ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়তে সার্ভিস চার্জ বড় বাধা, দাবি বিএমপিসিএ-র
বাংলা কিউআর লেনদেনে চার্জ প্রত্যাহারের দাবি
- বাংলা কিউআর-এর ১% মার্চেন্ট চার্জ ডিজিটাল লেনদেনে বড় প্রতিবন্ধকতা।
- ভারত-সিঙ্গাপুরের মতো কিউআর ফি শূন্য বা সর্বনিম্ন করার দাবি।
- ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ৫ বছর চার্জমুক্ত রাখার আহ্বান অ্যাসোসিয়েশনের।
সরকার ঘোষিত ‘ক্যাশলেস ও স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে অন্যতম প্রধান মাধ্যম ‘বাংলা কিউআর’ (Bangla QR)। তবে এতে বিদ্যমান মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (MDR) বা সার্ভিস চার্জ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে অনেক ব্যবসায়ী কিউআর পেমেন্ট গ্রহণে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন, যা দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির সম্প্রসারণকে বাধাগ্রস্ত করছে। ১২ জুলাই, রবিবার বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন (BMPCA)-এর সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বের বহু দেশ ডিজিটাল লেনদেনকে জনপ্রিয় করতে কিউআর-ভিত্তিক পেমেন্টে অত্যন্ত কম বা শূন্য ফি নীতি অনুসরণ করছে। যেমন—ভারতের UPI-তে অধিকাংশ লেনদেনে মার্চেন্টের জন্য MDR শূন্য। একইভাবে থাইল্যান্ডের PromptPay, সিঙ্গাপুরের PayNow এবং মালয়েশিয়ার DuitNow QR-এও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ফি শূন্য বা অত্যন্ত কম। কিন্তু বাংলাদেশে বর্তমানে বাংলা কিউআর লেনদেনে প্রায় ১ শতাংশ (ভ্যাটসহ) মার্চেন্ট চার্জ কার্যকর রয়েছে। এই বাড়তি ব্যয়ের প্রভাব পণ্যের মূল্য বা সেবার খরচের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরই পড়ছে; যা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কাঁচাবাজার, হকার, পরিবহন, ফার্মেসি ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণে নিরুৎসাহী করছে।
বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন মনে করে, ক্যাশলেস অর্থনীতি কেবল প্রযুক্তি দিয়ে নয়, জনবান্ধব নীতিমালার মাধ্যমে গড়ে ওঠে। এই পরিস্থিতি উত্তরণে সংগঠনটি ৫টি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলো হলো: বাংলা কিউআর লেনদেনে বর্তমান সার্ভিস চার্জ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার অথবা সর্বোচ্চ ০.২৫ শতাংশে নামিয়ে আনা; ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য অন্তত ৫ বছর কিউআর ব্যবহারে কোনো চার্জ না রাখা; ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণকারী ব্যবসায়ীদের কর-প্রণোদনা দেওয়া; আন্তঃব্যাংক ও এমএফএস কিউআর লেনদেন আরও নিরাপদ করা এবং দেশব্যাপী জাতীয় সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা।
মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, "ক্যাশলেস অর্থনীতি কোনো বিলাসিতা নয়, এটি আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনার অপরিহার্য অবকাঠামো। ডিজিটাল লেনদেনে অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করে কখনোই জনগণকে নগদ অর্থ ছেড়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে আনা যাবে না। বিশ্বের সফল দেশগুলোর অভিজ্ঞতা বলে, যত কম ব্যয়, তত বেশি ডিজিটাল লেনদেন।" তাই ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়তে বাংলা কিউআর লেনদেনের সার্ভিস চার্জ অবিলম্বে প্রত্যাহার বা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি জোর দাবি জানান।
//ডিবিটেক/ এনকে/ এসআই//





