বিদ্যুৎ উৎপাদনের শেষ ধাপ
বায়রা অনুমোদনের অপেক্ষায় রূপপুর-১
- ১৬ এমপিএ উচ্চচাপ পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে
- বিদ্যুৎ উৎপাদনের আগে আরও তিনটি বড় পরীক্ষা বাকি
- বায়রার চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই পরবর্তী ধাপে যাবে ইউনিট
বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি এগোলেও এখনো চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রক অনুমোদন ও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কমিশনিং পরীক্ষা বাকি। ১৬ এমপিএ উচ্চচাপ পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হওয়ার পর ইউনিট-১ ক্রিটিক্যালিটি বা স্বনির্ভর পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া শুরুর পর্যায়ের আরও তিনটি বড় পরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছে। সব পরীক্ষা সফল হলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা/BAERA) কমিশনিং লাইসেন্স দিয়েছিল এ বছরের এপ্রিলে। এরপর ২৮ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং শুরু হয়।
তবে কমিশনিং প্রক্রিয়া সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার বিষয় নয়। জ্বালানি লোডিংয়ের পর ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হয়। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে চুল্লি, প্রাথমিক শীতলীকরণ ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সরঞ্জামের সক্ষমতা যাচাই করা হয়।
রূপপুর-১-এর কমিশনিং কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা ছিল প্রেশার-অপারেটেড রিলিফ ভালভ (পিওআরভি/পিওএসভি) ব্যবস্থার ১৬ এমপিএ উচ্চচাপ পরীক্ষা। জুলাইয়ের শুরুতে একটি নিরাপত্তা ভালভের কারিগরি ত্রুটির কারণে কমিশনিং কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। ত্রুটিপূর্ণ ভালভ প্রতিস্থাপনের পর পরীক্ষা পুনরায় শুরু হয় এবং সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জায়েদুল হাসান জানিয়েছেন, পরীক্ষার সময় প্রধান নিয়ন্ত্রণকক্ষ ও জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে ব্যবস্থা পরিচালনা ও পর্যবেক্ষণ করা হয়। ভালভের সাড়া, খোলা ও বন্ধ হওয়ার গতি, সতর্কসংকেত এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যপরামিতি পরীক্ষা করা হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা, অগ্নিনিরাপত্তা ও বিকিরণ সুরক্ষার ব্যবস্থাও যাচাই করা হয়েছে।
প্রকল্প কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ এমপিএ পরীক্ষা সফল হওয়ার পরও প্রথম ইউনিটকে ক্রিটিক্যালিটি পর্যায়ে নিতে আরও তিনটি বড় পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। সব পরীক্ষা নির্ধারিত মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হলে এরপর ধাপে ধাপে চুল্লির কার্যক্রম বাড়িয়ে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে যাওয়া হবে।
এদিকে প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত পারমাণবিক জ্বালানির একটি চালান ৩ অক্টোবর রূপপুর প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িবহর ঈশ্বরদীর রূপপুরে নেওয়া হয়। প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে, প্রথম ইউনিটের জন্য আরও ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম জ্বালানি সংযোজনী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে নয়টি ফ্লাইটে দেশে আসার কথা।
রূপপুরের প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে এর আগে আগস্টে যে সময়সূচি ছিল, নিয়ন্ত্রক অনুমোদন ও কমিশনিং পরীক্ষার কারণে তা পিছিয়ে যায়। এখন প্রকল্প কর্মকর্তারা পরীক্ষাগুলো সফলভাবে শেষ করার ওপর পরবর্তী সময়সূচি নির্ভর করছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিট চালু হলে এটি বাংলাদেশের জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ যুক্ত করার প্রথম বাস্তব ধাপ হবে। তবে নিরাপত্তা পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদন সম্পন্ন হওয়ার পরই বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে এগোতে পারবে ইউনিটটি।
//ডিবিটেক/এসএমপি/ডিভিটি/বিপিও//





