যুদ্ধের প্রভাবে সার্কিট বোর্ডের বাজারে অস্থিরতা

যুদ্ধের প্রভাবে সার্কিট বোর্ডের বাজারে অস্থিরতা
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ২১:২৯  

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ইরান যুদ্ধ কেবল জ্বালানি তেল নয়, বরং বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি পণ্যের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত ‘প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড’ বা পিসিবি-র সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। স্মার্টফোন, কম্পিউটার থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সার্ভার—সবকিছুর মূল ভিত্তি এই সার্কিট বোর্ডের দাম মাত্র এক মাসেই প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই আশঙ্কাজনক চিত্র উঠে এসেছে।

কেন এই সংকট?
এপ্রিলের শুরুতে সৌদি আরবের জুবাইল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে ইরানের হামলার পর পিসিবি তৈরির প্রধান কাঁচামাল ‘হাই-পিউরিটি পিপিই রেজিন’-এর উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ পিপিই রেজিন সরবরাহ করে সাবিক, যাদের উৎপাদন কেন্দ্রটি জুবাইলেই অবস্থিত। যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এই কাঁচামাল এখন বিশ্ববাজারে দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে।

দাম বৃদ্ধির মূল কারণসমূহ:
    কাঁচামালের অভাব: পিসিবি তৈরির রেজিনের পাশাপাশি কপার ফয়েল বা তামার পাতের দামও এ বছর ৩০ শতাংশ বেড়েছে। পিসিবি তৈরির খরচের প্রায় ৬০ শতাংশই যায় এই তামার পেছনে।

    এআই সার্ভারের চাহিদা: গত বছরের শেষ দিক থেকেই এআই সার্ভারের জন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পিসিবি-র চাহিদা বাড়ছে। কাঁচামাল সংকটের মধ্যেই এই বাড়তি চাহিদা দামকে আরও উসকে দিয়েছে।

    সরবরাহ বিলম্ব: দক্ষিণ কোরিয়ার পিসিবি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘দায়েডুক ইলেকট্রনিক্স’ জানিয়েছে, আগে যেখানে রাসায়নিক উপাদান পেতে ৩ সপ্তাহ সময় লাগত, এখন সেখানে ১৫ সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

প্রভাবিত হচ্ছে যারা:
স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স, এসকে হাইনিক্স এবং এএমডি-র মতো বড় বড় টেক জায়ান্টদের সার্কিট বোর্ড সরবরাহ করে দায়েডুক। এছাড়া এনভিডিয়ার পিসিবি সরবরাহকারী চীনা প্রতিষ্ঠান ‘ভিক্টরি জায়ান্ট টেকনোলজি’ সতর্ক করেছে যে, রেজিন ও তামার দাম বাড়লে এন্ড-ইউজার বা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য ডিভাইসের দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় থাকবে না।

বর্তমানে সাধারণ মাল্টি-লেয়ার পিসিবি-র প্রতি বর্গমিটারের দাম যেখানে ২০৪ ডলার, সেখানে এআই সার্ভারের জন্য প্রয়োজনীয় হাই-এন্ড মডেলের দাম ১,৯৭৫ ডলার ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বাজার বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান প্রিজমার্কের মতে, ২০২৬ সাল নাগাদ বৈশ্বিক পিসিবি শিল্পের বাজার ৯৫.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা সেই লক্ষ্যমাত্রাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ডিবিটেক/বিএমটি  ।  সূত্র: রয়টার্স