শিশুদের সহায়তায় সহজ অর্থায়ন

বিকাশে ইউনিসেফের অনুদান দেওয়ার সুযোগ

  • বিকাশ অ্যাপ ও মার্চেন্ট নেটওয়ার্কে ইউনিসেফকে সরাসরি অনুদান দেওয়া যাবে
  • সংগৃহীত অর্থের পুরোটাই বাংলাদেশে শিশুদের সহায়তায় ব্যয় করবে ইউনিসেফ
  • শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সুরক্ষা ও জরুরি সহায়তায় তহবিল ব্যবহার হবে

বিকাশে ইউনিসেফের অনুদান দেওয়ার সুযোগ
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৩১  

ডিজিটাল আর্থিক সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশের শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষায় সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ বাড়াতে মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান বিকাশের সঙ্গে অংশীদারত্ব করেছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। এই চুক্তির ফলে বিকাশ অ্যাপ এবং দেশজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির অফলাইন মার্চেন্ট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইউনিসেফের শিশু সহায়তা কর্মসূচিতে সরাসরি অনুদান দিতে পারবেন গ্রাহকেরা। উদ্যোগটির আওতায় সংগৃহীত অর্থের পুরোটাই বাংলাদেশে শিশুদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।

ইউনিসেফের প্রাইভেট ফান্ডরাইজিং অ্যান্ড পার্টনারশিপের বৈশ্বিক পরিচালক কারলা হাদ্দাদ মারদিনি এবং বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কামাল কাদীরের উপস্থিতিতে চুক্তিটি সই হয়।

কারলা হাদ্দাদ মারদিনি বলেন, জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বিকাশের সঙ্গে এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে ইউনিসেফ সারা বাংলাদেশের মানুষ ও কমিউনিটির সঙ্গে সহজে, নিরাপদে এবং সরাসরি যুক্ত হয়ে শিশুদের কল্যাণে কাজ করতে পারবে।

তিনি বলেন, শিশুদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা এবং তহবিল সংগ্রহের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে ইউনিসেফের চলমান প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হওয়ায় তাঁরা আনন্দিত। শিশুরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তাদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকা, শিক্ষা গ্রহণ ও বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা আরও বেশি শিশুর কাছে পৌঁছে দিতে এই অংশীদারত্ব সহায়ক হবে।

কারলা হাদ্দাদ মারদিনি আরও বলেন, অনুদানের পরিমাণ যা-ই হোক, তা একটি শিশুর জীবন বদলে দিতে পারে এবং তার সুন্দর ভবিষ্যতের পথ খুলে দিতে পারে।

অ্যাপ ও মার্চেন্ট নেটওয়ার্কে অনুদান

চুক্তির আওতায় বিকাশ গ্রাহকেরা অ্যাপে লগইন করে ‘ডোনেশন’ অপশন থেকে ইউনিসেফ নির্বাচন করে সরাসরি অনুদান দিতে পারবেন। দেশজুড়ে বিস্তৃত বিকাশের অফলাইন মার্চেন্ট নেটওয়ার্কের মাধ্যমেও সহায়তা পাঠানো যাবে। পাশাপাশি, বিকাশ অ্যাপের ডোনেশন বিভাগে ইউনিসেফের জন্য স্থায়ীভাবে অনুদানের সুযোগ থাকবে।

এর ফলে অনুদান দেওয়ার সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি শিশুদের কল্যাণে জনসচেতনতা এবং তহবিল সংগ্রহের পরিসরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠান দুটি।

বিকাশের সিইও কামাল কাদীর বলেন, সমাজের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে বিকাশ কার্যকর সুযোগ তৈরি করার লক্ষ্যে কাজ করছে। দেশের প্রথম ডিজিটাল ডোনেশন প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের পছন্দের খাতে নিশ্চিন্তে অনুদান পাঠানোর সুযোগ করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, ইউনিসেফের সঙ্গে এই যৌথ উদ্যোগ শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার প্রচেষ্টাকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

শিশুদের যেসব কর্মসূচিতে ব্যয় হবে অর্থ

বিকাশের মাধ্যমে সংগৃহীত অনুদানের পুরো অর্থ বাংলাদেশে শিশুদের সহায়তায় ইউনিসেফের বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যয় করা হবে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে প্রতিটি শিশুর জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সহায়তা, সহিংসতা ও শোষণ থেকে শিশুদের সুরক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা প্রদান।

এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে পাঠানো প্রতিটি অনুদান শিশুদের নিরাপদে বেড়ে ওঠা, সুস্থ জীবনযাপন এবং আশাবাদী ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার উদ্যোগে সহায়তা করবে।

//ডিবিটেক/বিপিআর/এসএমপি/ডিপিও//