শাটডাউনে প্রকৌশল শিক্ষায় স্থবিরতা অব্যাহত
চুয়েটে উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে দশম দিনে আন্দোলন
- সাবেক উপাচার্য আবু সাদাত সায়েমের পুনর্বহাল দাবিতে চুয়েটে দশম দিনের শাটডাউন পালিত হয়েছে
- শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় ক্লাস, ল্যাবসহ সব পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে
- শিক্ষকরা পঞ্চম দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করায় প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে
প্রকৌশল গবেষণাগার, নিয়মিত ক্লাস ও প্রযুক্তিবিদ্যার পাঠ বন্ধ রেখে উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে দশম দিনের মতো উত্তাল রয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) শিক্ষার্থীদের সর্বাত্মক শাটডাউনের পাশাপাশি পঞ্চম দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ও কঠোর অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তরুণ শিক্ষার্থীরা। এ কর্মসূচির কারণে ব্যবহারিক ল্যাব, নিয়মিত ক্লাস, সেমিস্টার পরীক্ষা ও প্রকৌশল শাখার অন্যান্য সব একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
অন্যদিকে সকাল ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষকরা। শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই কর্মবিরতির ফলে চুয়েটের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজ পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।
আন্দোলনের দশম দিনে শিক্ষার্থীরা সৃজনশীল প্রতিবাদের অংশ হিসেবে চুয়েট উপাচার্য ভবনের সামনে আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও প্রতিবাদী কনসার্টের আয়োজন করেছে। বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলা আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে আন্দোলনের নয় দিনের বিভিন্ন ঘটনা ও শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের চিত্র তুলে ধরা হবে। এছাড়া সন্ধ্যা ৬টা থেকে একই স্থানে অনুষ্ঠিত হবেপ্রতিবাদী কনসার্ট।
এ বিষয়ে পুরকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মৌমতা দত্ত প্রিয়া জানান, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে তাদের এই প্রতিবাদী কর্মসূচি চলছে। ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে কনসার্ট ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। প্রদর্শনীতে বিগত নয় দিনের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর তুলে ধরার পাশাপাশি প্রশাসনের নীরবতার তীব্র সমালোচনা করা হবে। সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে শিক্ষার্থীদের এই সর্বাত্মক শাটডাউন শুরু হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ। অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে এর আগে মশাল মিছিল ও লাল কার্ড প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। লাগাতার আন্দোলনের কারণে দেশের শীর্ষস্থানীয় এই প্রযুক্তি বিদ্যাপীঠের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। //ডিবিটেক/এমইসি/বিভি/পিসি//





