বন্দর ও দক্ষতায় জোর

সুনীল অর্থনীতিতে ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য

  • ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে সুনীল অর্থনীতিতে গুরুত্ব
  • জাহাজনির্মাণ, বন্দর উন্নয়ন ও যোগাযোগব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা
  • সমুদ্রসম্পদভিত্তিক শিল্পে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকার ওপর জোর

সুনীল অর্থনীতিতে ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৩৭  
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৫১  

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য অর্জনে সুনীল অর্থনীতি বা সমুদ্রসম্পদভিত্তিক খাতকে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। এ লক্ষ্য অর্জনে জাহাজনির্মাণ, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন, পণ্য পরিবহনের অবকাঠামো এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

১২ অক্টোবর, সোমবার ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) সেন্টার ফর বে অব বেঙ্গল স্টাডিজের উদ্যোগে আয়োজিত ‘প্ল্যানিং পারস্পেক্টিভ অন দ্য ইমার্জিং ইন্ডাস্ট্রিজ ইন দ্য ব্লু ইকোনমি সেক্টর অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিএমকে লেকচার গ্যালারিতে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুনীল অর্থনীতি ও সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনা সরকারের অগ্রাধিকার খাতগুলোর একটি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বিষয়ে একটি সুনীল অর্থনীতি সেল রয়েছে। সমুদ্রসম্পদ নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে তাদের একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আনার চেষ্টা চলছে।

তিনি জানান, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় কয়েকটি অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে জাহাজনির্মাণ শিল্প, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন উল্লেখযোগ্য। একই সঙ্গে দেশের বন্দরগুলোর সঙ্গে উৎপাদনকেন্দ্রগুলোর যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করাও সরকারের অগ্রাধিকারের অংশ। এ ক্ষেত্রে শুধু সড়ক নয়, রেল ও নৌপথের উন্নয়নেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের শিল্পের বিকাশে প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ গড়ে তোলার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও নিতে হবে। সরকারি খাত, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। সেমিনার আয়োজনের মাধ্যমে বিষয়টি সরকারের নীতিনির্ধারকদের নজরে আনার উদ্যোগ নেওয়ায় আইইউবি ও সেন্টার ফর বে অব বেঙ্গল স্টাডিজকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইইউবি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য জাভেদ হোসেন বাংলাদেশের বন্দর পরিচালনা ও পণ্য পরিবহনের দক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, দেশের কনটেইনার ওঠানো-নামানোর প্রায় পুরো কার্যক্রম চট্টগ্রাম বন্দরে পরিচালিত হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২১ হাজার টন জ্বালানি তেলবাহী একটি ট্যাংকার থেকে পণ্য খালাস করতে বাংলাদেশে তিন থেকে পাঁচ দিন সময় লাগে। বিপরীতে, সিঙ্গাপুরে একই ধরনের কাজ সম্পন্ন করতে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা লাগে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে তৈরি পোশাক গন্তব্যে পৌঁছাতে প্রায় ৯৫ দিন সময় লাগে। তুলনায় ভিয়েতনামে লাগে ৬১ দিন এবং চীনে ৩২ দিন। এই দীর্ঘসূত্রতার কারণ হিসেবে তিনি দুর্নীতিকে দায়ী করেন।

জাভেদ হোসেনের বক্তব্য অনুযায়ী, বন্দরের কার্যক্রম, পণ্য খালাস এবং সরবরাহব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো বাংলাদেশের শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে তার উল্লেখ করা সময়ের তুলনাগুলো কোন নির্দিষ্ট বন্দর, রুট, সময়কাল বা তথ্যসূত্রের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে, তা বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়নি।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইইউবির সেন্টার ফর বে অব বেঙ্গল স্টাডিজের পরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল খুরশেদ আলম (অব.)। তিনি বঙ্গোপসাগর ও সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনা এবং এ খাতের উদীয়মান শিল্পগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেন।

সুনীল অর্থনীতি বলতে সমুদ্র ও সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহারভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বোঝায়। এর সঙ্গে সামুদ্রিক পরিবহন, বন্দর, জাহাজনির্মাণ, মৎস্যসম্পদ, সামুদ্রিক পর্যটন এবং সমুদ্রসম্পদভিত্তিক অন্যান্য শিল্পের বিকাশ জড়িত। এসব খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম। সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী মারিয়াম বিনতে হাসান ফারিন। অনুষ্ঠানের সমাপনীতে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আইইউবির স্কুল অব লিবারেল আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক ড. বখতিয়ার আহমেদ।

সেমিনারে উঠে আসা আলোচনা অনুযায়ী, বাংলাদেশের সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনাকে কার্যকর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে রূপ দিতে বন্দর ও পরিবহন অবকাঠামোর উন্নয়ন, শিল্পের সঙ্গে উচ্চশিক্ষার সংযোগ এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

//ডিবিটেক/জেডইউপি/এসএমই/এমএসআই//