ডেনমার্কের সহযোগিতায় ৫৫ কোটি ডলারের প্রকল্প; যুক্ত হচ্ছে ৮ লাখ টিইইউ সক্ষমতা

লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা

  • ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালসের ৫৫ কোটি মার্কিন ডলার (৫৫০ মিলিয়ন) বিনিয়োগে লালদিয়া টার্মিনালের গ্রাউন্ডব্রেকিং সম্পন্ন
  • ২০৩০ সালে চালু হলে যুক্ত হবে ৮ লাখের বেশি টিইইউ সক্ষমতা এবং ভিড়তে পারবে ৬ হাজার টিইইউ ধারণক্ষমতার বড় জাহাজ
  • ল্যান্ডলর্ড পোর্ট মডেলে নির্মিতব্য প্রথম পরিবেশবান্ধব গ্রিন টার্মিনাল, যার পূর্ণ মালিকানা থাকবে বাংলাদেশের

লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা
৩০ আগষ্ট, ২০২৬ ১৪:৪৩  

বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের সরকারি পর্যায়ের (G2G) অংশীদারত্বের আওতায় এবং ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (PPP) মডেলের মাধ্যমে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের আনুষ্ঠানিক গ্রাউন্ডব্রেকিং সম্পন্ন হয়েছে। ৩০ আগস্ট, ২০২৬ রবিবার চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় এপি মোলার-মার্স্ক গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ‘এপিএম টার্মিনালস লালদিয়া’ এই নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করে। ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের (৫৫ কোটি ডলার) এই মেগা প্রকল্পটিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ) এবং স্থানীয় অংশীদার কিউএনএস কনটেইনার সার্ভিসেস লিমিটেড যৌথভাবে কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রাবিউল আলম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, "এই প্রকল্পটি চট্টগ্রাম বন্দরকে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক লজিস্টিকস হাবে রূপান্তর করবে। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ৫০০ বিলিয়ন ডলার থেকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার যে জাতীয় লক্ষ্য রয়েছে, তা অর্জনে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।" তিনি পুনর্বাসন ও স্থানীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়ার ওপর জোর দেন।

নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রাবিউল আলম জানান, দেশের প্রায় ৯২ শতাংশ বৈদেশিক বাণিজ্য চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। নতুন এ টার্মিনালের মাধ্যমে বাংলাদেশ আধুনিক টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তির যুগে প্রবেশ করল। ল্যান্ডলর্ড পোর্ট মডেলে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পে টার্মিনালের যাবতীয় সম্পদের মূল মালিকানা বাংলাদেশের হাতেই থাকবে। ২০৩০ সালে চালু হওয়ার পর এটি বন্দরের সক্ষমতায় বছরে অতিরিক্ত ৮ লাখের বেশি টিইইউ (TEUs) হ্যান্ডলিং যুক্ত করবে। বর্ধিত জেটি ও গভীর ড্রাফটের কারণে এখানে সরাসরি সর্বোচ্চ ৬ হাজার টিইইউ ধারণক্ষমতার কনটেইনার জাহাজ ভিড়তে পারবে, যা বর্তমানে ২ হাজার ৮০০ টিইইউর মধ্যে সীমাবদ্ধ।

এপিএম টার্মিনালস লালদিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রোমেশ ডেভিড এবং ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার জানান, টার্মিনালটিতে সৌরবিদ্যুৎ, বৈদ্যুতিক কার্গো হ্যান্ডলিং সরঞ্জাম ও শোর-পাওয়ার ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে, যা গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশবান্ধব গ্রিন পোর্টের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করবে। এতে নির্মাণপর্বে ১ হাজার এবং পরিচালনপর্বে ৫ শতাধিক সরাসরি কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান, এপিএম টার্মিনালস বিভির গ্লোবাল হেড জ্যাক ক্রেগ, নৌপরিবহন সচিব জাকারিয়া এবং এপি মোলার সিঙ্গাপুরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেনে পিল পেডারসেন।
//ডিবিটেক/ এএইচকে/এমআইএসটি//