নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তিতে জোরের আহ্বান

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তিতে জোরের আহ্বান
২০ মে, ২০২৬ ২১:৪৪  

বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে, উৎপাদন সক্ষমতাও বেড়েছে। কিন্তু প্রয়োজন অনুযায়ী পূর্ণমাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। কারণ, বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জ্বালানির সংকট। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উচ্চ উৎপাদন ব্যয়, আমদানিনির্ভরতা এবং বাড়তে থাকা সরকারি ভর্তুকি। বিদ্যুৎ খাতের এই সীমাবদ্ধতা কাটাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা।


রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (আইইবি) সদর দপ্তরে ২০ মে. বুধবার সন্ধ্যায় আয়োজিত ‘Power Sector Constraints & Affordable Solutions’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। আইইবির তড়িৎকৌশল বিভাগের উদ্যোগে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।


সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ (রুফটপ সোলার), কৃষিজমি, সরকারি খাসজমি ও অনাবাদি জমি ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।


প্রতিমন্ত্রী বলেন, নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে কাজ চলছে। শুধু সরকারের উদ্যোগে নয়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এ খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হবে। পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, জ্বালানি সাশ্রয় ও দূষণ কমাতে দেশে বৈদ্যুতিক যানবাহন আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত যানবাহন ধীরে ধীরে ইলেকট্রিক ভেহিকেলে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।


সেমিনারে বিশেষ অতিথি ও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেন বলেন, দেশের জ্বালানি খাতের প্রধান সমস্যা এখন ফুয়েলের সংকট। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারেও বাংলাদেশ এখনও অনেক পিছিয়ে।


তিনি বলেন, সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। পাশাপাশি অলাভজনক ও অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন কিংবা পর্যায়ক্রমে বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। জ্বালানি আমদানি ও ট্যারিফ নির্ধারণে কার্যকর দর-কষাকষির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।


পরিকল্পনা কমিশনের জেনারেল ইকোনমিকস ডিভিশনের (জিইডি) সদস্য (সচিব) ড. মনজুর হোসেন বলেন, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানির অভাবে তা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। পর্যাপ্ত ফুয়েল সরবরাহ না থাকায় অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ ক্ষমতায় চালানো সম্ভব হচ্ছে না।


তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তিসহ বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। এতে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে।


স্বাগত বক্তব্যে আইইবির সম্মানী সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা খান বলেন, বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় অতীতে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হলেও এগুলো পরিচালনায় বিপুল ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের ব্যয় দেশের অর্থনীতির জন্য চাপ তৈরি করছে।


তিনি বলেন, গ্যাসভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমতে পারে। তবে সৌরবিদ্যুতের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ জমির সংকট। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে বৃহৎ পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে জায়গার সীমাবদ্ধতা রয়েছে।


মূল প্রবন্ধে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম মহিউদ্দিন আজমী বলেন, বিদ্যুৎ খাতে উন্নয়ন হলেও আমদানিনির্ভর জ্বালানি, উচ্চ উৎপাদন ব্যয় এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


তিনি বলেন, রুফটপ সোলার, সৌরপার্ক, কৃষিজমিতে সোলার প্যানেল স্থাপন এবং সরকারি খাসজমি ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো গেলে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে।


সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আইইবির তড়িৎকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোতাহার হোসাইন। সঞ্চালনা করেন বিভাগের সম্পাদক প্রকৌশলী উমাশাহ উমায়ুন মনি চৌধুরী। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিভাগের ভাইস চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল মাওলা।


অনুষ্ঠানে আইইবির কেন্দ্রীয় ও ঢাকা কেন্দ্রের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন প্রকৌশল সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ডিবিটেক/এফএ/ইকে