জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের মধ্যস্থতা

চুয়েটে অবরুদ্ধ উপাচার্য উদ্ধার

  • চুয়েটে ২৮ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর জেলা প্রশাসক ও এসপির সহায়তায় উদ্ধার উপাচার্য
  • শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে উপাচার্যকে কড়া পুলিশ প্রহরয়ায় হাসপাতালে নেওয়া হয়
  • ক্যাম্পাসে না আসার শর্তে পুলিশ প্রটেকশনে অ্যাম্বুলেন্সে ক্যাম্পাস ছাড়েন উপাচার্য

চুয়েটে অবরুদ্ধ উপাচার্য উদ্ধার
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৩২  
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:১১  

    চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) টানা ২৮ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরিফুল আলমকে উদ্ধার করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলমের সরাসরি হস্তক্ষেপে ও নিরাপত্তাবলয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়।

    ১৩ অক্টোবর, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে কড়া পুলিশ প্রহরার মধ্য দিয়ে তাকে উপাচার্য ভবন থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়।

    এসময় পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম বলেন, "কোনরকম বড় ধরনের ঝামেলা ছাড়াই আমরা বিষয়টি সমাধান করতে পেরেছি, উপাচার্য মহোদয় একজন সম্মানিত ব্যক্তি এবং তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অবরুদ্ধ থাকার কারণে তাই আমরা  নাগরিক হিসেবে তার চিকিৎসার  নিশ্চিত হয় এ এসেছি এবং তার চিকিৎসা হওয়ার পর আমরা বিষয়টি দেখব "।

    এর মধ্যে কতটুকু চ্যালেঞ্জিং ছিল এ উদ্ধার কাজ এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, "তিনি আসলে এই ক্যাম্পাসেরই বড় ভাই , অ্যালামনাই, সরকার তাকে উপাচার হিসাবে নিয়ত দিয়েছে তোমরা তার সাথে মানবা কি মানবা না সে বিষয়টা নিয়ে কিন্তু তোমাদের বড় ভাই হিসাবে সম্মান দিতে তাদের সাথে প্রথম আচরণ করবা এটা তাদেরকে আমরা বলী এবং শিক্ষার্থীরাও বিষয়টি বুঝতে পেরে সম্মানের সহিত আমাদের সাথে কথা বলেছেন এবং বিষয়টি শুরু করেছেন আমরা একই কোনরকম বড় বাধা বিপত্তি ছাড়াই উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছি। শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া যে বিষয়গুলো আছে পরবর্তীতে আমরা বিষয়গুলো দেখবো।

    এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে চুয়েট ক্যাম্পাসে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার উপস্থিত হলে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের সামনে জড়ো হন এবং উদ্ধার কার্যক্রমে প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসক সংবাদকর্মী ও শিক্ষার্থীদের সামনে বক্তব্য দিয়ে জানান, একজন সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে তিনি অসুস্থ থাকায় চিকিৎসার স্বার্থে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য তারা এসেছেন।

    এ সময় চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার অর্ণব ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত হলেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বরাবরই উপেক্ষিত থাকে। তিনি অভিযোগ করেন, বহিষ্কৃত সন্ত্রাসীদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ এবং শিক্ষকদের নানাভাবে হয়রানি ও হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা তাকে আর এই ক্যাম্পাসে দেখতে চাননি।

    পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে দীর্ঘ আলোচনার পর, নবনিযুক্ত উপাচার্য ভবিষ্যতে আর উপাচার্য হিসেবে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবেন না—এই মর্মে শিক্ষার্থীদের সম্মতি নেওয়া হয়। এরপর উপাচার্য ও তার সঙ্গে থাকা সহযোগিতাকারী ১১ জনকে পুলিশ প্রটেকশনে অ্যাম্বুলেন্সযোগে নিরাপদে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়।

    //ডিবিটেক/মো: রাকিব হাসান/এসএমপি/এমভিএনও/ডিপিওই//