শ্বশুরের নতুন দায়িত্বে একদিকে আনন্দ অন্যদিকে তীব্র হতাশার কথা প্রকাশ
ফখরুলকে নিয়ে জামাতা ফাহামের স্ট্যাটাস
- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর আবেগঘন পোস্ট লিখেছেন জামাতা ফাহাম আবদুস সালাম
- শ্বশুরকে দায়িত্বশীল 'পরিবারের বড় ছেলে' এবং গণতন্ত্রের জন্য নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন
- বঙ্গভবনের ঘেরাটোপ ও বিএনপিতে তাঁর মতো নেতার শূন্যতা নিয়ে নিজের হতাশার কথা ব্যক্ত করেছেন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা বিষয়ে রাষ্ট্র ও সমাজ নিয়ে বুদ্ধিদীপ্ত মতামত দেওয়ার জন্য পরিচিত ফাহাম আবদুস সালাম। নতুন রাষ্ট্রপতির কন্যাকে বিয়ের পর থেকে রাজনীতির মাঠ থেকে পরিবারে কেমন দেখেছেন, তার বিস্তারিত তুলে ধরে একটি খোলামেলা পোস্ট শেয়ার করেছেন তিনি। তবে শ্বশুরের রাষ্ট্রপতি হওয়ার খবরে একদিকে যেমন তিনি আনন্দ প্রকাশ করেছেন, তেমনি দলের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একজন নেতার এই বিদায়ে প্রকাশ করেছেন গভীর হতাশা।
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হওয়ার পর নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেয়া অভিনন্দন বার্তায় তিনি লিখেছেন, "আমি তাঁকে চিনি ২২ বছর—খুব কাছ থেকেই দেখেছি। আমি ওনার মতো দায়িত্বশীল মানুষ জীবনে দেখেছি কেবল আর একজন: আমার ক্যাডেট কলেজের শিক্ষক ছাদিক স্যারকে। যারা ছাদিক স্যারকে চেনেন, কেবল তারাই বুঝবেন এই বারটা কতটুকু ওপরে।"
ফাহাম আবদুস সালাম আরও লিখেছেন, "আলমগীর সাহেবের জীবনে মূলত একটাই রোল। একেক সময় একেকভাবে প্রতিভাত হয়েছে। কিন্তু রোল একটাই—সেটা দায়িত্বশীল বড় ছেলের। তিনি এমন একজন বড় ভাই, যিনি ৭ ভাইবোনের জন্য ৬টা চকলেট পেলে নিজের ভাইবোনদের দিয়ে নিজে একটাও না নিয়ে খুব খুশি থাকবেন। ৬ ভাইবোনের জন্য তিনি যে দায়িত্বের সঙ্গে সঠিক কাজটা খুব দ্রুত করে ফেললেন, এটাই তাঁর সন্তুষ্টির মূল জায়গা। আবহমান বাংলাদেশের পরিবারের বড় ছেলে—যার কাঁধে অনেক দায়িত্ব।"
শ্বশুরের ব্যক্তিগত জীবন ও কাজের অভ্যাসের বর্ণনায় তিনি লিখেছেন, "একটি ওল্ড ওয়ার্ল্ড ভ্যালু—বিশেষ করে আমেরিকায় ও ক্রিশ্চান পৃথিবীতে ভীষণ জনপ্রিয় ও কার্যকর: ‘মেক ইয়োরসেলফ ইউজফুল’। এই গুণটা ওনার মধ্যে প্রকট বললে কম বলা হবে। একেবারেই বসে থাকতে পারেন না। যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে কাজে লাগাতে চান। ক্যানবেরায় ছুটি কাটাতে গেলে ঘর ঝাড়ু দেওয়া শুরু করে দেন। কারণ তিনি বসে থাকতে পারেন না। আমার মনে হয় ওনার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি এই গুণটা ও তাঁর ভদ্র আচরণ।"
