ছোট ও মাঝারি ব্যবসাই সাইবার হামলার প্রধান লক্ষ্য: ক্যাসপারস্কি

ক্যাসপারস্কির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে ডার্ক ওয়েবে প্রকাশিত অবৈধ নেটওয়ার্ক প্রবেশাধিকার বিক্রির ৬০ শতাংশ বিজ্ঞাপন ছোট ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

ছোট ও মাঝারি ব্যবসাই সাইবার হামলার প্রধান লক্ষ্য: ক্যাসপারস্কি
১২ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৪৯  

ছোট ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান (এসএমবি) এখনো সাইবার অপরাধীদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছে বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি। আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ডার্ক ওয়েবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে অবৈধ প্রবেশাধিকার বিক্রির বিজ্ঞাপনের ৬০ শতাংশই ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সময় প্রকাশিত পোস্টগুলোর ৪০ শতাংশ ছিল ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এবং ২০ শতাংশ ছিল মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে। এসব তথ্য থেকে বোঝা যায়, সীমিত সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে এসএমবিগুলো হামলাকারীদের অন্যতম লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠছে।

ক্যাসপারস্কির তথ্যমতে, সাইবার অপরাধীরা হ্যাক হওয়া প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে প্রাথমিক প্রবেশাধিকার (ইনিশিয়াল অ্যাকসেস) সংগ্রহ করে তা অন্য অপরাধীদের কাছে বিক্রি করে। পরে সেই প্রবেশাধিকার ব্যবহার করে র‍্যানসমওয়্যার হামলা, সংবেদনশীল তথ্য চুরি এবং অন্যান্য সাইবার অপরাধ সংঘটিত হয়।

ক্যাসপারস্কির ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট ইন্টেলিজেন্স বিশ্লেষক একাতেরিনা বেলোবোরোদোভা বলেন, মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আয় তুলনামূলক বেশি হলেও অনেক ক্ষেত্রে তাদের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা বড় প্রতিষ্ঠানের মতো শক্তিশালী নয়। ফলে ছোট ও মাঝারি উভয় ধরনের প্রতিষ্ঠানই হামলাকারীদের কাছে আকর্ষণীয় লক্ষ্য হয়ে উঠছে।

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের আকার যাই হোক না কেন, সাইবার হুমকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, কার্যকর নিরাপত্তা নীতিমালা অনুসরণ, উপযুক্ত নিরাপত্তা সমাধান ব্যবহার এবং কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি।

সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে ক্যাসপারস্কি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপত্তা সমাধান ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা দল নেই বা সীমিত, তাদের জন্য ম্যানেজড ডিটেকশন অ্যান্ড রেসপন্স (এমডিআর) সেবা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে সার্বক্ষণিক সাইবার হুমকি পর্যবেক্ষণ ও বিশেষজ্ঞ সহায়তা পাওয়া যায়।

এ ছাড়া ডার্ক ওয়েব নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে ফাঁস হওয়া লগইন তথ্য শনাক্ত করা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক টুল ও অন্যান্য অনলাইন সেবার ব্যবহারে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, করপোরেট অ্যাকাউন্টে কঠোর প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের নিয়মিত ব্যাকআপ রাখার পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
//ডিবিটেক/আরআই/এমআই//