অ্যাপ ছাড়াই চলবে ফোন, ওএস ও হার্ডওয়্যার আনছে ওপেনএআই

অ্যাপ ছাড়াই চলবে ফোন, ওএস ও হার্ডওয়্যার আনছে ওপেনএআই
২৩ মে, ২০২৬ ১৩:৫৬  
২৩ মে, ২০২৬ ১২:৫৯  

স্মার্টফোন মানেই স্ক্রিনভর্তি অ্যাপের ছড়াছড়ি—গত প্রায় দুই দশক ধরে চলে আসা এই চেনা ধারণা এবার বদলে যেতে চলেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এবার নিজস্ব ‘এআই এজেন্ট’ চালিত স্মার্টফোন বাজারে আনার জোর প্রস্তুতি চালাচ্ছে। প্রযুক্তি বাজারে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই গুঞ্জনটি এবার বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন শীর্ষ বাজার বিশ্লেষকেরা।

অ্যাপল ও গুগলের একক আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাতেই ওপেনএআই-এর এই গোপন হার্ডওয়্যার প্রজেক্ট। প্রথাগত স্মার্টফোনের মতো এই ডিভাইসে ব্যবহারকারীকে আলাদা আলাদা অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে না।

অ্যাপ-নির্ভরতার অবসান

বিখ্যাত প্রযুক্তি বিশ্লেষক মিং-চি কুও-র সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওপেনএআই এমন একটি ওএস (অপারেটিং সিস্টেম) ও ডিভাইস তৈরি করছে, যা সম্পূর্ণ ‘এআই-ফার্স্ট’। অর্থাৎ, উবার, ফেসবুক বা জিমেইলের মতো আলাদা অ্যাপ গ্রিড থাকবে না এই ফোনে। ব্যবহারকারী কেবল তার ফোনের এআই এজেন্টকে বলবেন, ‘আমার জন্য আগামী সপ্তাহের একটি টিকিট বুক করো’ কিংবা ‘আজকের কাজের সূচি সাজিয়ে দাও’। ফোনের ভেতরে থাকা শক্তিশালী এআই ব্যাকগ্রাউন্ডে নিজ দায়িত্বে সব কাজ সেরে ফেলবে।

কুও-র দাবি অনুযায়ী, এই ডিভাইসের উৎপাদন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই গতি পেয়েছে। ২০২৭ সালের প্রথমার্ধের মধ্যেই এটি বিশ্ববাজারে অবমুক্ত হতে পারে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩ কোটি ইউনিট ফোন বাজারে ছাড়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

ভেতরের প্রযুক্তি ও প্রসেসর

ওপেনএআই-এর এই এআই-ফার্স্ট স্মার্টফোনের চিপসেট ও হার্ডওয়্যার পার্টনার হিসেবে উঠে আসছে বড় বড় নাম। প্রযুক্তি দুনিয়ার খবর, ফোনটিতে মিডিয়াটেক-এর কাস্টমাইজড প্রসেসর ব্যবহার করা হতে পারে, যা তৈরি হবে টিএসএমসির অত্যাধুনিক ২-ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে। কোনো ল্যাগ বা দেরি ছাড়া এআই মডেল যেন সারাক্ষণ সচল থাকতে পারে, সেজন্য এতে যুক্ত হচ্ছে অতি দ্রুতগতির এলপিডিডিআর৬ র‍্যাম। এছাড়া ফোনটি অ্যাসেম্বল বা জোড়া লাগানোর দায়িত্ব পেতে যাচ্ছে লাক্সশেয়ার, যারা বর্তমানে অ্যাপলের আইফোন তৈরির কাজও করে থাকে।

জনি আইভের প্রজেক্টের সঙ্গে পার্থক্য

বাজারের অনেকেই ওপেনএআই-এর এই স্মার্টফোন প্রজেক্টের সঙ্গে অ্যাপলের সাবেক প্রধান ডিজাইন কর্মকর্তা জনি আইভের প্রজেক্টটিকে গুলিয়ে ফেলছেন। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই দুটি সম্পূর্ণ আলাদা উদ্যোগ। গত বছর জনি আইভের হার্ডওয়্যার স্টার্টআপকে নিজেদের সঙ্গে একীভূত করার পর জনি আইভ ও স্যাম অল্টম্যান মূলত স্ক্রিনলেস (পর্দাছাড়া) কিছু পরিধানযোগ্য এআই গ্যাজেট বা স্মার্ট স্পিকার তৈরির কাজ করছেন। আর বর্তমানে আলোচনায় আসা স্মার্টফোন প্রজেক্টটি হলো সরাসরি অ্যাপল ও গুগলের মোবাইল ইকোসিস্টেমের বিকল্প দাঁড় করানোর একটি বৈপ্লবিক চাল।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে আইফোন বা অ্যান্ড্রয়েডে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করতে গেলে অ্যাপল ও গুগলের কঠোর নীতিমালা ও ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেসিং লিমিটের মধ্যে থাকতে হয়। সম্পূর্ণ নিজস্ব ওএস ও হার্ডওয়্যার থাকলে ওপেনএআই কোনো বাধা ছাড়াই তাদের স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্টকে ২৪ ঘণ্টা সচল রাখতে পারবে। আর এই রূপরেখা সফল হলে তা গত দেড় দশকের ‘অ্যাপ-ইকোনমি’ বা অ্যাপ-ভিত্তিক দুনিয়াকে পুরোপুরি বদলে দেবে।

ডিবিটেক/বিএমটি   ।  সূত্র : অনলাইন