ইনফিনিক্স নোট ৬০ প্রো-তে যুক্ত হলো থ্রিডি আইসকোর ভেপার চেম্বার কুলিং সিস্টেম

ল্যাগমুক্ত গেমিং: ফোন ঠান্ডা রাখার নতুন কুলিং প্রযুক্তি

স্মার্টফোনের পারফরম্যান্স দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে থার্মাল ম্যানেজমেন্ট বা তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ভোক্তাদের এই চাহিদা মাথায় রেখে ইনফিনিক্স তাদের নতুন ‘নোট ৬০ প্রো’ মডেলে যুক্ত করেছে থ্রিডি আইসকোর ভেপার চেম্বার কুলিং সিস্টেম, যা টানা গেমিং বা ভারী কাজের সময়ও ফোনকে ল্যাগমুক্ত রাখবে। বাংলাদেশের বাজারে থাকা স্যামসাং, শাওমি, রিয়েলমি, ওয়ানপ্লাস, অপো ও ভিভোর বিভিন্ন মডেলেও রয়েছে একই ধরনের ভেপার চেম্বার কুলিং প্রযুক্তি।

ল্যাগমুক্ত গেমিং: ফোন ঠান্ডা রাখার নতুন কুলিং প্রযুক্তি
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১০:৫২  

স্মার্টফোনের পারফরম্যান্সের কথা উঠলেই সবার আগে চোখের সামনে ভেসে ওঠে এর প্রসেসর। তবে ফোনটি টানা কেমন পারফর্ম করবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে পর্দার আড়ালে থাকা একটি বিষয়ের ওপর। আর তা হলো থার্মাল ম্যানেজমেন্ট বা তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।

টানা গেমিং, ভিডিও এডিটিং কিংবা ব্যাকগ্রাউন্ডে ভারী সব অ্যাপ একসঙ্গে চালানোর সময় প্রসেসর গরম হয়ে যাওয়াই মূলত স্মুথ পারফরম্যান্সের প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।

স্মার্টফোনের ভেতরের তাপমাত্রা যখন অতিরিক্ত বেড়ে যায়, তখন হার্ডওয়্যারের সুরক্ষার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবেই প্রসেসরের গতি কমে যায়। প্রযুক্তি দুনিয়ায় একে বলা হয় থার্মাল থ্রটলিং। ফোনের সুরক্ষার জন্য এটি জরুরি হলেও, এর ফলে গেমের ফ্রেম রেট কমে যায়, স্পর্শের প্রতিক্রিয়া ধীর হয়ে পড়ে এবং ফোনটি ল্যাগ করতে শুরু করে। বর্তমান সময়ে মুঠোফোনে গেম খেলা ও কনটেন্ট তৈরির জনপ্রিয়তা যেভাবে বাড়ছে, তাতে স্মার্টফোন নির্মাতারাও এমন কুলিং ব্যবস্থা তৈরিতে জোর দিচ্ছেন, যা দীর্ঘক্ষণ ফোন ব্যবহারের পরও পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারে।

ভোক্তাদের এই চাহিদার কথা মাথায় রেখেই ইনফিনিক্স তাদের নতুন ফোন ‘ইনফিনিক্স নোট ৬০ প্রো’ মডেলে যুক্ত করেছে থ্রিডি আইসকোর ভেপার চেম্বার কুলিং সিস্টেম। প্রসেসরের চারপাশের তাপকে এক জায়গায় জমতে না দিয়ে এই ভেপার চেম্বার তা পুরো ফোনে ছড়িয়ে দেয়। ফলে দীর্ঘ সময় ব্যবহারের পরও ফোনের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। ইনফিনিক্সের লক্ষ্য শুধু কাগজে-কলমে বা তুলনামূলক পরীক্ষায় চমক দেখানো নয়, বরং ব্যবহারকারী যখন দীর্ঘক্ষণ ফোনটি ব্যবহার করবেন, তখন যেন তিনি নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স পান।

টানা গেম খেলার সময় এই প্রযুক্তির সুবিধা সবচেয়ে বেশি টের পাওয়া যায়। সাধারণ অনেক ফোনেই দেখা যায়, দীর্ঘক্ষণ খেলার পর তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফ্রেম ড্রপ হয় এবং ফোন ধীরগতির হয়ে যায়। তবে উন্নত তাপ নির্গমন ব্যবস্থার কারণে ইনফিনিক্স নোট ৬০ প্রো ফোনে অতিরিক্ত তাপ জমতে পারে না। ফলে ভারী গেম খেলা, একসঙ্গে একাধিক কাজ করা বা প্রসেসরের ওপর চাপ ফেলে এমন কাজগুলো দীর্ঘ সময় ধরে বেশ মসৃণভাবে করা যায়।

