এআইতে জোর: ৭ হাজার কর্মী ছাঁটাই করছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড

এআইতে জোর: ৭ হাজার কর্মী ছাঁটাই করছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড
১৯ মে, ২০২৬ ১৬:৫৬  

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে আগামী চার বছরে বিশ্বব্যাপী ৭ হাজারেরও বেশি কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে বহুজাতিক ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড। মূলত ব্যাংকিং কার্যক্রমে আধুনিক প্রযুক্তির অটোমেশন যুক্ত করে ব্যয় সংকোচন এবং মুনাফার হার বাড়াতেই লন্ডনভিত্তিক এই শীর্ষ বৈশ্বিক ব্যাংকটি এমন বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিশ্বের বড় বড় ব্যাংকগুলোর মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডই প্রথম এআই প্রযুক্তির দোহাই দিয়ে এত বিপুলসংখ্যক কর্মী ছাঁটাইয়ের আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা প্রকাশ করল। ব্যাংকের এই ঘোষণার পরপরই হংকং শেয়ারবাজারে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

‘এটি খরচ কমানো নয়, প্রযুক্তির প্রতিস্থাপন’
মঙ্গলবার ব্যাংকের কৌশলগত হালনাগাদ তথ্যে জানানো হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে কর্পোরেট ফাংশন বা ব্যাক-অফিস বিভাগের প্রায় ১৫ শতাংশ পদ বিলুপ্ত করা হবে। রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, ব্যাংকটির এই বিভাগে কর্মরত ৫২ হাজার কর্মীর মধ্যে ৭ হাজারেরও বেশি মানুষ চাকরি হারাবেন। বিশ্বব্যাপী ব্যাংকটিতে বর্তমানে প্রায় ৮২ হাজার কর্মী কাজ করছেন।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের প্রধান নির্বাহী (সিইও) বিল উইন্টার্স সাংবাদিকদের বলেন, “এটিকে কেবল খরচ কমানো হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। আমরা মূলত কম মূল্যের মানবসম্পদের জায়গায় আমাদের আর্থিক ও বিনিয়োগ পুঁজি খাটিয়ে প্রযুক্তি প্রতিস্থাপন করছি।” তবে ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের একটি অংশকে নতুন প্রযুক্তির উপযোগী করে রি-স্কিল বা পুনর্দক্ষ করার সুযোগ দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে যেসব অঞ্চলে
বিল উইন্টার্স জানান, এই ছাঁটাই প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসবে ব্যাংকের ব্যাক-অফিস ও গ্লোবাল সেন্টারগুলোর ওপর। বিশেষ করে ভারতের চেন্নাই ও বেঙ্গালুরু, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর এবং পোল্যান্ডের ওয়ারশতে অবস্থিত স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের কার্যালয়গুলোর কর্মীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ব্যাংকের কোর ব্যাংকিং সিস্টেমকে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় করতে এআই এখানে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।

লক্ষ্য এখন বেশি মুনাফা
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ২০২৮ সালের মধ্যে তাদের ‘রিটার্ন অন ট্যাঞ্জিবল ইকুইটি’ (ROTE) ১৫ শতাংশে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা ১৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা সাধারণ বাজার বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের চেয়েও অনেক বেশি।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য ও ইরান সংকটের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যে ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা সত্ত্বেও ব্যাংকটি তাদের প্রবৃদ্ধির ব্যাপারে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী। এ প্রসঙ্গে সিইও বিল উইন্টার্স বলেন, “যেকোনো ভূ-রাজনৈতিক ও বাজার ঝুঁকি মোকাবিলা করে লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে আমাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা অত্যন্ত শক্তিশালী।”

ডিবিটেক/বিএমটি   ।   সূত্র: রয়টার্স