অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের ২১তম দিনে মদুনাঘাট ও চান্দগাঁওয়ে ভাঙচুর; পদত্যাগের দাবিতে প্রেস ক্লাবে মানববন্ধন
চুয়েট শিক্ষার্থীদের বাসে দফায় দফায় হামলা, ভিসি অবরুদ্ধ ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন
- আন্দোলনের ২১তম দিনে মদুনাঘাট ও চান্দগাঁওয়ে চুয়েটের তিনটি বাসে হামলা ও চালককে মারধর, আহত একাধিক শিক্ষার্থী; রাজনৈতিক মদদে হামলার অভিযোগ
- নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ভিসি ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরুদ্ধ ঘোষণা
- চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন; ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন ও অধ্যাপক
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে স্বপদে পুনর্বহাল এবং নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের ২১তম দিনে পরিস্থিতি চরম সংঘাতময় রূপ নিয়েছে। ১২ অক্টোবর, সোমবার চুয়েট শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসে দফায় দফায় হামলা, ভাঙচুর ও চালককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানানোয় বর্তমান উপাচার্যকে তার সরকারি বাসভবনে অবরুদ্ধ করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে চট্টগ্রাম শহর থেকে ক্যাম্পাসের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া চুয়েটের প্রথম বাসটি মদুনাঘাট এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী অতর্কিত হামলা চালান, যাতে এক শিক্ষার্থী আহত হন। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নগরের বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালসংলগ্ন চান্দগাঁও এলাকায় শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসে আবারও হামলা চালানো হয়। এ সময় তিনটি বাসে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয় এবং একটি বাসের চালককে শারীরিকভাবে মারধর করা হয়। দফায় দফায় এসব হামলায় একাধিক সাধারণ শিক্ষার্থী আহত হন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, নিজের পদ টিকিয়ে রাখতে মদুনাঘাট ও চান্দগাঁওয়ে বাসে হামলার পর উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এ কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাকে আর উপাচার্য হিসেবে বিবেচনা করছেন না।
এদিকে উপাচার্য ও তার সহযোগীদের দুপুর ১২টার মধ্যে ভিসি ভবন ছেড়ে যাওয়ার জন্য দেওয়া আলটিমেটাম অমান্য করায় শিক্ষার্থীরা ভবনের মূল দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন এবং ভেতরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
সোমবার রাতে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দেওয়া আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় জানানো হয়, বর্তমান উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাকে ভিসি ভবনে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরুদ্ধ রাখা হবে। শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট করেন, তারা কোনো সংঘাত বা মানবাধিকার লঙ্ঘন চান না। উপাচার্য যদি নিজ হাতে পদত্যাগপত্র লিখে শিক্ষার্থীদের কাছে হস্তান্তর করেন কিংবা গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দেন, তবে ভবনের তালা খুলে তাকে ও তার সহযোগীদের নিরাপদে ক্যাম্পাস ত্যাগের সুযোগ দেওয়া হবে। অন্যথায় অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত তিনি অবরুদ্ধই থাকবেন।
শিক্ষার্থীবাহী বাসে বর্বর হামলার প্রতিবাদে সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধনে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে শিক্ষার্থীরা ‘চাটুকারের আখড়া এই চুয়েটে হবে না’, ‘রাজনীতির ঠিকানা এই চুয়েটে হবে না’ এবং ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেন। তারা অভিযোগ করেন, একশ্রেণির রাজনৈতিক নেতার ইন্ধনে স্থানীয় দুর্বৃত্তদের ভাড়া করে শিক্ষার্থীদের বাসে পরিকল্পিত এ হামলা চালানো হয়েছে। মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল করা, হামলার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বর্তমান উপাচার্যের অবিলম্বে পদত্যাগ করে ক্যাম্পাস ছাড়ার ৩ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
//ডিবিটেক/ সিজিএম/ এসএমপি/ বিপিও//





