‘পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাৎ করতে দেওয়া হবে না’
ঢাকা: পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের কষ্টার্জিত অর্থ কাউকে আত্মসাৎ করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ভবনে মশিহর সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ক্ষতিগ্রস্ত ১৫ বিনিয়োগকারীর মধ্যে ইনভেস্টমেন্ট প্রটেকশন ফান্ড থেকে ৫ লাখ টাকা করে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। বিএসইসি […] The post ‘পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাৎ করতে দেওয়া হবে না’ first appeared on Sarabangla

ঢাকা: পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের কষ্টার্জিত অর্থ কাউকে আত্মসাৎ করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ভবনে মশিহর সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ক্ষতিগ্রস্ত ১৫ বিনিয়োগকারীর মধ্যে ইনভেস্টমেন্ট প্রটেকশন ফান্ড থেকে ৫ লাখ টাকা করে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে তাদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যাতে বিনিয়োগকারীদের কষ্টার্জিত অর্থ আত্মসাৎ করতে না পারে, সে বিষয়ে কমিশন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘অনিয়ম ঠেকাতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে। এ জন্য পুঁজিবাজারের ব্রোকারেজ হাউস ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাক-অফিস কার্যক্রমে শক্তিশালী সফটওয়্যার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ওএমএস) আরও কার্যকর করার কাজ চলছে।’
মাসুদ খান বলেন, ‘প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে লেনদেন ও বিনিয়োগকারীদের অর্থের ওপর নজরদারি বাড়ানো হবে। এতে অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতা বাড়বে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বিএসইসি কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি, জবাবদিহি এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’
অনুষ্ঠানে মশিহর সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ক্ষতিগ্রস্ত ১৫ বিনিয়োগকারীকে ইনভেস্টমেন্ট প্রটেকশন ফান্ড থেকে পাঁচ লাখ টাকা করে চেক দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের পাওনা অর্থের একটি অংশ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
ডিএসইর পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশের পাওনা অর্থ তুলনামূলকভাবে কম। ডিএসইর ৯৬ শতাংশ বিনিয়োগকারীর পাওনা অর্থের পরিমাণ ৫ লাখ টাকার নিচে। ফলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা ও তাদের পাওনা অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
ইনভেস্টমেন্ট প্রটেকশন ফান্ডের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের অনিয়মের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য নিয়ন্ত্রক কাঠামো ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে।
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের ব্যাক-অফিস ব্যবস্থাপনা, গ্রাহকের অর্থ ও সিকিউরিটিজের হিসাব এবং আদেশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনিয়মের সুযোগ থাকলে ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন বিনিয়োগকারীরা।
এ কারণে ব্যাক-অফিস সফটওয়্যারকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি ওএমএস ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীর দেওয়া আদেশ থেকে শুরু করে লেনদেন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
বিএসইসি মনে করছে, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো গেলে অনিয়মের সুযোগ কমবে এবং কোনো ধরনের অসংগতি দেখা দিলে তা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে বিএসইসি ও ডিএসইর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
The post ‘পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাৎ করতে দেওয়া হবে না’ first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.





