বিভাগ বদল, তাৎক্ষণিক যোগদানের নির্দেশ

বিটিআরসিতে একসঙ্গে ১৭ কর্মকর্তার পদায়ন

  • বিটিআরসির ১৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিভিন্ন বিভাগে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে
  • পরিচালক থেকে উপসহকারী পরিচালক—বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ পুনর্বিন্যাসে রয়েছেন
  • নতুন কর্মস্থলে অবিলম্বে যোগদানের নির্দেশ দিয়েছে

বিটিআরসিতে একসঙ্গে ১৭ কর্মকর্তার পদায়ন
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৪০  

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) একসঙ্গে ১৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে পদায়ন ও বদলি করা হয়েছে। পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব পদায়ন কার্যকর থাকবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বদলিকৃত বিভাগ, শাখা বা দপ্তরে অনতিবিলম্বে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিটিআরসির ২৮ সেপ্টেম্বর, সোমাবার অফিস আদেশে এই পুনর্বিন্যাসের কথা জানানো হয়। আদেশে বলা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এটি জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

নতুন পদায়নে কমিশনের সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস, অর্থ-হিসাব ও রাজস্ব, প্রশাসন, প্রকৌশল ও অপারেশন্স, স্পেকট্রাম এবং লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগের মধ্যে বড় ধরনের জনবল পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালক, উপপরিচালক, সিনিয়র সহকারী পরিচালক, সহকারী পরিচালক ও উপসহকারী পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তারা রয়েছেন।

যেভাবে বদলেছে দায়িত্ব

অফিস আদেশ অনুযায়ী, আফতাব মোঃ রাশেদুল ওয়াদুদ, পরিচালক, সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগ থেকে অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব বিভাগে পদায়ন পেয়েছেন। একই পর্যায়ের সাজেদা পারভীন, পরিচালক, অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব বিভাগ থেকে সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগে গেছেন।

জিয়ান শাহ্ কবির, পরিচালক, প্রশাসন বিভাগ থেকে প্রকৌশল ও অপারেশন্স বিভাগে পদায়ন পেয়েছেন।

উপপরিচালক পর্যায়ে তৌহিদুর নাহার সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগ থেকে অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব বিভাগে; মোঃ জাকির হোসেন খাঁন এবং মোঃ আসিফ ওয়াহিদ অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব বিভাগ থেকে স্পেকট্রাম বিভাগে; মোঃ আসফাক আহমেদ লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগ থেকে স্পেকট্রাম বিভাগে এবং মোঃ আমান উল্লাহ লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগ থেকে প্রশাসন বিভাগে পদায়ন পেয়েছেন।

সিনিয়র সহকারী পরিচালক পর্যায়ে প্রিয়াংকা দাস এবং মোঃ মশিউর রহমান সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগ থেকে প্রশাসন বিভাগে গেছেন। মোঃ জাহাঙ্গীর আলম লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগ থেকে স্পেকট্রাম বিভাগে এবং ইয়াসমিন সুলতানা স্পেকট্রাম বিভাগ থেকে লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগে পদায়ন পেয়েছেন।

এ ছাড়া আমিনা পারভীন, সিনিয়র সহকারী পরিচালক, প্রকৌশল ও অপারেশন্স বিভাগ থেকে প্রশাসন বিভাগে পদায়ন পেয়েছেন। বিটিআরসির কর্মকর্তাদের প্রকাশিত তালিকায় আমিনা পারভীনকে প্রকৌশল ও অপারেশন্স বিভাগের সহকারী পরিচালক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল; নতুন অফিস আদেশে তার পদমর্যাদা সিনিয়র সহকারী পরিচালক হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।

সহকারী পরিচালক মাসুদ আল ইসলাম প্রশাসন বিভাগ থেকে সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগে পদায়ন পেয়েছেন। বিটিআরসির কর্মকর্তাদের অনলাইন তালিকাতেও তাকে সহকারী পরিচালক হিসেবে পাওয়া যায়।

উপসহকারী পরিচালক পর্যায়ে মোঃ কামাল সিদ্দিকী স্পেকট্রাম বিভাগ থেকে প্রশাসন বিভাগে, শেখ তানবীর আহমদ প্রকৌশল ও অপারেশন্স বিভাগ থেকে সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগে এবং মোঃ রাকিব হাসান সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগ থেকে প্রকৌশল ও অপারেশন্স বিভাগে পদায়ন পেয়েছেন। বিটিআরসির প্রকাশিত কর্মকর্তাদের তালিকায় কামাল সিদ্দিকী ও শেখ তানবীর আহমদের পদও উপসহকারী পরিচালক হিসেবে উল্লেখ আছে।

