শিল্পখাতে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় উন্নত এনার্জি স্টোরেজ আনল হুয়াওয়ে
বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা আরও দক্ষ ও টেকসই করতে উন্নত সোলার এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম সিরিজ উন্মোচন করেছে হুয়াওয়ে। উদ্যোক্তা, প্রকৌশলী এবং বিভিন্ন শীর্ষ শিল্প সংগঠনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ৩০ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার রাজধানীর রেডিসন ব্লু ঢাকায় জমকালো আয়োজনে এই সিরিজটি উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি প্রেক্ষাপটে শিল্পখাতে উৎপাদন ব্যয় ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় হুয়াওয়ের নতুন ‘লুনা২০০০’ সিরিজকে একটি কার্যকর সমাধান হিসেবে দাবি করা হয়।
জানানো হয়েছে,. এই সিরিজের ব্যাটারি স্থানীয় বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ডিজাইন করা হয়েছে। এই এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস) শিল্পকারখানার জন্য উচ্চ দক্ষতা, নিরাপত্তা এবং নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি করবে। ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনায় দেখানো হয়েছে, নতুন বিইএসএস সিস্টেমে ‘প্যাক অপ্টিমাইজার’ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ব্যাটারির শতভাগ শক্তি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়। এছাড়া ‘অ্যাক্টিভ ব্যালেন্সিং মডিউল’ ব্যাটারির স্থায়িত্ব ও কর্মক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে এবং স্মার্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হুয়াওয়ে সাউথ এশিয়া অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশে সিইও জেসন উ, ডিজিটাল পাওয়ার বিভাগের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের কমার্শিয়াল, ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যান্ড রেসিডেনশিয়াল বিজনেস বিভাগের প্রেসিডেন্ট হে লেই, সাউথ এশিয়া ডিজিটাল পাওয়ারের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইউ জিয়ানলং এবং ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-এর সেন্টার ফর এনার্জি রিসার্চের পরিচালক মো. শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী।
জেসন উ বলেন, টেকসই উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তুলতে বাংলাদেশে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ছে। হুয়াওয়ের ডিজিটাল পাওয়ার সমাধানের মাধ্যমে ইতোমধ্যে দেশে ৪৩০ মিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘন্টার বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে সহায়তা করা হয়েছে এবং প্রায় দুই লাখ টনের বেশি কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব হয়েছে।
ইউ জিয়ানলং জানান, নতুন এই সিস্টেমে উন্নত নিরাপত্তা নিশ্চিতে ‘সেল-টু-কনজাম্পশন ডুয়াল-লিংক সেফটি আর্কিটেকচার’ ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি হাইব্রিড কুলিং প্রযুক্তির মাধ্যমে ৯১ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত রাউন্ড-ট্রিপ দক্ষতা অর্জন সম্ভব, যা শিল্পখাতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের কার্যকারিতা বাড়াবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা হয়। এতে শিল্পখাতে টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়। বক্তারা মনে করেন, এ ধরনের উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং শিল্পখাতের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
ডিবিটেক/এসআই/এমইউএম



