মোবাইল অপারেটররা ভোক্তা অধিদপ্তরের চেয়েও শক্তিশালী: ক্যাব

মোবাইল অপারেটররা ভোক্তা অধিদপ্তরের চেয়েও শক্তিশালী: ক্যাব
১৭ মে, ২০২৬ ১৩:০৪  

বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মোবাইল অপারেটরদের বিরুদ্ধে গ্রাহক স্বার্থবিরোধী কার্যক্রম, উচ্চ ভ্যাট, দুর্বল সেবার মান এবং নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন বক্তারা।

১৭ মে, রবিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে গিয়ে শেষ হয়। পরে সংগঠনের কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক থাকাকালে মোবাইল অপারেটরদের বিরুদ্ধে গ্রাহক অভিযোগ নিয়ে একাধিক মামলা করা হলেও পরে অপারেটরগুলো হাইকোর্টে রিট করে অধিদপ্তরের কার্যক্রম স্থগিত করিয়ে নেয়। তিনি বলেন, “ভোক্তা অধিদপ্তরের চাইতেও মোবাইল অপারেটররা বেশি শক্তিশালী।”

তিনি অভিযোগ করেন, গ্রাহকদের কেনা ডাটা প্যাকেজ থেকে অস্বচ্ছ উপায়ে অর্থ কেটে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মোবাইল সেবায় উচ্চ হারে ভ্যাট আদায় হলেও সেই অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে, সে বিষয়ে স্বচ্ছতা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সাবেক পরিচালক খালিদ হোসেন নাছের বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতে প্রতিযোগিতা আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না। একটি বেসরকারি অপারেটরকে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ায় বাজারে ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। এছাড়া আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহীন হোসেন প্রিন্স বলেন, ডাটা প্যাকেজের নামে “নৈরাজ্য” বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা ও নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় সরকারকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বাসদের সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা গেলে বাংলাদেশ আরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ডিজিটাল সংযোগ এখন বিলাসিতা নয়, এটি নাগরিক জীবনের “ডিজিটাল লাইফলাইন”। তিনি বলেন, গ্রাহক হয়রানি, অস্বচ্ছ বিলিং, দুর্বল নেটওয়ার্ক, উচ্চমূল্যের ইন্টারনেট এবং জরুরি পরিস্থিতিতে নেটওয়ার্ক অস্থিতিশীলতা এখনও বড় সমস্যা হয়ে রয়েছে।

তিনি গ্রাহকবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, সাশ্রয়ী ইন্টারনেট, দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ-সহনশীল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের ভাইস প্রেসিডেন্ট সামিউল ইসলাম, বাংলাদেশ মোবাইল ফোন রিচার্জ ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমনুল ইসলাম বুলু, সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাহিদা বেগম ও কেন্দ্রীয় সদস্য মাহফুজসহ অন্যান্যরা।

ডিবিটেক/এমআই/ইকে