শিক্ষক-কর্মকর্তারা মুক্ত, আন্দোলন চলছে
অবশেষে অবরোধ প্রত্যাহার সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে
- প্রায় ৩৩ ঘণ্টা পর প্রশাসনিক ভবন থেকে বের হন ২২ শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মী
- শাবিপ্রবির অধীনে নেওয়ার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে
- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন না হওয়া পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা
সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে প্রকৌশল শিক্ষার মান, বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির মর্যাদা এবং প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ একাডেমিক কাঠামো। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে কলেজকে মুক্ত করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অধীনে নেওয়ার দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনের মধ্যে প্রায় ৩৩ ঘণ্টা পর প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ শিক্ষক-কর্মকর্তারা বের হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
২৮ সেপ্টেম্বর, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ১৪ শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ ২২ জন প্রশাসনিক ভবন থেকে বের হয়ে আসেন। এর আগে বিকেল ৫টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে কলেজে যান সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার আশ্বাস দেন। এরপর শিক্ষক-কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বের হওয়ার সুযোগ পান।
কলেজের অধ্যক্ষ (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, রাত সাড়ে ৯টার দিকে শিক্ষক-কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বের হতে পেরেছেন। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে এখনো ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরেনি।
কলেজ সূত্র জানায়, রোববার বেলা ১টার দিকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে কলেজকে মুক্ত করে শাবিপ্রবির অধীনে নেওয়ার দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা প্রশাসনিক ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে ভবনের ভেতরে শিক্ষক-কর্মকর্তারা আটকা পড়েন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে থাকায় সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা এ অবস্থার পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে এলেও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
শিক্ষার্থীরা বলেন, বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির মর্যাদা ও শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখতে কলেজটিকে শাবিপ্রবির অধীনে নিতে হবে। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে কলেজকে বের করে আনার দাবি তাদের দীর্ঘদিনের।
শিক্ষার্থীরা জানান, এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কলেজের ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাবসহ সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। দাবি বাস্তবায়নে কোনো সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
//ডিবিটেক/বিএনবিসি/ইএমএস/এমএনপি//





