১১ দলীয় ঐক্য: মোবাইল, ইন্টারনেট ও লাইভ কভারেজ নিয়ে ইসির নির্দেশনা স্পষ্ট করার আহ্বান
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের নির্দেশনাকে ‘বিস্ময়কর’ ও ‘হুট করে নেওয়া সিদ্ধান্ত’ আখ্যা দিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি এমন সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। জোট নেতারা বলেছেন, এ ধরনের আকস্মিক নির্দেশনা নির্বাচনি পরিবেশে অস্থিরতা ও উদ্বেগ তৈরি করে এবং ইসির বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করে।
৯ ফেব্রুয়ারি, সোমবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এসব কথা জানান জোট নেতারা। এর আগে রোববার ইসি রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠানো নির্দেশনায় জানানো হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন বহন নিষিদ্ধ থাকবে, তবে নির্দিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ফোন ব্যবহার করতে পারবেন।
এই নির্দেশনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, রাজনৈতিক দল ও সাংবাদিক সংগঠনের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যে ইসি সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহার করেছে বলে জানান জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, জনগণ ও বিভিন্ন মহলের চাপের মুখেই ইসি পিছু হটেছে।
জুবায়ের ইসির নির্দেশনা আরও স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের কাজের সুযোগ, ভোটকেন্দ্রের বাইরে লাইভ সম্প্রচার এবং ইন্টারনেট বন্ধ বা গতি কমানো নিয়ে যেন কোনো অস্পষ্টতা না থাকে। তিনি বলেন, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর রাখতে এসব বিষয়ে আগেভাগেই জাতির সামনে পরিষ্কার অবস্থান নেওয়া জরুরি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, নির্বাচনের আগে মোবাইল ফোন বা ইন্টারনেট নিয়ে যেন আর কোনো ‘সারপ্রাইজড’ সিদ্ধান্ত না আসে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনিক রদবদলে একটি দলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে এবং কিছু পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন।
এ সময় তিনি আরও বলেন, বিএনসিসি সদস্যদের ভোটকেন্দ্রে মোতায়েনের বিষয়ে ইসির অবস্থান এখনো অস্পষ্ট। জোটের পক্ষ থেকে বিএনসিসি মোতায়েনের পক্ষে জোরালো দাবি জানানো হয়েছে, কারণ অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী এবারের নির্বাচনকে আরও সুশৃঙ্খল করতে সহায়ক হবে বলে তারা মনে করেন।
১১ দলীয় জোট নেতারা বলেন, নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এ অবস্থায় নতুন ও হঠাৎ সিদ্ধান্ত না নিয়ে ইসিকে দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে, যাতে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও প্রশ্নমুক্ত হয়।
ডিবিটেক/এসএইচ/এমইউএম



