ক্রস-বর্ডার পেমেন্টে ব্লকচেইনভিত্তিক সেবা সম্প্রসারণ করবে ফ্যাসেট
বাংলাদেশি উদ্যোক্তার ফিনটেকে ৫ কোটি ডলারের বিনিয়োগ
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা মোহাম্মদ রাফি হোসেনের নেতৃত্বাধীন শরিয়াহসম্মত ডিজিটাল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম ফ্যাসেট ৫ কোটি ১০ লাখ ডলারের নতুন বিনিয়োগ পেয়েছে। এই বিনিয়োগ করেছে জাপানের এসবিআই গ্রুপ, ইনভেস্টকর্প এবং তুরস্কের সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান আরজ পোর্টফয়।
বাংলাদেশি উদ্যোক্তার নেতৃত্বে গ্লোবাল নিওব্যাংকিং ও ক্রস-বর্ডার পেমেন্ট খাতে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিনিয়োগগুলোর একটি।
ব্লকচেইন অবকাঠামোর ওপর ভিত্তি করে ব্যাংকিং ও পেমেন্ট সেবা দেয় ফ্যাসেট। এখন স্টেবলকয়েনচালিত ব্যাংকিং ও ক্রস-বর্ডার পেমেন্ট সেবা সম্প্রসারণে এই অর্থ ব্যবহার করবে লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক এই ফিনটেক প্রতিষ্ঠানটি। সিরিজ বি ফান্ডিং রাউন্ডে গত ১৫ মে এ বিনিয়োগ পায় তারা।
সম্প্রতি বিশ্বের বৃহত্তম স্টেবলকয়েন ইউএসডিটি নির্মাতা টেথার লিমিটেডের সঙ্গে যৌথভাবে গোল্ড-ব্যাকড নিওব্যাংকিং কার্ডও চালু করেছে ফ্যাসেট।
ফ্যাসেটের প্ল্যাটফর্ম এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের ৫০টির বেশি করিডোরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার তুলনায় দ্রুত ও কম খরচে আন্তর্জাতিক অর্থ লেনদেনে স্টেবলকয়েন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে ফ্রিল্যান্সার, রিমোট কর্মী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বিদেশি ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে অর্থ আনতে বাড়তি খরচ ও জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। ফ্যাসেটের ব্লকচেইনভিত্তিক অবকাঠামো এ প্রক্রিয়াকে সহজ ও দ্রুত করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নতুন বিনিয়োগের অর্থ দিয়ে ফ্যাসেট তাদের নিজস্ব অবকাঠামো ‘ওউন নেটওয়ার্ক’ সম্প্রসারণ, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য ঋণ ও ট্রেড ফাইন্যান্সিং সেবা চালুর পরিকল্পনা করছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, গত বছর তাদের বার্ষিক লেনদেনের পরিমাণ ৩২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এক হাজারের বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান ফ্যাসেটের সেবা ব্যবহার করছে।
ফ্যাসেটের প্রধান নির্বাহী ও সহপ্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ রাফি হোসেন বলেন, “আমরা এমন একটি আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে তথ্যের মতো অর্থও সহজে সীমান্ত পেরোতে পারে। নতুন এই বিনিয়োগ আমাদের নিয়ন্ত্রিত ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় বাজারগুলোতে পৌঁছানোর সক্ষমতা আরও বাড়াবে।”
রাফি হোসেন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলে ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ অর্থনীতি ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার নৈতিক উন্নয়ন খাতে কাজ করার পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
//ডিবিটেক/পিও/ইকে//



