বিদ্যুৎ উৎপাদনের আরও কাছাকাছি দেশ
নিউজ আপডেটঃ রূপপুর প্রকল্পে প্রথম পারমাণবিক বিক্রিয়ার অনুমতি
- প্রথম ইউনিটে সফল ফিজিক্স টেস্টের পর বি-টু অনুমতি ইস্যু নিশ্চিত করেছে এনপিএল
- প্রথম ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো নিয়ন্ত্রিত চেইন নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া
- রূপপুরে বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে এটি ঐতিহাসিক প্রযুক্তিগত অগ্রগতি
স্বপ্নের পারমাণবিক শক্তির যুগে প্রবেশ ও জাতীয় গ্রিডে পরমাণু বিদ্যুৎ যুক্ত করার দ্বারপ্রান্তে ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে বাংলাদেশ। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (আরএনপিপি) প্রথম ইউনিটে সফলভাবে প্রথম পারমাণবিক বিক্রিয়া বা 'ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি' অর্জিত হয়েছে। একই সঙ্গে চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত ফিজিক্স টেস্ট বা ভৌত পরীক্ষার ইতিবাচক ফলাফলের ভিত্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে ‘বি-টু’ (B2) অনুমোদন ইস্যু করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিএল) সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল সূত্রে প্রকাশ, পরমাণু প্রযুক্তির ভাষায় ‘বি-টু’ অনুমতি ইস্যু এবং প্রথম ক্রিটিক্যালিটি সফল হওয়ার অর্থ হলো—চুল্লির অভ্যন্তরে ইউরেনিয়াম জ্বালানির সমন্বয়ে স্বয়ংক্রিয় ও নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক চেইন বিক্রিয়া (সেলফ-সাসটেইনিং চেইন রিঅ্যাকশন) সফল ও নিরাপদভাবে শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট কার্যকরভাবে সক্রিয় হয়ে উঠল এবং দেশ বাণিজ্যিকভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে প্রবেশ করল।
প্রকল্পের ধারাবাহিক কারিগরি অগ্রগতি পর্যালোচনা করে জানা যায়, এর আগে প্রথম ইউনিটের ভৌত সুরক্ষার কাজ সম্পন্ন করে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং ও বিভিন্ন মেকানিক্যাল পরীক্ষা সফলভাবে শেষ করা হয়েছিল। এরপর চুল্লির ভেতরে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নিউট্রন প্রবাহ ও তাপমাত্রার মিথস্ক্রিয়া যাচাই করতে ‘ফিজিক্স টেস্ট’ বা ভৌত পরীক্ষা পরিচালনা করেন দেশীয় ও রুশ পরমাণু প্রকৌশলীরা। পরীক্ষার ফলাফল আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বিএইআরএ) নির্ধারিত নিরাপত্তা মানদণ্ড শতভাগ পূরণ করায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে ‘বি-টু’ অনুমোদন ছাড়পত্র আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হয়।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, পারমাণবিক চুল্লি সক্রিয়করণের এই প্রযুক্তিগত সাফল্য রূপপুর প্রকল্পের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই অনুমোদনের পর পরবর্তী ধাপে টারবাইন ও জেনারেটরের সঙ্গে পারমাণবিক চুল্লির বাষ্পীয় সংযোগ স্থাপন করে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ধাপে ধাপে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সিনক্রোনাইজেশনের কাজ শুরু হবে।
রাশিয়ার সর্বাধুনিক ৩+ প্রজন্মের ১২০০ মেগাওয়াটের দুটি ভিভিইআর (VVER-1200) রিঅ্যাক্টর দিয়ে সাজানো হচ্ছে দেশের এই মেগা প্রকল্প। আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরাপত্তা নীতিমালার সর্বোচ্চ পাঁচ স্তরবিশিষ্ট সুরক্ষা ব্যবস্থার কারণে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বৈশ্বিকভাবে অত্যন্ত নিরাপদ হিসেবে স্বীকৃত। প্রথম ইউনিটে ফিজিক্স টেস্ট ও বি-টু অনুমোদনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী রাষ্ট্র হিসেবে গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের চূড়ান্ত ক্ষণগণনা শুরু করল।
/ডিবিটেক/ডিএফআর/এসভিপি/এমএসআই/





