ভোটারে বাদ পড়লেন গড় ৬৭.৫ শতাংশ সদস্য! বাদ পড়লেন ১৯৪৭ জন সদস্য!
ভোটার থেকে বাদ বেসিস এর অর্ধেকের বেশি সদস্য!
আসন্ন ২০২৬ সালের বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটার তালিকায় চার ক্যাটাগরির সদস্যদের মধ্যে জায়গা হয়নি ১,৯৪৭ জন সদস্য কোম্পানির নাম। এর মধ্যে ইনভ্যালিড তালিকায় আছেন ৫৮০ জন সদস্য। সে হিসেবে কোয়ােরন্টাইনে ১৩৬৭ জন সদস্য।
মোট সাধারণ সদস্যদের মধ্যে ভোটার তালিকা থেকে সহযোগী সদস্য সর্বোচ্চ থেকে ৭১ শতাংশ, অ্যাফিলিয়েটে সাড়ে ৬৭ শতাংশ এবং ৬৬ শতাংশ করে সাধারণ ও ইন্টারন্যাশনাল সদস্য বাদ পড়েছেন।
সূত্রমতে, অনেক সদস্যকে আপিলের শুনানিতে ডেকেও মন্তব্যে 'আপিল নট সাবমিটেড' লিখে আবেদন বাতিল করা হয়েছে। এতো সংখ্যক ভোটার বাদ দেওয়ার ঘটনায় দেশের সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ, উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
১৫ মে, শুক্রবার মধ্যরাতে বেসিস এর দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। এ নিয়ে জানতে বেসিস নির্বাচন বোর্ডের আপিল বিভাগের চেয়ারম্যান ও উপসচিব তানিয়া ইসলামের সঙ্গে একধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। হোয়াইটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাঠিয়েও উত্তর মেলেনি।
বেসিস এর দাপ্তরিক ওয়েবসাইট অনুযায়ী, সংগঠনটিতে মোট আছেন ২,৮৮২ জন। এদের মধ্যে ১৮৫৭ জন সাধারণ সদস্য, ৬৬৫ জন সহযোগী সদস্য, ৩৪৫ জন অ্যাফিলিয়েট এবং ইন্টারন্যশনালে ১৫ জন সদস্য।
আর চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, সাধারণ সদস্য থেকে ভোটার হয়েছেন মাত্র ৬২৬ জন। সহযোগী সদস্যদের মধ্যে ভোটার ১৯২ জন, অ্যাফিলিয়েটে ১১২ জন এবং ইন্টারন্যশনালে মাত্র ৫ জন ভোটার হয়েছেন। অর্থাৎ সাধারণ সদস্যদের মধ্য ১২৩১জন, সহযোগী থেকে ৪৭৩ জন, অ্যাফিলিয়েটে ২৩৩ জন এবং ইন্টারন্যাশনালে ১০ জন বাদ পড়েছেন।
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিযোগ, অস্পষ্ট প্রক্রিয়া ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক কোম্পানিকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে সদস্যপদ নবায়ন, সংগঠনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং নিয়মিত সম্পৃক্ততা থাকা সত্ত্বেও এত সংখ্যক প্রতিষ্ঠানকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। অনেকেই এই সিদ্ধান্তকে “অগণতান্ত্রিক” ও “বৈষম্যমূলক” বলে উল্লেখ করেছেন।
একাধিক সদস্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, যথাযথ কারণ ব্যাখ্যা বা পর্যাপ্ত যাচাই-বাছাই ছাড়াই কোম্পানিগুলোর নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, এতে নির্বাচনের অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
আইসিটি খাতের বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার মনে করছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত পুরো শিল্পখাতের মধ্যে অনাস্থা ও বিভাজনের পরিবেশ তৈরি করছে। তাদের ভাষ্য, একটি পেশাদার সংগঠনের নির্বাচনকে ঘিরে এমন বিতর্কিত পরিস্থিতি সংগঠনের ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মধ্যে অনেকেই জানতে চেয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য কী? তাদের শঙ্কা, নির্দিষ্ট কোনো পক্ষকে সুবিধা দিতে ভোটার তালিকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
এ পরিস্থিতিতে দ্রুত স্বচ্ছ তদন্ত, সিদ্ধান্তের যৌক্তিক ব্যাখ্যা এবং বৈধ সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ভোটাধিকার পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন আইসিটি খাতের উদ্যোক্তারা।
ডিবিটেক/এসএ/ইকে