প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণে বিভাগগুলোর ভূমিকা

এই পদায়নের গুরুত্ব শুধু প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসে সীমাবদ্ধ নয়। বিটিআরসির বিভিন্ন কারিগরি ও নিয়ন্ত্রক কার্যক্রম এসব বিভাগের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কমিশনের প্রকাশিত কর্মকর্তাদের তালিকায় সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস, স্পেকট্রাম, প্রকৌশল ও অপারেশন্স এবং লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং—প্রতিটি বিভাগে পৃথক নেতৃত্ব ও কর্মকর্তা কাঠামো রয়েছে।

বিটিআরসির নাগরিক সনদেও সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগকে ট্যারিফ অনুমোদনসহ বিভিন্ন টেলিযোগাযোগ সেবা-সম্পর্কিত কাজের সঙ্গে যুক্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে। একই সনদে কমিশনের বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নাম ও যোগাযোগের তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে।

আইনগতভাবেও কমিশনের সাংগঠনিক কাঠামোর প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মকর্তা নিয়োগ ও বদলির ক্ষমতা রয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন, ২০০১-এর ৬(৩)(খ) অনুযায়ী কমিশন প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক এককে বিভাজন, ওই এককের কার্যাবলি নির্ধারণ এবং কর্মচারীদের যথাযথ পদে নিয়োগ ও বদলি করতে পারে। একই আইনে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ও সেবা নিয়ন্ত্রণ কমিশনের অন্যতম দায়িত্ব হিসেবে নির্ধারিত রয়েছে।

২০২৬ সালের সংশোধনী আইনেও টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন প্রযুক্তির উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত পরিবর্তন পর্যবেক্ষণের মতো বিষয়কে কমিশনের কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

ফলে ১৭ কর্মকর্তার এই পুনর্বিন্যাসকে কমিশনের প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা, টেলিযোগাযোগ সেবা, প্রকৌশল কার্যক্রম, লাইসেন্সিং, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কাজের মানবসম্পদ পুনর্বণ্টন হিসেবেও দেখা যাচ্ছে। তবে অফিস আদেশে এই পুনর্বিন্যাসের নির্দিষ্ট কারণ বা কোনো বিভাগে কাজের চাপ বৃদ্ধির ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তাই এর পেছনে কোনো বিশেষ নীতিগত বা সাংগঠনিক কারণ রয়েছে—এমন দাবি করার মতো তথ্য অফিস আদেশে নেই।

১৭ কর্মকর্তার পদায়ন এক নজরে

ক্রম কর্মকর্তা বর্তমান বিভাগ নতুন বিভাগ
১ আফতাব মোঃ রাশেদুল ওয়াদুদ সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব
২ সাজেদা পারভীন অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস
৩ জিয়ান শাহ্ কবির প্রশাসন প্রকৌশল ও অপারেশন্স
৪ তৌহিদুর নাহার সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব
৫ মোঃ জাকির হোসেন খাঁন অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব স্পেকট্রাম
৬ মোঃ আসিফ ওয়াহিদ অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব স্পেকট্রাম
৭ মোঃ আসফাক আহমেদ লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং স্পেকট্রাম
৮ মোঃ আমান উল্লাহ লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং প্রশাসন
৯ প্রিয়াংকা দাস সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস প্রশাসন
১০ মোঃ মশিউর রহমান সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস প্রশাসন
১১ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং স্পেকট্রাম
১২ ইয়াসমিন সুলতানা স্পেকট্রাম লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং
১৩ আমিনা পারভীন প্রকৌশল ও অপারেশন্স প্রশাসন
১৪ মাসুদ আল ইসলাম প্রশাসন সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস
১৫ মোঃ কামাল সিদ্দিকী স্পেকট্রাম প্রশাসন
১৬ শেখ তানবীর আহমদ প্রকৌশল ও অপারেশন্স সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস
১৭ মোঃ রাকিব হাসান সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস প্রকৌশল ও অপারেশন্স

//ডিবিটেক/এসএমই/এমআইএস/এসএমপি//