ওপেন অ্যাকসেস ট্যারিফ কার্যকর অক্টোবরে

বাণিজ্যিক সৌরবিদ্যুতের ইউনিট প্রতি পাইকারি দর ৬.৯৮ ও ৭.১১ টাকা

  • বাণিজ্যিক সৌরবিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসি 
  • জাতীয় সঞ্চালন ও বিতরণ গ্রিড ব্যবহারে যুক্ত হলো ওপেন অ্যাকসেস ট্যারিফ
  • মার্চেন্ট পাওয়ার নীতিমালায় সরাসরি শিল্প গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রির সুযোগ উন্মুক্ত

বাণিজ্যিক সৌরবিদ্যুতের ইউনিট প্রতি পাইকারি দর ৬.৯৮ ও ৭.১১ টাকা
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৩৫  

নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকৌশল, আধুনিক গ্রিড অবকাঠামো এবং টেকসই জ্বালানি রূপান্তরকে গতিশীল করতে বেসরকারি বাণিজ্যিক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র (মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট বা এমপিপি) থেকে বিদ্যুৎ কেনার আনুষ্ঠানিক মূল্যহার ও উন্মুক্ত সঞ্চালন মাশুল নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়। এতে জানানো হয়, আগামী অক্টোবর ২০২৬ থেকেই নতুন এই সমন্বিত হার কার্যকর হবে। জাতীয় গ্রিড ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির টেকনিক্যাল ইন্টিগ্রেশন সহজতর করতে ভোল্টেজভেদে সৌরবিদ্যুতের দাম এবং তৃতীয় পক্ষের বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ‘ওপেন অ্যাকসেস ট্যারিফ’ কাঠামো চূড়ান্ত করা হয়েছে।

কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাণিজ্যিক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে একক পাইকারি ক্রেতা হিসেবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বিদ্যুৎ ক্রয় করবে। এক্ষেত্রে ৩৩ কিলোভোল্ট (কেভি) সংযোগে প্রতি ইউনিটের দাম নির্ধারিত হয়েছে ৬ টাকা ৯৮ পয়সা এবং ১৩২ কেভি উচ্চচাপ সঞ্চালন লাইনে প্রতি ইউনিটের দাম পড়বে ৭ টাকা ১১ পয়সা। ২০২৫ সালের মার্চেন্ট পাওয়ার নীতিমালার আলোকে উৎপাদিত বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ সরকারি বিতরণ ব্যবস্থার কাছে বিক্রির সুযোগ থাকছে। অবশিষ্ট ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ উদ্যোক্তারা সরাসরি বৃহৎ শিল্প গ্রাহকদের কাছে নিজস্ব চুক্তিমূল্যে সরবরাহ করতে পারবেন। তবে জাতীয় সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো ব্যবহারের জন্য সংযোগের ধরনভেদে প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২২ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৯০৯৭ টাকা পর্যন্ত ওপেন অ্যাকসেস মাশুল পরিশোধ করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎকেন্দ্র সরাসরি গ্রিডে এবং গ্রাহক বিতরণ সংস্থায় যুক্ত থাকলে ২৩০ কেভিতে মোট মাশুল হবে প্রতি ইউনিটে ১ দশমিক ৫৯৮৯ টাকা, ১৩২ কেভিতে ১ দশমিক ৬০২৫ টাকা এবং ৩৩ কেভিতে ১ দশমিক ৬০৯৭ টাকা। এর মধ্যে সঞ্চালন মাশুল হিসেবে ২৩০ কেভিতে ৩৭ দশমিক ৮৯ পয়সা, ১৩২ কেভিতে ৩৮ দশমিক ২৫ পয়সা এবং ৩৩ কেভিতে ৩৮ দশমিক ৯৭ পয়সা অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া গ্রাহক প্রান্তে বিতরণ মাশুল ১ টাকা ১৭ পয়সা এবং হিসাব ও বিলিং ব্যবস্থাপনা ফি প্রতি ইউনিটে ৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। কেন্দ্র ও গ্রাহক আলাদা বিতরণ সংস্থায় থাকলে সরবরাহ প্রান্তে অতিরিক্ত ৩০ পয়সা বিতরণ মাশুল যুক্ত হবে। তবে একই সংস্থার আওতায় সঞ্চালনবিহীন সরাসরি সংযোগে সামগ্রিক মাশুল দাঁড়াবে মাত্র ১ টাকা ২২ পয়সা। সরবরাহের ক্ষেত্রে পাওয়ার গ্রিডের মাসিক গড় সঞ্চালন লস এবং সর্বশেষ অর্থবছরের বিতরণ লস সমন্বয় করা হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বিতরণ সংস্থাভেদে পৃথক মাশুলও ঘোষণা করা হয়; যার মধ্যে পিডিবির জন্য ৭০ পয়সা, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) জন্য ১ টাকা ৪৩ পয়সা, ডিপিডিসির জন্য ৮৫ পয়সা, ডেসকোর জন্য ৯৯ পয়সা, ওজোপাডিকোর জন্য ৮৭ পয়সা এবং নেসকোর জন্য ১ টাকা ৪ পয়সা ধার্য হয়েছে। বাণিজ্যিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের হিসাব ব্যবস্থাপনা ও বিলিং নিষ্পত্তির সমন্বিত দায়িত্বে থাকবে পিডিবি। এর আগে গত ২৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি প্রতি ইউনিট সৌরবিদ্যুতের দাম ৬ টাকা ৪৮ পয়সা করার সুপারিশ করেছিল। শুনানিতে বিতরণ সংস্থাগুলো পিক-আওয়ারে শিল্প গ্রাহক হারানোর আর্থিক ঝুঁকি এবং উদ্যোক্তারা অতিরিক্ত মাশুলের কারণে নবায়নযোগ্য প্রযুক্তিতে মূলধনী বিনিয়োগ ব্যাহত হওয়ার যে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, তা পর্যালোচনা করেই এ ভারসাম্যপূর্ণ ট্যারিফ চূড়ান্ত করেছে কমিশন।

//ডিবিটেক/ডিবিপি/ডিপিও/এমএসআই//