মহাশূন্যে মহাযুদ্ধের আশঙ্কা: ঝুঁকিতে কৃত্রিম উপগ্রহ

মহাশূন্যে মহাযুদ্ধের আশঙ্কা: ঝুঁকিতে কৃত্রিম উপগ্রহ
৫ আগষ্ট, ২০২৬ ১৯:৫৫  

আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এখন আর শুধু বন্দুক বা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জনই শেষ কথা নয়। একুশ শতকে সামরিক সংঘাতের সূচনা হতে পারে অলক্ষ্যে, মহাকাশে ভাসমান কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটে একটি ক্ষতিকর সাইবার কোড পাঠানোর মাধ্যমে। 

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে ইউরোপজুড়ে একটি বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সাইবার হামলা চালানো হয়। উদ্দেশ্য ছিল ইউক্রেনের সামরিক ও সরকারি যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল করে দেওয়া। বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬২৬ বিলিয়ন ডলারের মহাকাশ অর্থনীতির নিরাপত্তা এখন তাই বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

কক্ষপথে নজরদারি ও স্যাটেলাইট শিকার
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পৃথিবীর উচ্চ কক্ষপথে একাধিক দেশের স্যাটেলাইটের বিপজ্জনক কাছাকাছি চলে আসার ঘটনা বেড়েছে। বিশ্লেষকরা বিষয়টিকে মহাকাশের ‘ডগফাইট’ বা আকাশযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করছেন। রাশিয়ার ‘লুচ-১’ এবং ‘লুচ-২’ নামের দুটি উপগ্রহ ইউরোপের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ইন্টেলস্যাট ৩৯’-এর মতো স্যাটেলাইটগুলোর খুব কাছাকাছি গিয়ে অবস্থান নিয়েছে। 

পশ্চিমা গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, এর মাধ্যমে সংবেদনশীল তথ্য চুরি করা বা প্রয়োজনে স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়ার সক্ষমতা পরীক্ষা করছে দেশটি। 

মহাকাশে স্যাটেলাইটের সিগন্যাল অচল করে দেওয়ার জ্যামিং প্রযুক্তি ছাড়াও সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে স্যাটেলাইট ধ্বংসের সক্ষমতা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও ভারত প্রদর্শন করেছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে উপগ্রহ ধ্বংস করলে যে হাজার হাজার টুকরো মহাকাশ বর্জ্য তৈরি হয়, তা বছরের পর বছর কক্ষপথে ঘুরে অন্য সব কৃত্রিম উপগ্রহের জন্য স্থায়ী বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

পারমাণবিক আতঙ্ক ও আত্মরক্ষার কৌশল
মহাকাশে পারমাণবিক অস্ত্রের সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, রাশিয়া এমন একটি মহাকাশভিত্তিক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে যা কক্ষপথে পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম। এ ধরনের বিস্ফোরণে শক্তিশালী ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ বা পালস তৈরি হবে, যা মুহূর্তের মধ্যে স্পেসএক্সের ‘স্টারলিংক’-এর মতো বিশাল স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ককে অচল করে দিতে পারে। যদিও রাশিয়া এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে, তবে ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এই চরম ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে ফ্রান্স, জাপান, জার্মানি ও ভারতের মতো দেশগুলো এখন নিজেদের মূল্যবান স্যাটেলাইটগুলো সুরক্ষায় ছোট আকারের ‘গার্ডিয়ান’ বা রক্ষক স্যাটেলাইট তৈরির পরিকল্পনা করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাকাশ আর কেবল বৈজ্ঞানিক গবেষণার জায়গা নয়; বরং আধুনিক ভূরাজনীতি ও যুদ্ধের এক নতুন ও বিপজ্জনক ময়দানে পরিণত হয়েছে।

ডিবিটেক/বিএমটি