প্রধান ফটকে পিচ বানিয়ে প্রতীকী ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ও সিনেমা প্রদর্শন

চুয়েটে ৭ম দিনে গড়ালো আন্দোলন, সর্বাত্মক শাটডাউনে স্থবিরতা

  • সাবেক উপাচার্য ড. সায়েমের পুনর্বহালের দাবিতে ৭ম দিনের মতো সর্বাত্মক শাটডাউন
  • শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতিতে থমকে আছে অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজ
  • প্রধান ফটকে '৫৬ বল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট', শ্বেতশাড়িতে গণসাক্ষ্য গ্রহণ ও মেইন গেটে রাতভর অবস্থান

চুয়েটে ৭ম দিনে গড়ালো আন্দোলন, সর্বাত্মক শাটডাউনে স্থবিরতা
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:২৯  

চট্টগ্রাম, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর): আধুনিক অ্যাকাডেমিক নেটওয়ার্কিং, ক্যাম্পাস অটোমেশন ও ডিজিটাইজেশনের গতি ধরে রাখার তাগিদ দিয়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন আজ সপ্তম দিনে গড়িয়েছে। শিক্ষার্থীদের ডাকা 'কমপ্লিট শাটডাউন' ও শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাত্মতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ক্যাম্পাসে কোনো প্রকার ক্লাস বা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি, ফলে স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকমণ্ডলী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি পালন করায় চুয়েটের সার্বিক প্রশাসনিক অবকাঠামোও প্রায় স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। ভিসির কার্যালয়ে ঝুলছে তালা, যাতে সাঁটানো হয়েছে—‘এই তালা শুধুমাত্র সায়েম স্যার খুলতে পারবেন।’ নতুন উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশ ঠেকাতে শিক্ষার্থীরা গভীর রাত পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে পাহারা দিচ্ছেন এবং গান-বাজনা, কার্ড খেলা কিংবা ল্যাপটপে অনলাইন ই-ফুটবল খেলে সময় কাটাচ্ছেন।

আন্দোলনের অংশ হিসেবে ২৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে কৃত্রিম পিচ তৈরি করে ‘৫৬ বল শর্ট পিচ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট’ পরিচালনা করেন আন্দোলনকারীরা। পাশাপাশি অধ্যাপক ড. সায়েমের কর্মকালের সাফল্য তুলে ধরে একটি শ্বেতশাড়িতে ‘গণসাক্ষ্য’ গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকির প্রতিবাদে দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয় এবং বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বড় পর্দায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

এর আগে রবিবারেও আবাসিক হল থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত লাল প্ল্যাকার্ড হাতে ‘৫৬?’ প্রতীকী প্রশ্নযাত্রা, ‘৫৬ কর্নার’ স্থাপনা এবং মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য সরানোর ঘটনার ওপর নাটক প্রদর্শন করা হয়। চুয়েটের শ্রেণিকক্ষগুলো সম্পূর্ণ ফাঁকা পড়ে থাকলেও সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত এই সর্বাত্মক আন্দোলন থামবে না।

//ডিবিটেক/তানভির আহমদ/এমআইএস/এসএমই//