নতুন টেলিকম পলিসিতে বিদেশি বিনিয়োগ

ইন্টারনেটে ৮০% বিদেশি মূলধনের প্রস্তাব

  • নতুন টেলিযোগাযোগ নীতিমালার খসড়ায় মোবাইল অপারেটরে সর্বোচ্চ ৯০% ও ইন্টারনেটে ৮০% বিদেশি মূলধনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
  • জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতের শর্তে স্যাটেলাইট সেবায় ১০০% বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে।
  • একচেটিয়া আধিপত্য রোধে ‘সিগনিফিক্যান্ট মার্কেট পাওয়ার’ নিয়ম এবং লাইসেন্সিং ব্যবস্থাকে ৪টি শ্রেণিতে আনার প্রস্তাব রয়েছে।

ইন্টারনেটে ৮০% বিদেশি মূলধনের প্রস্তাব
২৩ আগষ্ট, ২০২৬ ০৪:২০  

দেড় দশক পর দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে ‘টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও লাইসেন্সিং পলিসি, ২০২৬’-এর খসড়ার ষষ্ঠ সংস্করণ। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে চূড়ান্ত হওয়া খসড়াটির বিভিন্ন আপত্তি নিরসন এবং প্রযুক্তি খাতকে অধিক প্রতিযোগিতাবান্ধব করতে বর্তমানে এটি পর্যালোচনা করছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। প্রস্তাবিত এই খসড়ায় বিভিন্ন স্তরে বিদেশি বিনিয়োগের সুনির্দিষ্ট সীমা ও লাইসেন্সিং কাঠামো সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন খসড়া অনুযায়ী, ইন্টারনেট সেবাদাতা (আইএসপি) প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা ৮০ শতাংশ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে সম্পূর্ণ একক নিয়ন্ত্রণ বা শতভাগ বিদেশি মালিকানা যাতে তৈরি না হয়, সেজন্য সর্বনিম্ন ২০ শতাংশ দেশীয় বা স্থানীয় মালিকানা থাকা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এছাড়া যৌথ অবকাঠামো বা শেয়ার্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচারে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক কানেক্টিভিটি খাতে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সর্বোচ্চ ৪৯ শতাংশ বিদেশি মূলধনের সুযোগ রাখা হতে পারে, যাতে অন্তত ৫১ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ দেশীয় অংশীদারদের হাতে থাকে। মহাকাশ ও স্যাটেলাইট সেবায় নিরাপত্তা নিশ্চিত সাপেক্ষে ১০০ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ইন্টারনেট সেবাদাতাদের পাশাপাশি মোবাইল অপারেটর খাতেও বিদেশি মূলধনের সীমা সংশোধনের প্রস্তাব এসেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ক্যাপিং বা সীমা সর্বোচ্চ ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত প্রস্তাব করা হলেও, বর্তমান প্রস্তাবে মোবাইল খাতে সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হচ্ছে। তবে এতে অন্তত ১০ শতাংশ দেশীয় বা স্থানীয় মালিকানা থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই বিধানটি চূড়ান্ত হলে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত না থাকা অপারেটর বাংলালিংককে দেশীয় বাজারে অন্তত ১০ শতাংশ শেয়ার ছাড়তে হতে পারে। বর্তমানে গ্রামীণফোনের ৪৪.২ শতাংশ এবং রবির ১০ শতাংশ শেয়ার দেশীয় বিনিয়োগকারী ও পুঁজিবাজারে বিদ্যমান রয়েছে।

এদিকে নীতিমালায় প্রস্তাবিত উচ্চ বিদেশি বিনিয়োগ সীমা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) মহাসচিব নাজমুল করিম ভূঁইয়া মত প্রকাশ করে বলেন, ৪৯ শতাংশের ওপরে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হলে দেশীয় উদ্যোক্তারা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বেন এবং পুরো ব্রডব্যান্ড খাত বিদেশিদের হাতে চলে যেতে পারে। তাই ৮০ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগের এ সুযোগ দেশীয় ব্যবসায়ীদের জন্য আশঙ্কাজনক।

এর আগে বিদেশি মালিকানা সীমিত করার উদ্যোগে উদ্বেগ প্রকাশ করে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টাকে চিঠি দিয়েছিল টেলিনর, ভিওন ও আজিয়াটা গ্রুপ। নতুন খসড়ায় বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য রোধে ‘সিগনিফিক্যান্ট মার্কেট পাওয়ার’ (এসএমপি) কড়াকড়িসহ সকল লাইসেন্সকে প্রধান চারটি ক্যাটাগরিতে আনার কথা বলা হয়েছে। সাবমেরিন ও টেরিস্ট্রিয়াল কানেক্টিভিটির জন্য ‘আইসিএসপি’, টাওয়ারের জন্য ‘টিসিএসপি’ এবং স্যাটেলাইটের জন্য ‘এনটিএনএসপি’ লাইসেন্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিটিআরসি কর্তৃক খসড়াটি চূড়ান্ত অনুমোদনের পর মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
//ডিবিটেক/আইএইচ/এসএমই//