পরিবেশমন্ত্রীর সঙ্গে স্টিফেন রড্রিকসের বৈঠক

কার্বন মার্কেট ও জলবায়ু তহবিলে ইউএনডিপির সহায়তা

  • আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন সংগ্রহ ও কার্বন মার্কেটে প্রবেশের পথ সুগম করতে কাজ করবে ইউএনডিপি
  • বায়োফিন ও ন্যাশনাল কুলিং প্ল্যানের মাধ্যমে নিম্ন-কার্বন সবুজ উন্নয়ন জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ
  • জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দুর্গম অঞ্চলে প্রকৃতি-ভিত্তিক অভিযোজন ও জীবিকা সুরক্ষার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

কার্বন মার্কেট ও জলবায়ু তহবিলে ইউএনডিপির সহায়তা
৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:২১  
৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৪৬  

জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলা, নিম্ন-কার্বন প্রযুক্তির বিস্তার এবং আন্তর্জাতিক কার্বন ক্রেডিট বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে। গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডসহ বৈশ্বিক তহবিল থেকে পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন সংগ্রহ এবং টেকসই অভিযোজন কার্যক্রমকে গতিশীল করতে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।

৮ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিকস। গণমাধ্যমকর্মীদের জানানো হয়, বৈঠকে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এতে জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অর্থায়ন ও কার্বন মার্কেটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ জোরদারের বিষয়সমূহ অগ্রাধিকার পায়।

বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে চলমান অংশীদারত্ব পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ ক্ষেত্রসমূহ সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ করে জীববৈচিত্র্য ও প্রতিবেশ সংরক্ষণে বাংলাদেশ কর্তৃক প্রণীত অর্থায়ন পরিকল্পনা ‘বায়োফিন’ (BIOFIN), নিম্ন-কার্বন উন্নয়নে ন্যাশনাল কুলিং প্ল্যান (NCP), জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা ও অভিযোজন, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির মতো কৌশলগত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হওয়ায় অভিযোজন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, স্থানীয় বাস্তবতানির্ভর এবং ফলাফলমুখী করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের সঙ্গে মানুষের জীবিকা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি জানান, বাংলাদেশ নিজস্ব সম্পদ ও সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে কাজ করলেও ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সহজপ্রাপ্য জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউএনডিপির সঙ্গে দীর্ঘদিনের এই কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও বাস্তবমুখী ও ফলপ্রসূ করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে স্থানীয় সরকার ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। তিনি বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চল, চরাঞ্চল, পার্বত্য এলাকা, হাওর এবং খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলের মতো ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান (NbS) এবং জলবায়ু-সহনশীল জীবিকার কার্যক্রম দ্রুত সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় জলবায়ু অঙ্গীকার (এনডিসি) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল ও বৈশ্বিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন সংগ্রহে ইউএনডিপির কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিকস দেশের জলবায়ু সহনশীল ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে জানান, জলবায়ু অভিযোজন, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, দূষণ ও প্লাস্টিক বর্জ্য মোকাবিলা, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ে সহনশীলতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করবে ইউএনডিপি। তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, উন্নয়ন সহযোগী ও বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করে সফল পরীক্ষিত উদ্যোগগুলো বৃহত্তর পরিসরে বাস্তবায়নে ইউএনডিপি প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

উভয় পক্ষ চলমান যৌথ প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি জলবায়ু অভিযোজন, প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অর্থায়ন, বৈশ্বিক উষ্ণতা হ্রাসকরণ, বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও কার্বন ক্রেডিটকে কেন্দ্র করে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন। এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

//ডিবিটেক/টিএইচই/এসএমই/এমআইএস//