দাম ১৮ হাজার ৯৯০ টাকা

দুই পর্দা ও ৭০০০ এমএএইচ ব্যাটারিতে আইটেল এ৩০০+

  • পেছনে ২.০১ ইঞ্চির ইন্টারঅ্যাকটিভ পর্দা, সামনে ১২০ হার্টজ ডিসপ্লে
  • ৭০০০ এমএএইচ ব্যাটারি, আইপি৬৫ সুরক্ষা ও সামরিক মানের স্থায়িত্ব
  • ৬ জিবি র‍্যাম ও ১২৮ জিবি স্টোরেজ সংস্করণের দাম ১৮,৯৯০ টাকা

দুই পর্দা ও ৭০০০ এমএএইচ ব্যাটারিতে আইটেল এ৩০০+
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:০০  

পেছনে ২.০১ ইঞ্চির ইন্টারঅ্যাকটিভ পর্দা, ৭০০০ এমএএইচ ব্যাটারি এবং ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেটের বড় ডিসপ্লে—এই তিন বৈশিষ্ট্য নিয়ে বাংলাদেশের বাজারে এসেছে আইটেল এ৩০০+ স্মার্টফোন। প্রযুক্তি সবার নাগালে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা ব্র্যান্ড আইটেল দাবি করছে, তাদের এই ফোনটি নিজস্ব মূল্যশ্রেণিতে প্রথম ইন্টারঅ্যাকটিভ দ্বৈত-পর্দার স্মার্টফোন। এতে রয়েছে আইপি৬৫ মানের পানি ও ধুলা প্রতিরোধ, সামরিক মানের স্থায়িত্ব এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য বেশ কিছু স্মার্ট সুবিধা।

বাংলাদেশে ফোনটির ৬ জিবি র‍্যাম ও ১২৮ জিবি স্টোরেজ সংস্করণের দাম ১৮ হাজার ৯৯০ টাকা। ৪ জিবি র‍্যাম ও ৬৪ জিবি স্টোরেজ সংস্করণটি ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে বাজারে আসার কথা। তবে এ সংস্করণের দাম এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

পেছনের পর্দায় নতুন অভিজ্ঞতা

আইটেল এ৩০০+-এর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ২.০১ ইঞ্চির ইন্টারঅ্যাকটিভ রিয়ার স্ক্রিন, যাকে প্রতিষ্ঠানটি এআই ডুয়াল ভিশন ডিসপ্লে নামেও উল্লেখ করেছে। এর মাধ্যমে মূল পর্দা চালু না করেও ফোনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা যাবে।

পেছনের পর্দায় লাইভ প্রিভিউ দেখে মূল ক্যামেরা দিয়ে সেলফি তোলা, ইনকামিং বার্তা ও সতর্কবার্তা দেখা এবং গান চালানো, থামানো বা পরবর্তী গানে যাওয়ার সুবিধা রয়েছে। ব্যবহারকারীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী ঘড়ির নকশা, ছবি ও অন্যান্য ডিজাইন দিয়ে পর্দাটি সাজাতে পারবেন।

ফোনটির সামনে রয়েছে ৬.৭৮ ইঞ্চির পাঞ্চ-হোল ডিসপ্লে, যার রিফ্রেশ রেট ১২০ হার্টজ। ফলে ভিডিও দেখা, গেম খেলা, ওয়েব ব্রাউজিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে তুলনামূলক মসৃণ অভিজ্ঞতা দেওয়ার কথা জানিয়েছে আইটেল।

পাঁচ বছরের বেশি ব্যবহারের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটারি

দীর্ঘ সময় ব্যবহার উপযোগী করে ফোনটিতে ৭০০০ এমএএইচের ব্যাটারি দেওয়া হয়েছে। আইটেলের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাটারিটি ১২০০টি চার্জ চক্র সমর্থনের জন্য তৈরি করা হয়েছে। পাঁচ বছরের বেশি ব্যবহারের পরও ব্যাটারির কার্যক্ষমতা ভালো রাখার লক্ষ্য নিয়ে এর নকশা করা হয়েছে।

