বাংলাদেশের নেতৃত্বে মাইলফলক

এআই-মানবাধিকার প্রস্তাব জাতিসংঘে সর্বসম্মত

  • মানবাধিকার পরিষদে প্রথমবার এআই ও মানবাধিকার বিষয়ে প্রস্তাব গৃহীত
  • বাংলাদেশের নেতৃত্বে আট দেশের কোর গ্রুপ প্রস্তাবটি উপস্থাপন করে
  • উন্নয়নশীল দেশের প্রযুক্তি প্রবেশাধিকার ও সক্ষমতায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে

এআই-মানবাধিকার প্রস্তাব জাতিসংঘে সর্বসম্মত
৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৫৮  

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তারের মধ্যে এর মানবাধিকারগত প্রভাব নিয়ে প্রথমবারের মতো একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করেছে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ। বাংলাদেশের নেতৃত্বে আট দেশের সমন্বয়ে গঠিত কোর গ্রুপের উদ্যোগে ‘মানবাধিকার উন্নয়ন ও সুরক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব’ শীর্ষক প্রস্তাবটি ৬৩তম অধিবেশনে গৃহীত হয়।

জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

প্রস্তাবটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উদ্ভাবন ও উন্নয়নের সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি মানবাধিকার সুরক্ষা, মানবিক মর্যাদা এবং মানুষের নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাকে প্রযুক্তি ব্যবহারের কেন্দ্রীয় বিবেচনায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

বাংলাদেশের নেতৃত্বে গঠিত কোর গ্রুপে রয়েছে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, বাংলাদেশ, মিশর, গ্রিস, গায়ানা, কুয়েত ও নেপাল। বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন প্রস্তাবটির পেন হোল্ডার হিসেবে কোর গ্রুপের পক্ষে ২০২৬ সালের আগস্টে প্রথমবারের মতো এটি মানবাধিকার পরিষদের প্রাক-অধিবেশন সভায় উপস্থাপন করে।

এরপর কোর গ্রুপের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদল ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গঠনমূলক পরামর্শ এবং আলোচনা পরিচালনা করে।

মানবাধিকার পরিষদে প্রস্তাবটির খসড়া উপস্থাপনের সময় বাংলাদেশ বলেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমাজ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্রুত রূপান্তরের একটি শক্তিশালী চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে। ফলে এ প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন ও ব্যবহার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে মানবিক মর্যাদা এবং মানুষের নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রস্তাবটিতে উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থবহ অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উদীয়মান প্রযুক্তির সুফল যাতে আরও বিস্তৃত জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, কারিগরি সহায়তা, জ্ঞান ও বিজ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

মানবাধিকার পরিষদে প্রস্তাবটির সর্বসম্মত গ্রহণকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মানবাধিকারের দ্রুত বিকাশমান সম্পর্ক নিয়ে জাতিসংঘের আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

একই সঙ্গে, উদীয়মান বৈশ্বিক প্রযুক্তি ইস্যুতে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে দেশের ভূমিকারও প্রতিফলন হিসেবে প্রস্তাবটি গৃহীত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

//ডিবিটেক/ইউএনপিআর/বিপিসি/এসএমআই//