প্রকৌশল কূটনীতি ও প্রযুক্তিতে বুয়েটের নতুন দিগন্ত
পানি, বিদ্যুৎ ও সাইবার নিরাপত্তায় ৯০ দিনের কর্মপথ নির্ধারণ করল বুয়েট
- তথ্য, প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে গঙ্গার পানি, বিদ্যুৎ এবং সাইবার নিরাপত্তার জটিল সংকট নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে বুয়েট।
- বুয়েট ও টাফটস ইউনিভার্সিটির আয়োজনে ‘ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোম্যাসি ওয়ার্কশপ ২০২৬’-এ ৯০ দিনের কর্মপথ ঘোষণা করা হয়।
- দেশীয় সাইবার নিরাপত্তা শিল্পের বিকাশ এবং আঞ্চলিক জ্বালানি ও পানি কূটনীতিতে বিজ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিনির্ভর তথ্যের সমন্বয়ে দেশের কৌশলগত সংকট সমাধানের লক্ষ্য নিয়ে এক নতুন ধারার সূচনা করেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যুৎ সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং দেশীয় সাইবার নিরাপত্তা শিল্পের বিকাশ—এই তিনটি ভিন্ন ও জটিল খাতের সমস্যা সমাধানে প্রচলিত আলোচনার বাইরে গিয়ে প্রযুক্তি ও সাইবার ভিত্তিক বাস্তব কর্মপথ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ‘ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোম্যাসি’ বা প্রকৌশল কূটনীতি নামের এই আধুনিক কাঠামোর আওতায় সমস্যা চিহ্নিতকরণের পাশাপাশি কার সঙ্গে আলোচনা করতে হবে, কী ধরনের বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রয়োজন এবং কোন পদক্ষেপ আগামী ৯০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব—এসব প্রযুক্তিগত বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
বুয়েটের সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট (সিইআরএম) ও যুক্তরাষ্ট্রের টাফটস ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে ২৭ আগস্ট, বৃহস্পতিবার ঢাকায় শেষ হওয়া তিন দিনব্যাপী ‘ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোম্যাসি ওয়ার্কশপ ২০২৬’-এ এই কর্মপথ চূড়ান্ত করা হয়। ২৫ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত আয়োজিত এই কর্মশালায় সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রযুক্তি শিল্পখাত, নাগরিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা অংশ নেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের প্রাথমিক সহায়তায় অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নীতিগত সুপারিশের পাশাপাশি তথ্য, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, স্বার্থের সংঘাত ও প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতার বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের মাধ্যমেই এই বাস্তবায়নযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।
গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে প্রথাগত রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি নদী প্রবাহের পরিমাপযোগ্য ডাটা ও বৈজ্ঞানিক যুক্তিকে সামনে রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের পানির প্রকৃত চাহিদা, পরিবেশ ও কৃষির প্রয়োজন এবং নদীর বৈজ্ঞানিক ডাটা একত্রিত করতে আগামী ৯০ দিনের বিশেষ প্রযুক্তিগত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক বিদ্যুৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভারতের পাশাপাশি মিয়ানমার ও বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে ডিজিটাল গ্রিড কোড সমন্বয় ও পাওয়ার সেক্টরের তথ্য আদান-প্রদানের সমীক্ষা পরিচালনার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সাইবার নিরাপত্তা খাতে স্থানীয় প্রযুক্তিপণ্য ও স্টার্টআপের প্রতি আস্থার সংকট কাটাতে ব্যাংক, সাইবার নিরাপত্তা স্টার্টআপ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ে একটি অনলাইন সাইবার হেল্প ও সহযোগিতা প্ল্যাটফর্ম তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশীয় প্রযুক্তির মান ও কার্যকারিতা বিচারে একটি বিশ্বাসযোগ্য মূল্যায়ন কাঠামো ও ‘অ্যাঙ্কার পার্টনার’ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে বিদেশী প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশেই নিরাপদ সাইবার সমাধান নিশ্চিত করা যায়।
বুয়েট সূত্রে জানা গেছে, এই উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হলো বুয়েটের নেতৃত্বে একটি স্থায়ী ‘ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোম্যাসি কেন্দ্র’ গড়ে তোলা। এটি আগামী দিনে প্রযুক্তিগত সহায়তা, সাইবার নিরাপত্তা মানোন্নয়ন ও ডাটাভিত্তিক নীতি নির্ধারণে কাজ করবে। আগামী ৯০ দিনের কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নই প্রমাণ করবে কীভাবে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিদ্যা কূটনীতির টেবিলকে নতুন শক্তিতে রূপ দিতে পারে।
//ডিবিটেক/এমএমআই/ এসএমই/এমআইএস//





