জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শিক্ষার্থী রুদ্র সেন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি

সাবেক প্রক্টরকে ক্যাম্পাসে দেখা যাওয়ায় শাবিপ্রবিতে ক্ষোভ

রুদ্র সেন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি শাবিপ্রবির সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীকে বিভাগীয় অনুষ্ঠানে দেখা যাওয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের অবস্থানও তুলে ধরা হয়েছে।

সাবেক প্রক্টরকে ক্যাম্পাসে দেখা যাওয়ায় শাবিপ্রবিতে ক্ষোভ
২৩ জুন, ২০২৬ ০৯:৫৯  

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী রুদ্র সেন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর, ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স (এফইএস) বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীকে ক্যাম্পাসে দেখা যাওয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

রোববার (২১ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা যায় অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীকে। এ ঘটনায় জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় পানিতে পড়ে মারা যান শাবিপ্রবির কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রুদ্র সেন। এ ঘটনায় একই বছরের ১৯ আগস্ট সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৭৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন শাবিপ্রবির সাবেক সমন্বয়ক হাফিজুল ইসলাম। মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য, উপ-উপাচার্য এবং প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীকেও আসামি করা হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনের সময় সাবেক প্রক্টরের নির্দেশে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা পদত্যাগ করেন। এরপর দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার পর সম্প্রতি তাকে আবার ক্যাম্পাসে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের ভাষ্য, গত সপ্তাহে তিনি গ্র্যাজুয়েট স্কুল কমিটির (জিএসসি) একটি সভায় অংশ নেন। সর্বশেষ বিভাগীয় নবীনবরণ অনুষ্ঠানে নতুন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করতেও দেখা যায় তাকে।

শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব মো. রিয়াজ হোসেন (রিমন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান প্রশাসনের সময়ে আওয়ামী লীগপন্থিদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে। রুদ্র সেন হত্যা মামলার আসামিরা আগে ক্যাম্পাসে আসার সাহস না পেলেও এখন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন বলে তিনি দাবি করেন।

তবে ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেদোয়ান জানান, বিভাগের পক্ষ থেকে অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান চৌধুরীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তিনি নিজ উদ্যোগে অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে তিনি বিভাগে আসেননি বলেও জানান তিনি। শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণের বিষয়ে তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে বিভাগের সব শিক্ষক মঞ্চে উঠেছিলেন এবং তাদের সঙ্গে তিনিও মঞ্চে ওঠেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলামের ভাষ্য, বিষয়টি জানার পর তিনি ছাত্র উপদেষ্টা ও প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলেছেন। কেউ দোষী প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনোভাবেই তাকে সমর্থন করবে না। শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা থাকলে তাকে কোনো ধরনের প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে উপাচার্য জানান, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তাই বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

//ডিবিটেক/জেএনএনও/এমইউআইএম//