুজ্জামান জাহেদ; মোঃ আমানত আলী ও তুষার বেপারী; এসএম শাখার সুমাইয়া রহমান, মোঃ মিন্টু প্রাং ও মোঃ মেহেদী হাসান।    

এই পদোন্নতির বিরোধীতা করে এরইমধ্যে বিটিআরসি চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী বরারব লেখা ‘অবৈধ নিয়োগকারীদের পদোন্নতি না দেয়ার’ শিরোনামের আবেদনে ৯ ব্যক্তির অযোগ্যাতার কথা তুলে ধার হয়েছে। তাদের অযোগ্যতার মধ্যে শিক্ষাজীবনে তৃতীয় বিভাগ থাকা, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়া নিয়োগ, সনদের মান সহ বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। 

ডিবিটেক/এসএইচ/এমআই