এয়ারটেলের গ্রাহকরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সার্কেলে যুক্ত, বহাল থাকবে নম্বর, সেবা ও ব্যালান্স
রবি’র এয়ারটেল হলো ‘সার্কেল’
- এয়ারটেলের সব গ্রাহক স্বয়ংক্রিয়ভাবে সার্কেলের গ্রাহক হয়েছেন
- ০১৬ নম্বর, প্যাকেজ, ব্যালান্স ও সেবা আগের মতোই সচল থাকবে
- গেমিং, কনটেন্ট, এআই ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক ডিজিটাল সেবায় জোর দেবে রবি
ঢাকা, ১৭ আগস্ট ২০২৬, সোমবার: বাংলাদেশের তরুণ ও ডিজিটালভাবে সংযুক্ত জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে এয়ারটেলের পরিবর্তে ‘সার্কেল’ নামে নতুন যুব ব্র্যান্ড চালু করেছে রবি আজিয়াটা পিএলসি। রাজধানীর প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সোমবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন ব্র্যান্ডটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
রবির তথ্য অনুযায়ী, এয়ারটেলের সব গ্রাহক স্বয়ংক্রিয়ভাবে সার্কেলের গ্রাহকে পরিণত হবেন। তবে এ পরিবর্তনের ফলে গ্রাহকের বিদ্যমান ০১৬ নম্বর, সেবা, প্যাকেজ ও ব্যালান্সে কোনো পরিবর্তন হবে না। বিদ্যমান নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ব্যবহার করেই সার্কেল গ্রাহকদের সেবা দেওয়া হবে।
শুধু নাম পরিবর্তন নয়, ব্যবসায়িক কৌশলের পুনর্গঠন
রবি বলছে, এয়ারটেল থেকে সার্কেলে রূপান্তরকে কেবল ব্র্যান্ডের নাম পরিবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তরুণদের পরিবর্তিত জীবনধারা, ডিজিটাল অভ্যাস এবং প্রযুক্তিনির্ভর চাহিদাকে সামনে রেখে যুবভিত্তিক ব্যবসায়িক প্রস্তাবকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে।
নতুন ব্র্যান্ডে প্রচলিত ভয়েস ও ডেটা সংযোগের পাশাপাশি ডিজিটাল অভিজ্ঞতা, সাশ্রয়ী সেবা, ব্যক্তিকেন্দ্রিক অফার এবং উদীয়মান প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সার্কেলের ব্র্যান্ড দর্শন নির্ধারণ করা হয়েছে—‘রিয়েল কানেকশন। অলওয়েজ অন’। এর মাধ্যমে তরুণ গ্রাহকের জন্য নির্ভরযোগ্য ও সবসময় সক্রিয় একটি ডিজিটাল সঙ্গী হিসেবে ব্র্যান্ডটিকে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েছে রবি।
এয়ারটেলের উত্তরাধিকার, সার্কেলের নতুন পরিচয়
বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে তরুণদের জন্য স্বতন্ত্র মোবাইল ব্র্যান্ড হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে এয়ারটেল। ২০১৬ সালের নভেম্বরে এয়ারটেল বাংলাদেশ ও রবির একীভবনের পরও এয়ারটেল রবির অধীনে একটি পণ্যভিত্তিক ব্র্যান্ড হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।
এবার সেই যুবভিত্তিক অবস্থানকে নতুন পরিচয়ে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে সার্কেলের মাধ্যমে। রবির ভাষ্য অনুযায়ী, এয়ারটেলের বিদ্যমান গ্রাহকভিত্তি ও ব্র্যান্ড উত্তরাধিকারকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান তরুণ প্রজন্মের ডিজিটাল আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন পরিচয় তৈরি করা হচ্ছে।
রবির বিনিয়োগকারী তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির নিয়ন্ত্রক অংশীদারিত্বের ৬১ দশমিক ৮২ শতাংশ এশিয়াটা গ্রুপ বেরহাদ, ২৮ দশমিক ১৮ শতাংশ ভারতী এয়ারটেল সিঙ্গাপুর এবং বাকি ১০ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।
মোবাইল সংযোগ থেকে ডিজিটাল লাইফস্টাইল
