প্রশ্নফাঁসে বাতিল যুব উন্নয়ন পরীক্ষা

প্রশ্নফাঁস তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটিকে ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদনের নির্দেশ

  • সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে

প্রশ্নফাঁস তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটিকে ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদনের নির্দেশ
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৫৩  

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ১১তম গ্রেডের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সুষ্ঠুভাবে তদন্তের জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং কমিটিকে আগামী ৩ (তিন) কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

১০ অক্টোবর, শনিবার বেলা ১১টায় পরীক্ষা শুরুর আগ মুহূর্তে মন্ত্রণালয়ের নজরে বিষয়টিতে আসলে তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা বাতিলের অফিস আদেশ জারি করা হয়। গঠিত তদন্ত কমিটিতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক এবং প্রশাসন অধিশাখার উপসচিবকে সদস্য-সচিব করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড পারফরমেন্স ম্যানেজমেন্ট অনুবিভাগের যুগ্মসচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (সিড ফাইন্যান্সিং)। কমিটি প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মুদ্রণ, বিতরণ ও সংশ্লিষ্টদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে।

এদিকে পরীক্ষা শুরুর শেষ মুহূর্তে বাতিলের সিদ্ধান্ত আসায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন রাজধানীজুড়ে পরীক্ষা দিতে আসা চাকরিপ্রার্থীরা। পরীক্ষা স্থগিত ও ভোগান্তির প্রতিবাদে নীলক্ষেত মোড়, শাপলা চত্বর, মতিঝিল ব্যাংক কলোনি, এবং মিরপুরের সরকারি বাঙলা কলেজসহ কয়েকটি কেন্দ্রের সামনে পরীক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। টেকনিক্যাল মোড় থেকে বাঙলা কলেজ পর্যন্ত সড়কে কয়েকশ পরীক্ষার্থী অবস্থান নেন। নীলক্ষেত মোড় অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় আশেপাশের এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।

২৪২টি শূন্যপদের বিপরীতে সারা দেশ থেকে আসা ৩ লাখেরও বেশি প্রার্থীর বিপরীতে ঢাকার প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা গ্রহণের আয়োজন করা হয়েছিল। চাকরিপ্রার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, "পরীক্ষার আগের রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন ছড়িয়ে পড়ে এবং অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ একটি চক্র এর সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ ওঠে। দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার টাকা খরচ করে এসে চরম হয়রানির শিকার হতে হলো।" পরীক্ষার্থীরা অবিলম্বে প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি এবং অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। 

//ডিবিটেক/ এএপি/ এসএমই/বিপিও//