এতে রয়েছে এআই চার্জিং প্রোটেকশন, যা চার্জ দেওয়ার ধরন বিশ্লেষণ করে ব্যাটারির ক্ষয় কমাতে সহায়তা করার কথা। পাশাপাশি স্মার্ট পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট বিভিন্ন অ্যাপ ও হার্ডওয়্যারের বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে চার্জের স্থায়িত্ব বাড়াতে কাজ করে।

জোরালো শব্দ ও সুরক্ষাব্যবস্থা

বিনোদন ও যোগাযোগের জন্য এ৩০০+-এ রয়েছে ৩০০ শতাংশ আল্ট্রা ভলিউম স্পিকার এবং স্মার্ট নয়েজ কন্ট্রোল ৩.০। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, স্পিকারগুলো গান, ভিডিও ও অন্যান্য বিনোদনমূলক কনটেন্টে জোরালো শব্দ দেবে। একই সঙ্গে স্মার্ট নয়েজ কন্ট্রোল প্রযুক্তি ফোনালাপের সময় আশপাশের অপ্রয়োজনীয় শব্দ কমাতে সহায়তা করবে।

দৈনন্দিন ব্যবহারে সুরক্ষার জন্য ফোনটিতে আইপি৬৫ মানের পানি ও ধুলা প্রতিরোধ এবং সামরিক মানের স্থায়িত্বের ব্যবস্থা রয়েছে। এসব বৈশিষ্ট্য ছিটকে পড়া পানি, ধুলা ও অনিচ্ছাকৃতভাবে পড়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে ফোনটির সুরক্ষা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে যুক্ত করা হয়েছে।

তবে এসব সুরক্ষাবৈশিষ্ট্য ফোনটিকে সব ধরনের পানি, ধুলা বা আঘাতের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ অক্ষত থাকার নিশ্চয়তা দেয় না।

দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত আল্ট্রালিংক কল

আইটেল এ৩০০+-এ রয়েছে ১.৫ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে যোগাযোগের জন্য আল্ট্রালিংক ফ্রি কল সুবিধা। সমর্থিত পরিস্থিতিতে প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের সংযোগ সীমিত থাকলেও এই প্রযুক্তি যোগাযোগের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

তবে ফিচারটির কার্যকারিতা ব্যবহারের পরিবেশ ও সমর্থিত পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল।

মিডিয়াটেক প্রসেসরে দৈনন্দিন কার্যক্রম

ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে মিডিয়াটেক হেলিও জি৮১ আলটিমেট প্রসেসর। আইটেলের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রসেসরটি দৈনন্দিন কাজকর্মে মসৃণ ও নির্ভরযোগ্য কার্যক্ষমতা দেওয়ার জন্য তৈরি। দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি, ব্যবহারিক হার্ডওয়্যার এবং স্মার্ট সুবিধার সমন্বয়ে ফোনটি প্রচলিত স্মার্টফোন ব্যবহারের বাইরে নতুন অভিজ্ঞতা দিতে চায়।

আইটেলের দাবি, এ৩০০+ তরুণ ব্যবহারকারীদের পরিবর্তিত চাহিদা বিবেচনায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। শুধু একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর না করে ফোনটিতে দ্বৈত পর্দা, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি, সুরক্ষা, উন্নত শব্দ এবং বিকল্প যোগাযোগসুবিধা একসঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

ফোনটি বাজারে আনার মধ্য দিয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য তুলে ধরেছে আইটেল। বিশেষ করে নিজস্ব মূল্যশ্রেণিতে নতুন ধরনের দ্বৈত-পর্দার অভিজ্ঞতা দিয়ে ব্যবহারকারীদের ফোনের সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যক্তিগতকরণ ও দৈনন্দিন ব্যবহারের সুযোগ বাড়াতে চায় ব্র্যান্ডটি।

//ডিবিটেক/বিকেপিএসি/এসএমপি/ডিপিও//