আন্দোলন ও বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি মির্জা ফখরুলের নিবেদনের কথা স্মরণ করে তিনি লিখেছেন, "৫ আগস্টের পর সিঙ্গাপুরে উনি একদিন ম্যান-টু-ম্যান একা আমাকে বলছিলেন যে—আমার জীবনের কাজ হয়ে গেছে, ম্যাডামকে বের করে আনছি। আর ইলেকশন হলে দেশটাও গণতন্ত্রে উঠে যাবে, আই অ্যাম স্যাটিসফাইড। বহুবার তিনি আক্ষেপ করে বলেছেন যে ম্যাডামকে বের করতে না পারা তাঁর নিজের ব্যর্থতা। আমাদের পরিবারে ম্যাডামের অবস্থান কোনো পলিটিক্যাল লিডারের মতো না। সেদিন আমার মনে হয়েছিল যে ম্যাডাম খুবই সৌভাগ্যবান একজন নেতা। বাংলাদেশে কোনো পলিটিক্যাল লিডারের মির্জা ফখরুলের মতো সাহাবি পাওয়া কঠিন, যে নিজের ভালো ও খারাপ—দুই সময়েই লিডারকে প্রথমে মনে করে এবং লিডারের জন্য সবকিছু করতে রাজি আছে। আমি নিশ্চিত না যে তারেক রহমান এরকম একজন সাহাবি পাবেন। কেন যেন শিক্ষিত লোকেরা শুধুই বেঈমানি ও নিজের স্বার্থ দেখে।"
বিএনপিতে তাঁর অবস্থান ও দেশের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তিনি লিখেছেন, "বিএনপির অনেক তরুণ নেতাকর্মী মির্জা ফখরুলকে ‘বাংলাদেশের মহাসচিব’ বলেন। এই কথাটার মাঝে একটা সত্যতা আছে। তিনি আসলেই বিএনপির আগে বাংলাদেশকে দেখতে পান। তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি আপনার পছন্দ নাও হতে পারে, কিন্তু তিনি আসলেই যা বলেন—সেটাই বিশ্বাস করেন এবং সেটাই প্র্যাকটিস করতে চেষ্টা করেন। বাংলাদেশে কোনো নেতার পক্ষেই শতভাগ কিংবা উঁচুদরের ডেমোক্রেসি চর্চা করা সম্ভব না, কারণ আমাদের সোসাইটি এখনো গণতন্ত্রের জন্য প্রস্তুত না। কিন্তু তিনি এমন একজন মানুষ, যিনি সারাজীবন চেষ্টা করে যাচ্ছেন।"
রাষ্ট্রপতি পদে তাঁর যাওয়া নিয়ে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, "ওনার প্রেসিডেন্ট হওয়াটা আমার জন্য একই সঙ্গে আনন্দের ও হতাশার। আনন্দের এজন্য যে প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য এমন একজন মানুষ দরকার, যাকে জাতি অভিভাবক হিসেবে দেখতে রাজি। আমার মনে হয় সঠিক মানুষটাকেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হয়েছে। আর হতাশার এ কারণে যে বিএনপিতে এরকম একজন মানুষের খুব দরকার, যে নিজের আগে দলের ও দেশের স্বার্থ দেখতে পারেন। এমন একজন মানুষের রিপ্লেসমেন্ট খুঁজে পাওয়া কঠিন। তাছাড়া বঙ্গভবনের ঘেরাটোপে দম বন্ধ হয়ে আসার কথা।"
পোস্টের শেষাংশে জনসমর্থনের কথা উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, "বহু মানুষ, এমনকি আওয়ামী লীগের সমর্থকরাও আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বহু মানুষ ভীষণ খুশি। আমার জীবদ্দশায় আর কোনো মেজোর পলিটিক্যাল লিডার এরকম জেনুইন বাইপার্টিজান সমর্থন পেয়েছেন বলে মনে হয় না। উনি কোনো মারদাঙ্গা রাজনীতিবিদ নন। খুব বেশি অর্থবিত্তেরও অধিকারী নন। তাঁর কোনো গ্রুপিং নাই বিএনপিতে। যারা মনে করেন পলিটিকসে সৎ ও ভালো লোকের কোনো খানা নাই—শাকিব খানের স্টাইলে তাদেরকে একটা কথাই শুধু বলবো: ‘ইউ আর রং—টোটালি রং!’ জায়গা আছে। আপনাদেরকে শুধু দম রাখতে হবে।"
//ডিবিটেক/এফবিপি/এমআইএস//





