দক্ষ ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন করপোরেট নেতৃত্ব গড়ার অনন্য আয়োজন

সিইও ফ্যাক্টরি লিডারশিপ সামিট অনুষ্ঠিত

  • শেকৃবিতে দিনব্যাপী লিডারশিপ সামিট
  • শীর্ষ কর্মকর্তা, উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন
  • প্রযুক্তি, নেতৃত্ব ও নৈতিক মূল্যবোধে জোর 

সিইও ফ্যাক্টরি লিডারশিপ সামিট অনুষ্ঠিত
১১ জুলাই, ২০২৬ ০০:০৩  

দেশের করপোরেট খাতে সময়ের চাহিদার সাথে সংগতিপূর্ণ, দক্ষ এবং নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘সিইও ফ্যাক্টরি লিডারশিপ সামিট–২০২৬’। ১০ জুলাই, শুক্রবার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) এম. মাহবুব উজ্জামান একাডেমি ভবনের সেমিনার কক্ষে দিনব্যাপী এই জাঁকজমকপূর্ণ সামিট অনুষ্ঠিত হয়। দেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই প্ল্যাটফর্মে সমবেত হয়েছিলেন দেশের শীর্ষস্থানীয় করপোরেট কর্মকর্তা, নতুন উদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যমকর্মী, গবেষক এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত চলা এই আয়োজনটি পরিণত হয়েছিল অভিজ্ঞ ও নবীনের এক ফলপ্রসূ মেলবন্ধনে।

সিইও ফ্যাক্টরির উদ্যোগে আয়োজিত এই সামিটে সমসাময়িক করপোরেট বিশ্বের নানা চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিভিন্ন সেশনে নেতৃত্ব বিকাশ, কৌশলগত পরিকল্পনা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রায়োগিক ব্যবহার, করপোরেট যোগাযোগ, ব্র্যান্ড উন্নয়ন, আধুনিক গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনা, বিপণন কৌশল এবং সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উঠে আসে। বিশেষ করে বর্তমানের দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তিগত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার কৌশল নিয়ে বক্তারা আলোকপাত করেন।

সামিটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘কৃষি-ব্যবসা, কৌশল, প্রতিবেদন ও জনকল্যাণ’ শীর্ষক বিশেষ একটি প্রশিক্ষণ অধিবেশন। সেশনটি পরিচালনা করেন বিশিষ্ট কৃষিবিদ মো. বশিরুল ইসলাম। তিনি টেকসই কৃষি উন্নয়নে কার্যকর নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, আধুনিক কৃষি-ব্যবস্থাপনা এবং তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। একই সাথে জনকল্যাণমূলক যোগাযোগ ও মাঠপর্যায়ের সঠিক চিত্র তুলে ধরতে কৃষি প্রতিবেদনের ভূমিকার কথাও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।

দিনব্যাপী এ আয়োজনে অন্যান্য সেশনগুলো পরিচালনা করেন ডি জেড এম মিজানুর রহমান, এস. এম. আকাশ, ড. ইসলাম শফিক, মো. কাজী মহিউদ্দিন, মুনাফ মুজিব চৌধুরী, ড. শরিফুল ইসলাম দুলু এবং আবির সাওকাত। বক্তারা ইতিবাচক কর্মসংস্কৃতি ও প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষ অর্জনে ডিজিটাল প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের ওপর জোর দেন।

সামিটের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া। তিনি তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, কেবল ব্যবসায়িক সাফল্যই নয়, বরং জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নেতৃত্বই সমাজ ও দেশকে বদলে দিতে পারে। গেস্ট অভ অনার হিসেবে বক্তব্য রাখেন রয়্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অধ্যাপক ড. দিপু সিদ্দিকী। তিনি বলেন, এই কর্মশালার মাধ্যমে তরুণ শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর সিইওদের সাথে সরাসরি যোগাযোগের একটি অনন্য সুযোগ পেয়েছে, যা অ্যাকাডেমিক শিক্ষার সাথে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের দূরত্ব কমাবে।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সিইও ফ্যাক্টরির সভাপতি ডি জেড এম মিজানুর রহমান। সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “দেশের করপোরেট খাতে দূরদর্শী ও জনকল্যাণমুখী নেতৃত্ব তৈরি করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।”

আলোচনা ও প্রশিক্ষণ পর্ব শেষে সিইও ফ্যাক্টরির প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য কেক কাটা হয়। এরপর দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অধ্যাপক ডক্টর সুকোমল বড়ুয়া, এস. এম. আকাশ, ড. ইসলাম শফিক, অধ্যাপক ডক্টর দিপু সিদ্দিকী, জাহাঙ্গীর আলম, রফিকুল ইসলাম রলি, রাজু আহমেদ এবং তারেকুজ্জামান খাঁনকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। উৎসবমুখর পরিবেশে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সনদ বিতরণের মাধ্যমে সামিটের সমাপ্তি ঘটে।

//ডিবিটেক/ সিএন/ ইকে//