ডিজিটাল ইনক্লুশনে ডিভাইস সহজলভ্য করার তাগিদ উপদেষ্টার
- ৫ হাজার টাকার মধ্যে ফিচার ফোন আনতে উদ্যোগ
- কিস্তি সুবিধায় ডিভাইস কেনার সুযোগ বাড়বে
- এসওএফ কাজে লাগিয়ে ডিজিটাল ইনক্লুশন বাড়ানোর পরিকল্পনা
ডিজিটাল ইনক্লুশন বাড়াতে শুধু স্পেকট্রামের দাম কমানো নয়, সাধারণ মানুষের কাছে সাশ্রয়ী ডিভাইস সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি ও টেলিকম উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। বিশেষ করে ফিচার ফোন ব্যবহারকারীদের স্মার্টফোন ও ডেটা নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে কম দামের ডিভাইস এবং কিস্তি সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের (টিআরএনবি) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
রেহান আসিফ আসাদ বলেন, দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষ এখনো ফিচার ফোন ব্যবহার করেন। তাদের ডিজিটাল অর্থনীতিতে যুক্ত করতে ৫ হাজার টাকার মধ্যে ফিচার ফোন বাজারে আনা এবং কিস্তি সুবিধা চালুর বিষয়ে মন্ত্রণালয় পর্যায়ে কাজ চলছে। এতে ডেটার ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি ডিজিটাল অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিও ত্বরান্বিত হবে।
তিনি বলেন, ডিজিটাল ইনক্লুশনের লক্ষ্য অর্জনে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে। ডিভাইসের দাম মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসার পাশাপাশি কর ও শুল্ক কাঠামোতেও প্রয়োজনীয় সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
উপদেষ্টা বলেন, কম দামের ফোনে কর, শুল্ক, ভ্যাটসহ সংশ্লিষ্ট ব্যয় শূন্যে নামিয়ে আনার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের জন্য ডিভাইস কেনা আরও সহজ হবে। শিল্প খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে ডিভাইসের দাম কমানো এবং ভয়েস ও ডেটা সেবার সঙ্গে ডিভাইস বান্ডেল করার সুযোগও কাজে লাগানো যেতে পারে।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু কম দামে ডিভাইস বাজারে আনা নয়; বরং ধীরে ধীরে বিপুলসংখ্যক মানুষকে ডেটা নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসা। আগামী ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে বড় একটি জনগোষ্ঠীকে ডিজিটাল সংযোগের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা গেলে তা দেশের অর্থনীতি ও সমাজে মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারে।
ডিজিটাল ইনক্লুশনের শেষ পর্যায়ের জনগোষ্ঠীকে যুক্ত করতে সার্ভিস অবলিগেশন ফান্ড (এসওএফ) ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেন রেহান আসিফ আসাদ। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইউনিভার্সাল ফান্ডের অর্থ নিম্নআয়ের মানুষের ফিচার ফোন থেকে স্মার্টফোনে রূপান্তর এবং পাবলিক ওয়াই-ফাই সম্প্রসারণে ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশেও এসওএফের অর্থ কীভাবে কাজে লাগিয়ে সমাজের সবাইকে ডিজিটাল অর্থনীতিতে যুক্ত করা যায়, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তার মতে, সব মানুষকে ডেটা সেবা ও স্মার্টফোনভিত্তিক সেবার আওতায় আনা গেলে এর সরাসরি অর্থনৈতিক প্রভাব পড়বে। সংযোগ ও ব্রডব্যান্ড ব্যবহারের বিস্তারের সঙ্গে জাতীয় উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের বড় একটি জনগোষ্ঠী এখনো ডিজিটাল সংযোগের বাইরে থাকায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করা গেলে অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক প্রভাব তৈরি হবে।
স্পেকট্রাম নবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে অযৌক্তিক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। নেটওয়ার্কের মান, ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক মডেল, সেবার সক্ষমতা এবং গ্রাহকের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সংশ্লিষ্টদের উদ্বিগ্ন না হয়ে বাস্তব পরিস্থিতি ও জনগণের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে দেশের ভবিষ্যৎ ডেটা চাহিদা ও টেলিকম অবকাঠামো নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় শিল্প খাতের পক্ষ থেকে ডেটা ট্রাফিকের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি মোকাবিলায় নেটওয়ার্ক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের (টিআরএনবি) সভাপতি এস এম মাসুদুজ্জামান রবিনের সভাপতিত্বে বৈঠকে বিটিআরসি চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী, এমটব সভাপতি ও রবির সিইও জিয়াদ সাতারা, গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান, বাংলালিংকের সিইও জোহান বুসে এবং টেলিকম বিশেষজ্ঞ টিআইএম নুরুল কবির উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া গ্রামীণফোনের চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ, বাংলালিংকের চিফ কর্পোরেট অফিসার তাইমুর রহমান, রবির কোম্পানি সচিব সাহেদ আলম, এমটব মহাসচিব মোঃ জুলফিকার ও ফিকির নির্বাহী পরিচালক নুরুল কবির বক্তব্য দেন।
স্বাগত বক্তব্যে টিআরএনবি সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন বলেন, সব অপারেটরের মধ্যে স্পেকট্রামের ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টন এবং ইজিএসএমের মতো বাস্তব সমস্যাগুলো তুলে ধরে সঠিক দিকনির্দেশনা পাওয়ার লক্ষ্যেই এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টেলিকম বিশেষজ্ঞ মুনির হাসান।
//ডিবিটেক/আইএইচ/এমএসআই//





