৩১ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬০ মেগাওয়াট রুফটপ সোলার পরিকল্পনা

বিশ্ববিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ, কমবে খরচ অর্ধেক

  • ইউজিসির বেসরকারি বিনিয়োগভিত্তিক সৌর উদ্যোগ
  • অর্ধেকের কম ট্যারিফে বিদ্যুৎ সরবরাহ লক্ষ্য
  • ২০৩০ সালে জ্বালানি সাশ্রয়ের পরিকল্পনা

বিশ্ববিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ, কমবে খরচ অর্ধেক
১০ জুলাই, ২০২৬ ১০:২২  

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কম খরচে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বেসরকারি বিনিয়োগভিত্তিক নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। প্রথম পর্যায়ে ৩১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৬০ মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক (রুফটপ) সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ইউজিসিতে ৯ জুলাই, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনসংক্রান্ত পর্যালোচনা সভায় এ তথ্য জানানো হয়।

সভায় জানানো হয়, বর্তমানে দেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের ট্যারিফ প্রায় ১৫ টাকা। তবে অপারেশনাল এক্সপেনডিচার (OPEX) মডেল অনুসরণ করলে এই ব্যয় অর্ধেকেরও কমিয়ে আনা সম্ভব।

ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ৪৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুতের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ৩১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৫২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা পাওয়া গেছে। ভবিষ্যতে অবকাঠামো সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই সক্ষমতা প্রায় ৬০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা সম্ভব হবে।

সভায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডিন অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম জানান, পরীক্ষামূলক ওপেক্স মডেলে প্রতি ইউনিট সৌরবিদ্যুতের ট্যারিফ ছিল ৭ টাকা ৫০ পয়সা। প্রকল্পের সক্ষমতা ৩ দশমিক ৫ মেগাওয়াটে উন্নীত হলে তা কমে ৭ টাকা হয়েছে।

তিনি জানান, ভারত ও পাকিস্তানে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক কম। বাংলাদেশে নীতিগত সহায়তা, শুল্ক ও কর কাঠামোয় সমন্বয় করা গেলে সৌরবিদ্যুতের ট্যারিফ আরও কমিয়ে প্রায় ৬ টাকা ৫০ পয়সায় আনা সম্ভব।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ জানান, ওপেক্স মডেলে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব থাকবে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের ওপর। এতে সরকারের বড় ধরনের প্রাথমিক বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুধু ব্যবহৃত বিদ্যুতের মূল্য পরিশোধ করবে।

তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয়ভাবে দরপত্র, তদারকি ও মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা গেলে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ ব্যয় কমার পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতাও হ্রাস পাবে।

ইউজিসি জানিয়েছে, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে এই মডেলের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বড় পরিসরে কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রস্তুতি চলছে। এ পর্যন্ত ১৪টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

ইউজিসির লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহার গড়ে ২০ শতাংশ কমানো এবং জ্বালানি দক্ষতা বাড়িয়ে মোট বিদ্যুৎ চাহিদা ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা।

//ডিবিটেক/ সংবাদ/ সম্পাদনা//