অন্যান্য ব্র্যান্ডের ফোনেও একই ধরনের প্রযুক্তি
কুলিং প্রযুক্তির এই গুরুত্ব কেবল ইনফিনিক্সেই সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশের বাজারে থাকা প্রায় সব শীর্ষ ব্র্যান্ডের ফোনেই এখন এ ধরনের ভেপার চেম্বার কুলিং সংযোজন করা হচ্ছে—

স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি এস২৫ আল্ট্রা মডেলে সবচেয়ে বড় আকারের ভেপার চেম্বারগুলোর একটি ব্যবহার করা হয়েছে, যা দীর্ঘক্ষণ গেম খেলার সময়েও নির্ভরযোগ্য তাপ নিয়ন্ত্রণ দেয়। শাওমির উচ্চমূল্যের মডেলগুলোতে, যেমন শাওমি ১৪টি প্রো-তে ব্যবহৃত হয়েছে ‘লুপ লিকুইডকুল’ প্রযুক্তি, যা কৌশিক প্রক্রিয়ায় তরল প্রবাহিত করে প্রচলিত ভেপার চেম্বারের তুলনায় দ্বিগুণ কার্যকারিতা দাবি করে।

ওয়ানপ্লাসের ১২ মডেলে রয়েছে ‘ডুয়াল ক্রায়ো ভেলোসিটি ভেপার চেম্বার’, যার তাপ নির্গমনের ক্ষেত্রফল প্রায় ৯ হাজার ১৪০ বর্গমিলিমিটার—ব্র্যান্ডটির ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড়। রিয়েলমির জিটি সিরিজ এবং সম্প্রতি বাজারে আসা রিয়েলমি পি৪এক্স মডেলে ব্যবহৃত হয়েছে স্টেইনলেস স্টিলের ভেপার চেম্বার, যার আকার প্রায় ৫ হাজার ৩০০ বর্গমিলিমিটার।

অপোর এ৬ প্রো মডেলে রয়েছে ‘সুপারকুল ভিসি সিস্টেম’, যাতে আছে ৪ হাজার ৩০০ বর্গমিলিমিটারের ভেপার চেম্বার ও সম্প্রসারিত গ্রাফাইট স্তর, আর ফ্ল্যাগশিপ ফাইন্ড এক্স৯ আল্ট্রা মডেলে এই চেম্বারের আকার আরও বড়। ভিভোর টি১ সিরিজ ও ওয়াই০৫ মডেলেও রয়েছে ভেপার চেম্বার কুলিং ব্যবস্থা, যা প্রসেসরের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে সক্ষম।

কুলিং প্রযুক্তির এই গুরুত্ব স্মার্টফোন ক্রেতাদের চিন্তাভাবনাতেও একটি বড় পরিবর্তন আনছে। এখন শুধু প্রসেসরের ক্ষমতা দেখেই মানুষ ফোন কেনে না, বরং সেই ক্ষমতা ফোনটি টানা কতক্ষণ ধরে রাখতে পারছে, তা-ও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো উষ্ণ আবহাওয়ার দেশে, যেখানে বাইরের গরমের কারণে ফোন এমনিতেই দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, সেখানে এমন কার্যকর কুলিং ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি।

ইনফিনিক্সের পক্ষ থেকে নোট ৬০ প্রো-র মতো ডিভাইসে এমন উন্নত থার্মাল সমাধান যুক্ত করার অর্থ হলো, তারা কেবল সাময়িক গতির চেয়ে ব্যবহারকারীর প্রতিদিনের নিরবচ্ছিন্ন অভিজ্ঞতার ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। স্মার্টফোনে যখন কাজের চাপ দিন দিন বাড়ছে, তখন ফোন ঠান্ডা রাখার এই প্রযুক্তি আর কেবল গেমারদের শখের বিষয় হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এটি এখন দ্রুতগতির, মসৃণ ও নির্ভরযোগ্য স্মার্টফোন অভিজ্ঞতার জন্য অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে।
//ডিবিটেক/ইএইচএম/এসএমআই//