সার্কেলের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে প্রচলিত ভয়েস ও ডেটা সংযোগের বাইরে তরুণদের ডিজিটাল জীবনযাত্রার সঙ্গে মোবাইল সেবাকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা।
নতুন ব্র্যান্ডের আওতায় গেমিং, বিনোদন, ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি, সামাজিক যোগাযোগ এবং অন্যান্য ডিজিটাল ইকোসিস্টেমকেন্দ্রিক সেবা ও অভিজ্ঞতা গুরুত্ব পাবে।
ব্যক্তিগত চাহিদার ভিত্তিতে আরও প্রাসঙ্গিক সেবা তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগও অনুসন্ধান করবে রবি।
ফলে সার্কেলের মাধ্যমে রবির যুবভিত্তিক ব্যবসায়িক কৌশল প্রচলিত মোবাইল অপারেটর মডেল থেকে ধীরে ধীরে একটি ডিজিটাল লাইফস্টাইল প্ল্যাটফর্মে রূপ নেওয়ার দিকে এগোচ্ছে।
বিদ্যমান গ্রাহকের কী পরিবর্তন হবে
ব্র্যান্ড পরিবর্তন হলেও বিদ্যমান গ্রাহকদের জন্য নেটওয়ার্ক বা আর্থিক হিসাবের ক্ষেত্রে মৌলিক কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না বলে জানিয়েছে রবি।
এয়ারটেল গ্রাহকদের ব্যবহৃত নেটওয়ার্ক অবকাঠামোই সার্কেল গ্রাহকদের সেবা দেবে। অর্থাৎ এটি নেটওয়ার্ক পরিবর্তন নয়; মূলত ব্র্যান্ড ও গ্রাহকের সামনে থাকা সেবার প্রস্তাবনার পরিবর্তন।
বিদ্যমান মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সেবা, ওয়ালেট, অ্যাকাউন্ট এবং লেনদেনের ইতিহাসও নিরাপদ ও সচল থাকবে। গ্রাহকদের বিদ্যমান আর্থিক তথ্যেও পরিবর্তন হবে না।
রবির গ্রাহকসেবা ব্যবস্থাও চালু থাকবে। কল সেন্টার, লাইভ চ্যাট ও সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে গ্রাহকসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
তরুণ গ্রাহককেন্দ্রিক নতুন বাজার কৌশল
বাংলাদেশের মোবাইল বাজারে ভয়েস কলের পাশাপাশি ডেটা, বিনোদন, গেমিং, ডিজিটাল কনটেন্ট, আর্থিক সেবা ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এখন গ্রাহক অভিজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিশেষ করে তরুণরা স্মার্টফোনকে শুধু যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন না। শিক্ষা, বিনোদন, গেমিং, সামাজিক যোগাযোগ, কনটেন্ট তৈরি ও বিভিন্ন অনলাইন সেবার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এই পরিবর্তিত বাজার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সার্কেলকে তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রবি। নতুন ব্র্যান্ডের মাধ্যমে তরুণদের জন্য সংযোগকে আরও সাশ্রয়ী, নিরবচ্ছিন্ন, ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও ডিজিটাল অভিজ্ঞতানির্ভর করার লক্ষ্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
রবির নতুন ডিজিটাল অধ্যায়
রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাতারা সার্কেলকে ব্র্যান্ডটির যাত্রার ‘পরবর্তী বিবর্তন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার বক্তব্যের মূল ভাবনা হলো—ডিজিটাল সংযোগের নতুন পর্যায়ে শুধু সংযুক্ত থাকাই যথেষ্ট নয়; সেই সংযোগকে আরও অর্থবহ করে তোলাই এখন মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম এবং চিফ কমার্শিয়াল অফিসার সিহাব উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
সব মিলিয়ে এয়ারটেল থেকে সার্কেলে রূপান্তরকে রবির জন্য শুধু একটি ব্র্যান্ড পরিবর্তন নয়, বরং বাংলাদেশের তরুণ গ্রাহকদের ঘিরে ডিজিটাল সেবা, ব্যক্তিকেন্দ্রিক অভিজ্ঞতা ও নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায়িক কৌশলের পুনর্গঠন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
//ডিবিটেক/জেডআরএফ/এমআইএস//





