বিমানবন্দরে উন্মুক্ত হচ্ছে ফ্রি ওয়াইফাই ইন্টারনেট

বিমানবন্দরে উন্মুক্ত হচ্ছে  ফ্রি ওয়াইফাই ইন্টারনেট
১৭ মে, ২০২৬ ০০:১০  

‘ডিজিটাল জীবনধারা : সংযোগে স্থিতি, সহনশীলতায় শক্তি' স্লোগানে বিশ্বের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে ১৭ মে, রবিবার ‌'বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস' পালন করছে বাংলাদেশ। প্রতিবছর সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা-বিটিআরসি দিবসটি পালন করলেও এ বছর এই উদযাপনে যুক্ত হলো বেসরকারি বিমান বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। 

জানাগেছে, দুপুরে ৫৭তম এই দিবসে উচ্চগতির ফ্রি ওয়াইফাই ইন্টারনেটে সংযুক্ত হতে যাচ্ছে দেশের সব গুলো বিমানবন্দর। দিবসটিকে স্মরণীয় করে রাখতে দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে এই সেবার উদ্বোধন করবেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ছাড়াও অনুষ্ঠানে থাকবেন বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম।  

সরকার বলছে, প্রযুক্তি ব্যবহারে বৈষম্য এবং ‘ডিজিটাল ডিভাইড’ কমাতে এই ফ্রি ইন্টারনেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিমান বন্দরে নেমেই মোবাইল সিম ছাড়াই ইন্টারনেটে যুক্ত হয়ে স্বজনদের সঙ্গে সহজেই যোগাযোগ করতে সক্ষম হবেন বিমানবন্দরের আগত যাত্রীরা। 

প্রসঙ্গত, বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবসের সূচনা ১৮৬৫ সালের ১৭ মে, যখন প্যারিসে ইন্টারন্যাশনাল টেলিগ্রাফ কনভেনশনের মাধ্যমে গঠিত হয় ‘ইন্টারন্যাশনাল টেলিগ্রাফ ইউনিয়ন’। পরবর্তীতে সেটিই রূপ নেয় বর্তমান আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নে (আইটিইউ)। ১৯৬৯ সাল থেকে দিবসটি আন্তর্জাতিকভাবে পালন শুরু করে আইটিইউ, যা আজও বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নকে তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

১৮৬৫ সালে আইটিইউ প্রতিষ্ঠার ১০৪ বছর পর অর্থাৎ ১৯৬৯ সালে (ITU) এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে ১ম ‘বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস' উদযাপিত হয়। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে সুইজারল্যান্ডের জেনেভাতে ‘বিশ্ব তথ্য সংঘ সম্মেলন’ এর ১ম পর্ব এবং ২০০৫ সালে তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিসে সম্মেলনের ২য় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক তথ্য সমাজ গঠন করা। 

আর বিশ্ব তথ্য সংঘ দিবস সম্পর্কে ইতিহাস থেকে জানা যায়, ২০০৬ সালের ১৭ মে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ‘বিশ্ব তথ্য সংঘ দিবস’ হিসেবে ১৭ মে দিনটি ঘোষণা করে। পরে ওই একই বছরের (২০০৬ সাল) নভেম্বরে তুরস্কের আনতালিয়ায় ‘বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস’ ও ‘বিশ্ব তথ্য সংঘ দিবস’ একত্র করে ‘বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস’ হিসেবে উদযাপন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। দিবসটি (আইটিইউ)-এর ১৯৩টি সদস্য দেশ কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক, ফাইভ-জি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ব্লকচেইন এবং আইওটি (আইওটি) প্রযুক্তি শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থারই উন্নয়ন ঘটায়নি, বরং কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও বাণিজ্যে অভূতপূর্ব পরিবর্তন এনেছে। ফলে, এসব প্রযুক্তি শুধু জীবনযাত্রা সহজ করেনি, বরং বিশ্বের নানা বৈষম্য ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সহায়ক হয়েছে।

তাছাড়া, বিশ্বের উন্নয়নমান দেশগুলোর জন্য ডিজিটাল উদ্ভাবন এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজনীয়তা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অটোমেশনের মাধ্যমে সরকারি সেবাপ্রদান যেমন সহজ হচ্ছে, তেমনি দুর্বল জনগোষ্ঠীর কাছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আর্থিক সেবা পৌঁছানোও সম্ভব হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক, আইটিইউ ও ইউএনডিপি-র মতো সংস্থাগুলো বলছে, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ, নারী-পুরুষের সমতা, মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করা আরও বাস্তবসম্মত হয়ে উঠেছে।

এর আগে গত ১৩ মার্চ বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিএল) সহযোগিতায়  দেশের কয়েকটি জনপ্রিয় ও ভিআইপি আন্তঃনগর ট্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে এই ফ্রি ওয়াইফাই সেবা চালু করা হয়। 
ডিবিটেক/এসআই/ইকে