হিট প্রকল্পের গবেষণা উপপ্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন করছে ইউজিসি
প্রযুক্তি গবেষণায় অর্থ অপচয় রোধের উদ্যোগ
- হিট প্রকল্পের গবেষণা উপপ্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পুনর্মূল্যায়নে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে ইউজিসি
- একই ল্যাব যন্ত্রপাতি বারবার কেনা ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ক্রয় কমিটি গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে
- গবেষণার বাজেট যৌক্তিকীকরণ ও সমস্যাগ্রস্ত উপপ্রকল্পের নকশা সংশোধনে কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হবে
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত গবেষণার মানোন্নয়ন এবং প্রকল্প তহবিলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথভাবে কাজ সম্পন্ন করে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন নিশ্চিত করতে হায়ার এডুকেশন অ্যাক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রথম ধাপের গবেষণা উপপ্রকল্পগুলো পুনর্মূল্যায়ন করছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। উপপ্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, বাস্তবায়নে সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি গবেষণার গুণগত মান ও অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ।
বাস্তবায়নাধীন কোনো উপপ্রকল্পে অস্পষ্টতা, বাস্তবায়নে জটিলতা কিংবা পরিকল্পনার ঘাটতি থাকলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষকদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রকল্প পুনর্নকশা, বাজেট যৌক্তিকীকরণ, প্রয়োজনীয় উপকরণ নির্ধারণ এবং কাজের পরিধি ও সময়সীমা পুনর্বিন্যাসে সহযোগিতা করবে কমিশন। এ কাজে গবেষণা ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়নে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদেরও সম্পৃক্ত করা হবে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ইউজিসিতে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) হিট প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়নাধীন ছয়টি গবেষণা উপপ্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় এসব কথা তুলে ধরেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
সভায় অধ্যাপক মামুন আহমেদ জানান, হিট প্রকল্পের এটিএফ কম্পোনেন্টের আওতায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস্তবায়নাধীন গবেষণা উপপ্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা করা হবে। কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যা দেখা দিলে শুধু প্রধান গবেষককে দায়ী না করে ইউজিসি ও সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়কে সমন্বিতভাবে সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে। যবিপ্রবির ছয়টি গবেষণা উপপ্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা শেষে তিনি জানান, প্রতিটি প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করতে হবে। যেসব প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের সংকট বা জটিলতা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা দেওয়া হবে। হিট প্রকল্পের নির্ধারিত কার্যক্রম যথাসময়ে সম্পন্ন করতে ইউজিসি নিবিড়ভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি যোগ করেন, প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও সর্বোচ্চ সহযোগিতা ও আন্তরিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
গবেষণায় বরাদ্দ অর্থের যৌক্তিক ও সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে ইউজিসি চেয়ারম্যান জানান, গবেষণার নামে অপ্রয়োজনীয় উপকরণ কেনা এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ধরনের যন্ত্রপাতি বা ইক্যুইপমেন্ট একাধিক উপপ্রকল্পের আওতায় বারবার কেনার প্রস্তাব অর্থের অপচয়ের কারণ হতে পারে। তাই শিক্ষা ও গবেষণার বৃহত্তর স্বার্থে প্রতিটি প্রকল্পের অর্থ অত্যন্ত দায়িত্বশীল, প্রয়োজনভিত্তিক ও ফলাফলমুখীভাবে ব্যয় করতে হবে। তিনি বলেন, “গবেষণা হোক, কিন্তু গবেষণার নামে অপ্রয়োজনীয় কিছু কেনার সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। গবেষণার যথার্থতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে চাই। দেশের কল্যাণে এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানে গবেষণা হতে হবে। গবেষণার অর্থ অর্থবহভাবে ব্যয় করতে চাই।”
গবেষকদের যথাযথ, সুস্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি জানান, গবেষণার প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাব্য ফলাফল বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পের উপকরণ ও বাজেট নির্ধারণ করতে হবে। একই ধরনের উপকরণ কেনায় পুনরাবৃত্তি এড়ানো সম্ভব হলে সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে এবং আরও বেশি গবেষণা কার্যক্রমে অর্থের কার্যকর সংস্থান করা সম্ভব হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “প্রকল্পের টাকা খরচ করাটাই গুরুত্বপূর্ণ নয়; দায়িত্ব নিয়ে এই টাকা অর্থবহভাবে খরচ করতে হবে।”
হিট প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন গবেষণা উপপ্রকল্পে একই ধরনের উপকরণ বারবার কেনা ঠেকাতে কেন্দ্রীয়ভাবে ক্রয় পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চাহিদা সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় গবেষণা উপকরণ একসঙ্গে কেনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে ক্রয় ও অডিট ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি কেন্দ্রীয় ক্রয় কমিটি গঠন করা হবে। অধ্যাপক মামুন আহমেদ উল্লেখ করেন, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ধরনের গবেষণা উপকরণ বারবার কেনার প্রবণতা রয়েছে। এতে একদিকে যেমন অর্থের অপচয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়, অন্যদিকে গবেষণা অবকাঠামোর সমন্বিত ব্যবহারের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ে। কেন্দ্রীয়ভাবে চাহিদা যাচাই ও সমন্বয়ের মাধ্যমে উপকরণ কেনা হলে এ ধরনের পুনরাবৃত্তি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।
কাছাকাছি অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণাগার, যন্ত্রপাতি ও বিদ্যমান গবেষণা-সুবিধা প্রয়োজন অনুযায়ী পারস্পরিক ব্যবহারের সুযোগ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের তাৎক্ষণিক ও অপরিহার্য প্রয়োজনের কিছু উপকরণ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কেনার সুযোগ থাকবে বলেও জানান তিনি। গবেষকদের ক্রয়সংক্রান্ত জটিলতা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সময় ব্যয় না করে গবেষণার মূল কাজে আরও বেশি মনোনিবেশের সুযোগ তৈরি করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। সভায় ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল-মামুন, অর্থ, হিসাব ও বাজেট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর, হিট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান, প্রকল্পের প্রধান গবেষক (পিআই) এবং ইউজিসি ও হিট প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমানের সূত্রে জানা যায়।
//ডিবিটেক/আইএইচইউ/এসএমপি/এমএসআই//





